সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 অর্থনীতিঅর্থনীতি

অর্থবছরের শেষ সময়ে করছাড় পেতে এখনই করুন বিনিয়োগ

জুন মাস মানেই হিসাব-নিকাশ মেলানোর শেষ সময়। জুলাই থেকে শুরু হওয়া অর্থবছরের শেষ ঘণ্টা বাজছে। যারা করের বোঝা কিছুটা কমাতে চান, তাদের জন্য বিনিয়োগের খাতাটা খুলে বসার এটাই মোক্ষম সময়। চলতি জুন মাসের মধ্যেই বিনিয়োগ সম্পন্ন করলে বছর শেষে আয়করের বিপরীতে ভালো অঙ্কের করছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কর কেবল দিতেই হবে এমন নয়, বরং আইনসম্মত পথে করের বোঝা লাঘব করা একজন সচেতন নাগরিকের বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।

অর্থবছরের শেষ সময়ে করছাড় পেতে এখনই করুন বিনিয়োগ
ছবি -সংগৃহীত


জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু খাতে বিনিয়োগ করলে করদাতারা কর রেয়াতের সুবিধা পান। আপনার হাতে যদি অলস নগদ টাকা থাকে, তবে বিনিয়োগের জন্য নিচের খাতগুলো বেছে নিতে পারেন:

  • সঞ্চয়পত্র ও ডিপিএস: নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মধ্যবিত্তের প্রথম পছন্দ সঞ্চয়পত্র। এছাড়া ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিপিএস বা মাসিক সঞ্চয়ে বিনিয়োগ করলে কর রেয়াত পাওয়া যায়। মনে রাখবেন, ডিপিএসের ক্ষেত্রে বার্ষিক সর্বোচ্চ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত এই সুবিধা নেওয়া যায়।

  • শেয়ারবাজারঃ তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড বা ডিবেঞ্চার কিনলে করছাড়ের সুযোগ রয়েছে।

  • ভবিষ্যৎ তহবিল ও বিমা: সরকারি কর্মকর্তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে চাঁদা প্রদান এবং স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলে নিয়োগকর্তা ও কর্মীর চাঁদা করছাড়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া জীবনবিমার প্রিমিয়াম, কল্যাণ তহবিল ও গোষ্ঠীবিমার চাঁদা এবং সুপার অ্যানুয়েশন ফান্ডে বিনিয়োগ করে করের ওপর রেয়াত পাওয়া সম্ভব।

  • সিকিউরিটিজ: পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত যেকোনো সিকিউরিটিজ কেনা বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য হবে।

কর রেয়াতের হিসাব ও সীমাবদ্ধতা

বিনিয়োগ করলেই যে কত টাকা ছাড় পাবেন, তার একটি নির্দিষ্ট গাণিতিক নিয়ম রয়েছে। এনবিআরের বিধান অনুযায়ী, তিনটি বিষয়ের মধ্যে যেটি সবচেয়ে কম, সেটিই আপনার রেয়াতের পরিমাণ:

১. মোট আয়ের ৩ শতাংশ।

২. অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ।

৩. সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন—কর রেয়াতের পরিমাণ কোনোভাবেই আপনার মোট করদায়ের চেয়ে বেশি হতে পারবে না। আবার কর রেয়াত পেলেও আপনাকে ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী নির্ধারিত ন্যূনতম কর পরিশোধ করতে হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার করদাতাদের ক্ষেত্রে এই ন্যূনতম কর ৫ হাজার টাকা, অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪ হাজার টাকা এবং অন্য সব এলাকায় ৩ হাজার টাকা।

একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া যাক। ধরুন, একজন করদাতার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা এবং তিনি পুরো বছরে বিভিন্ন ফান্ডে বিনিয়োগ করেছেন ৪১ হাজার ৪০০ টাকা। নিয়ম অনুযায়ী, তার মোট আয়ের ৩ শতাংশ অর্থাৎ ১০ হাজার ৯২০ টাকা এবং বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ অর্থাৎ ৬ হাজার ২১০ টাকার মধ্যে ছোটটি হলো ৬ হাজার ২১০ টাকা। সুতরাং এটিই তার সম্ভাব্য কর রেয়াত। কিন্তু আইন বলছে, ঢাকার করদাতা হিসেবে তাকে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা কর দিতেই হবে। অর্থাৎ, রেয়াত পাওয়ার পরও করদায়ের ন্যূনতম সীমা অতিক্রম করা সম্ভব নয়।

