জাতীয়
আগামী ১৬ আগস্ট বর্তমান সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। ছয় মাসের কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি পর্যালোচনার মধ্যেই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের আলোচনা সামনে এসেছে। একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের কাজের চাপ কমানো এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে সীমিত পরিসরে নতুন কয়েকজন সংসদ সদস্যকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
বিএনপি ও মন্ত্রিসভা-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি দপ্তর পুনর্বণ্টনের বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে মন্ত্রিসভায় কারা আসবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর।
মন্ত্রিসভার একজন প্রভাবশালী সদস্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন মনে করলেই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তাঁর ভাষ্য, ১৬ আগস্ট সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচি শেষ হচ্ছে। এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়গুলো নিজেদের কর্মপরিকল্পনা ও অগ্রগতির প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এসব প্রতিবেদন মূল্যায়নের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েকজন মন্ত্রীকে একাধিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অর্থ ও পরিকল্পনা, মহিলা ও শিশুবিষয়ক ও সমাজকল্যাণ, শিল্প-বাণিজ্য-বস্ত্র ও পাট, কৃষি-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং সড়ক-রেল-নৌপরিবহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত রয়েছে এই তালিকায়।
একসঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী চাপ বেড়েছে। সেই চাপ কমিয়ে কাজের গতি বাড়াতেই নতুন করে দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। বর্তমান মন্ত্রিসভার কাউকে বাদ দেওয়ার চেয়ে সীমিত পরিসরে সম্প্রসারণের সম্ভাবনাই বেশি।
মন্ত্রিসভায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের আলোচনায় থাকা কয়েকজন নেতা শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন না পাওয়ায় তাঁদের কেউ কেউ মন্ত্রিসভায় আসতে পারেন বলে আলোচনা চলছে।
এই তালিকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান ও সেলিমা রহমানের নাম রয়েছে। নজরুল ইসলাম খান বর্তমানে মন্ত্রী মর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জোট নেতাদের মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে আন্দালিব রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম ও মাহমুদুর রহমান মান্নার নামও আলোচনায় রয়েছে। বিএনপির নেতাদের মধ্যে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, ফজলুল হক মিলন, শহিদুল ইসলাম বাবুল ও শামীম কায়সার লিংকনের নাম নিয়েও আলোচনা আছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছেড়ে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন নেওয়ায় ওই মন্ত্রণালয়ে নতুন করে দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজন হবে। এ ক্ষেত্রে সালাহউদ্দিন আহমদকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির হাতে দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
তবে মন্ত্রিসভার ওই প্রভাবশালী সদস্য বলেন, ‘আপাতত মন্ত্রিসভায় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। কারণ ১৮০ দিনের কর্মসূচি আগামী ১৬ আগস্ট শেষ হবে। এরই মধ্যে সব মন্ত্রণালয় তাদের কর্মপরিকল্পনা ও অগ্রগতির প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এসব প্রতিবেদন মূল্যায়নের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের কাজের চাপ কমাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে নতুন করে দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টি আলোচনা করা হচ্ছে।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। এর বাইরে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরাও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
বিষয় : মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ
2.png)
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬
আগামী ১৬ আগস্ট বর্তমান সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। ছয় মাসের কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি পর্যালোচনার মধ্যেই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের আলোচনা সামনে এসেছে। একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের কাজের চাপ কমানো এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে সীমিত পরিসরে নতুন কয়েকজন সংসদ সদস্যকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
বিএনপি ও মন্ত্রিসভা-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি দপ্তর পুনর্বণ্টনের বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে মন্ত্রিসভায় কারা আসবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর।
মন্ত্রিসভার একজন প্রভাবশালী সদস্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন মনে করলেই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তাঁর ভাষ্য, ১৬ আগস্ট সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচি শেষ হচ্ছে। এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়গুলো নিজেদের কর্মপরিকল্পনা ও অগ্রগতির প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এসব প্রতিবেদন মূল্যায়নের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েকজন মন্ত্রীকে একাধিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অর্থ ও পরিকল্পনা, মহিলা ও শিশুবিষয়ক ও সমাজকল্যাণ, শিল্প-বাণিজ্য-বস্ত্র ও পাট, কৃষি-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং সড়ক-রেল-নৌপরিবহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত রয়েছে এই তালিকায়।
একসঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী চাপ বেড়েছে। সেই চাপ কমিয়ে কাজের গতি বাড়াতেই নতুন করে দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। বর্তমান মন্ত্রিসভার কাউকে বাদ দেওয়ার চেয়ে সীমিত পরিসরে সম্প্রসারণের সম্ভাবনাই বেশি।
মন্ত্রিসভায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের আলোচনায় থাকা কয়েকজন নেতা শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন না পাওয়ায় তাঁদের কেউ কেউ মন্ত্রিসভায় আসতে পারেন বলে আলোচনা চলছে।
এই তালিকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান ও সেলিমা রহমানের নাম রয়েছে। নজরুল ইসলাম খান বর্তমানে মন্ত্রী মর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জোট নেতাদের মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে আন্দালিব রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম ও মাহমুদুর রহমান মান্নার নামও আলোচনায় রয়েছে। বিএনপির নেতাদের মধ্যে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, ফজলুল হক মিলন, শহিদুল ইসলাম বাবুল ও শামীম কায়সার লিংকনের নাম নিয়েও আলোচনা আছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছেড়ে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন নেওয়ায় ওই মন্ত্রণালয়ে নতুন করে দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজন হবে। এ ক্ষেত্রে সালাহউদ্দিন আহমদকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির হাতে দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
তবে মন্ত্রিসভার ওই প্রভাবশালী সদস্য বলেন, ‘আপাতত মন্ত্রিসভায় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। কারণ ১৮০ দিনের কর্মসূচি আগামী ১৬ আগস্ট শেষ হবে। এরই মধ্যে সব মন্ত্রণালয় তাদের কর্মপরিকল্পনা ও অগ্রগতির প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এসব প্রতিবেদন মূল্যায়নের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের কাজের চাপ কমাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে নতুন করে দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টি আলোচনা করা হচ্ছে।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। এর বাইরে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরাও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
2.png)