তাই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের বার্ষিক আয় এবং করযোগ্য সীমার বিষয়টি ভালোভাবে দেখে নিন। জুন মাসের শেষ কর্মদিবস পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

 

বিষয় : সঞ্চয়পত্র ও ডিপিএস শেয়ারবাজার বিমা সিকিউরিটিজ কর রেয়াত

অর্থবছরের শেষ সময়ে করছাড় পেতে এখনই করুন বিনিয়োগ
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬


অর্থবছরের শেষ সময়ে করছাড় পেতে এখনই করুন বিনিয়োগ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬

featured Image


জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু খাতে বিনিয়োগ করলে করদাতারা কর রেয়াতের সুবিধা পান। আপনার হাতে যদি অলস নগদ টাকা থাকে, তবে বিনিয়োগের জন্য নিচের খাতগুলো বেছে নিতে পারেন:

  • সঞ্চয়পত্র ও ডিপিএস: নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মধ্যবিত্তের প্রথম পছন্দ সঞ্চয়পত্র। এছাড়া ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিপিএস বা মাসিক সঞ্চয়ে বিনিয়োগ করলে কর রেয়াত পাওয়া যায়। মনে রাখবেন, ডিপিএসের ক্ষেত্রে বার্ষিক সর্বোচ্চ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত এই সুবিধা নেওয়া যায়।

  • শেয়ারবাজারঃ তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড বা ডিবেঞ্চার কিনলে করছাড়ের সুযোগ রয়েছে।

  • ভবিষ্যৎ তহবিল ও বিমা: সরকারি কর্মকর্তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে চাঁদা প্রদান এবং স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলে নিয়োগকর্তা ও কর্মীর চাঁদা করছাড়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া জীবনবিমার প্রিমিয়াম, কল্যাণ তহবিল ও গোষ্ঠীবিমার চাঁদা এবং সুপার অ্যানুয়েশন ফান্ডে বিনিয়োগ করে করের ওপর রেয়াত পাওয়া সম্ভব।

  • সিকিউরিটিজ: পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত যেকোনো সিকিউরিটিজ কেনা বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য হবে।

কর রেয়াতের হিসাব ও সীমাবদ্ধতা

বিনিয়োগ করলেই যে কত টাকা ছাড় পাবেন, তার একটি নির্দিষ্ট গাণিতিক নিয়ম রয়েছে। এনবিআরের বিধান অনুযায়ী, তিনটি বিষয়ের মধ্যে যেটি সবচেয়ে কম, সেটিই আপনার রেয়াতের পরিমাণ:

১. মোট আয়ের ৩ শতাংশ।

২. অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ।

৩. সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন—কর রেয়াতের পরিমাণ কোনোভাবেই আপনার মোট করদায়ের চেয়ে বেশি হতে পারবে না। আবার কর রেয়াত পেলেও আপনাকে ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী নির্ধারিত ন্যূনতম কর পরিশোধ করতে হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার করদাতাদের ক্ষেত্রে এই ন্যূনতম কর ৫ হাজার টাকা, অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪ হাজার টাকা এবং অন্য সব এলাকায় ৩ হাজার টাকা।

একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া যাক। ধরুন, একজন করদাতার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা এবং তিনি পুরো বছরে বিভিন্ন ফান্ডে বিনিয়োগ করেছেন ৪১ হাজার ৪০০ টাকা। নিয়ম অনুযায়ী, তার মোট আয়ের ৩ শতাংশ অর্থাৎ ১০ হাজার ৯২০ টাকা এবং বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ অর্থাৎ ৬ হাজার ২১০ টাকার মধ্যে ছোটটি হলো ৬ হাজার ২১০ টাকা। সুতরাং এটিই তার সম্ভাব্য কর রেয়াত। কিন্তু আইন বলছে, ঢাকার করদাতা হিসেবে তাকে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা কর দিতেই হবে। অর্থাৎ, রেয়াত পাওয়ার পরও করদায়ের ন্যূনতম সীমা অতিক্রম করা সম্ভব নয়।

তাই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের বার্ষিক আয় এবং করযোগ্য সীমার বিষয়টি ভালোভাবে দেখে নিন। জুন মাসের শেষ কর্মদিবস পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

 


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত