বিনোদন
একসময় বলিউডের বড় কোনো নায়ককে ঘিরে সিনেমার সাফল্যের হিসাব করা হতো। সেই সময়ে একজন নারী তারকা নিজের নামেই দর্শক টানতেন। তাঁর সিনেমা দেখতে হল ভরে যেতো, তাঁর নাচের দৃশ্য নিয়ে আলোচনা হতো, আবার অভিনয়ের গভীরতাও মুগ্ধ করত দর্শককে। তিনি শ্রীদেবি।
১৩ আগস্ট ১৯৬৩ সালে ভারতের তামিলনাড়ুর শিবকাশীতে জন্ম তাঁর। জন্মের পরে নাম রাখা হয়েছিল শ্রী আম্মা ইয়াঙ্গার আয়্যাপন। অভিনয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয় খুব ছোটবেলাতেই। মাত্র চার বছর বয়সে তামিল সিনেমা ‘কান্ধান করুণাই’-তে শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান তিনি। এরপর তামিল, তেলুগু, মালয়ালম ও কন্নড় ভাষার বিভিন্ন ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন।
শিশুশিল্পী থেকে নায়িকা হওয়ার পথটাও খুব দীর্ঘ ছিল না। ১৯৭৬ সালে ‘মুন্দ্রু মুদিচু’ ছবিতে কিশোরী বয়সে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন শ্রীদেবি। এরপর ‘১৬ ভায়াথিনিলে’, ‘সিগাপ্পু রোজাক্কাল’, ‘মুন্দ্রাম পিরাই’-এর মতো ছবিতে নিজের অভিনয়ের শক্তি দেখান। দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় তখনই তিনি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছেন একজন জনপ্রিয় নায়িকা হিসেবে।
বলিউডের যাত্রা
হিন্দি সিনেমায় শ্রীদেবির পথচলা শুরু হলেও বড় সাফল্য আসে আশির দশকে। ‘হিম্মতওয়ালা’ তাঁকে হিন্দি সিনেমার পরিচিত মুখ করে তোলে। এরপর একের পর এক সফল ছবি তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেয়। ‘মাওয়ালি’, ‘তোহফা’, ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’, ‘নাগিনা’, ‘চালবাজ’, ‘চাঁদনি’, ‘লামহে’—প্রতিটি ছবিতে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরেছেন তিনি।
‘মিস্টার ইন্ডিয়া’তে তাঁর হাস্যরসাত্মক অভিনয় যেমন দর্শককে আনন্দ দিয়েছে, তেমনি ‘চাঁদনি’ তাঁকে রোমান্টিক নায়িকা হিসেবে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। ‘চালবাজ’-এ দ্বৈত চরিত্রে তাঁর অভিনয় এখনও হিন্দি সিনেমার আলোচিত পারফরম্যান্সগুলোর একটি।
শুধু গ্ল্যামারনির্ভর নায়িকা হয়ে থাকেননি শ্রীদেবি। ‘সদমা’, ‘লামহে’, ‘গুমরাহ’, ‘লাডলা’সহ নানা ছবিতে চরিত্রের ভেতরের আবেগ ও দ্বন্দ্বও তুলে ধরেছেন তিনি। পর্দায় কখনো প্রাণবন্ত, কখনো রোমান্টিক, আবার কখনো তীব্র আবেগের চরিত্রে তাঁর স্বাচ্ছন্দ্য তাঁকে সমসাময়িক অনেক অভিনেতার চেয়ে আলাদা করে তুলেছিল।
নায়কদের ভিড়ে নিজের জায়গা
শ্রীদেবির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর একটি ছিল তাঁর নিজের তারকা-ক্ষমতা। আশির দশকে তিনি ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও পারিশ্রমিক পাওয়া তারকাদের একজন হয়ে ওঠেন। অনেক সিনেমায় পুরুষ নায়ক থাকলেও দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতেন শ্রীদেবি। এ কারণেই তাঁকে ভারতীয় সিনেমার ‘প্রথম নারী সুপারস্টার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তাঁর অভিনয়ের পাশাপাশি নাচও ছিল দর্শকের বিশেষ আকর্ষণ। ‘হাওয়া হাওয়াই’ থেকে ‘নেয়নো মে সপনা’—গান ও নাচের দৃশ্যে তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি আশির দশকের বলিউড সংস্কৃতির অন্যতম পরিচিত ছবি হয়ে আছে।
ব্যক্তিজীবন
১৯৯৬ সালে চলচ্চিত্র প্রযোজক বনি কাপুরকে বিয়ে করেন শ্রীদেবি। তাঁদের দুই মেয়ে—জাহ্নবী কাপুর ও খুশি কাপুর। বিয়ের পর অভিনয় থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যান তিনি এবং পরিবারকে সময় দেন।
তবে পর্দা থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকলেও দর্শকের আগ্রহ কমেনি। প্রায় ১৫ বছর পর ২০১২ সালে ‘ইংলিশ ভিংলিশ’ দিয়ে বড় পর্দায় ফিরলেন শ্রীদেবি। এক গৃহবধূর আত্মসম্মান, নিজের পরিচয় খুঁজে পাওয়া এবং নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার গল্পে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা পায়।
এরপর ২০১৭ সালে ‘মম’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। এটি ছিল তাঁর জীবদ্দশায় মুক্তি পাওয়া শেষ পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র। ছবিতে মেয়েকে রক্ষা করতে এক মায়ের লড়াইয়ের গল্প তুলে ধরেন শ্রীদেবি।
পুরস্কার ও স্বীকৃতির ঝুলিও ছিল সমৃদ্ধ
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন শ্রীদেবি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, একাধিক ফিল্মফেয়ার পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মান রয়েছে তাঁর অর্জনের তালিকায়। ২০১৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেশের অন্যতম বেসামরিক সম্মান পদ্মশ্রী প্রদান করে।
তবে পুরস্কারের সংখ্যার চেয়েও বড় হয়ে আছে তাঁর তৈরি করা চরিত্রগুলো। ‘চাঁদনি’র প্রাণবন্ত তরুণী, ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’র হাস্যরসাত্মক সাংবাদিক, ‘চালবাজ’-এর দুই বোন, 'মম' এর নিজের মেয়েকে বাঁচাতে এক মায়ের যুদ্ধ কিংবা ‘ইংলিশ ভিংলিশ’-এর সাধারণ গৃহবধূ—প্রতিটি চরিত্রেই নিজের আলাদা ছাপ রেখে গেছেন তিনি।
হঠাৎ থেমে গেল সবকিছু
২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ খবর আসে শ্রীদেবির মৃত্যুর। দুবাইয়ে একটি হোটেলে অবস্থানের সময় দুর্ঘটনাজনিতভাবে বাথটবে ডুবে তাঁর মৃত্যু হয়। তখন তাঁর বয়স মাত্র ৫৪ বছর।
খবরটি প্রকাশের পর ভারতীয় সিনেমায় নেমে আসে শোকের ছায়া। যে অভিনেত্রী কয়েক দশক ধরে দর্শককে হাসিয়েছেন, কাঁদিয়েছেন, কখনো নাচিয়েছেন, কখনো নিজের অভিনয়ে স্তব্ধ করে দিয়েছেন—তাঁর বিদায় মেনে নিতে পারেননি ভক্তরা।
শ্রীদেবি নেই। কিন্তু সিনেমার পর্দায় তাঁর উপস্থিতি এখনও জীবন্ত। নতুন প্রজন্মের দর্শক তাঁর পুরোনো সিনেমা দেখছে, তাঁর অভিনয়ের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। অভিনয়ের জগতে অনেক তারকা এসেছেন, জনপ্রিয় হয়েছেন, আবার হারিয়েও গেছেন। শ্রীদেবির নামটি সেখানে আলাদা করে উচ্চারিত হয়। কারণ কয়েক দশকের ক্যারিয়ারে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, একজন নারী অভিনেত্রীও পুরো একটি সিনেমার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারেন।
১৩ আগস্ট, তাঁর জন্মদিনে তাই শ্রীদেবিকে মনে করার সবচেয়ে সুন্দর উপায় হয়তো তাঁর সিনেমাগুলো আবার দেখা। পর্দায় ফিরে তাকালেই বোঝা যায়—কেন এত বছর পরও ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে তাঁর নামটি এত উজ্জ্বল।
বিষয় : শ্রীদেবি মিস্টার ইন্ডিয়া ইংলিশ ভিংলিশ
2.png)
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬
একসময় বলিউডের বড় কোনো নায়ককে ঘিরে সিনেমার সাফল্যের হিসাব করা হতো। সেই সময়ে একজন নারী তারকা নিজের নামেই দর্শক টানতেন। তাঁর সিনেমা দেখতে হল ভরে যেতো, তাঁর নাচের দৃশ্য নিয়ে আলোচনা হতো, আবার অভিনয়ের গভীরতাও মুগ্ধ করত দর্শককে। তিনি শ্রীদেবি।
১৩ আগস্ট ১৯৬৩ সালে ভারতের তামিলনাড়ুর শিবকাশীতে জন্ম তাঁর। জন্মের পরে নাম রাখা হয়েছিল শ্রী আম্মা ইয়াঙ্গার আয়্যাপন। অভিনয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয় খুব ছোটবেলাতেই। মাত্র চার বছর বয়সে তামিল সিনেমা ‘কান্ধান করুণাই’-তে শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান তিনি। এরপর তামিল, তেলুগু, মালয়ালম ও কন্নড় ভাষার বিভিন্ন ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন।
শিশুশিল্পী থেকে নায়িকা হওয়ার পথটাও খুব দীর্ঘ ছিল না। ১৯৭৬ সালে ‘মুন্দ্রু মুদিচু’ ছবিতে কিশোরী বয়সে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন শ্রীদেবি। এরপর ‘১৬ ভায়াথিনিলে’, ‘সিগাপ্পু রোজাক্কাল’, ‘মুন্দ্রাম পিরাই’-এর মতো ছবিতে নিজের অভিনয়ের শক্তি দেখান। দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় তখনই তিনি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছেন একজন জনপ্রিয় নায়িকা হিসেবে।
বলিউডের যাত্রা
হিন্দি সিনেমায় শ্রীদেবির পথচলা শুরু হলেও বড় সাফল্য আসে আশির দশকে। ‘হিম্মতওয়ালা’ তাঁকে হিন্দি সিনেমার পরিচিত মুখ করে তোলে। এরপর একের পর এক সফল ছবি তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেয়। ‘মাওয়ালি’, ‘তোহফা’, ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’, ‘নাগিনা’, ‘চালবাজ’, ‘চাঁদনি’, ‘লামহে’—প্রতিটি ছবিতে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরেছেন তিনি।
‘মিস্টার ইন্ডিয়া’তে তাঁর হাস্যরসাত্মক অভিনয় যেমন দর্শককে আনন্দ দিয়েছে, তেমনি ‘চাঁদনি’ তাঁকে রোমান্টিক নায়িকা হিসেবে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। ‘চালবাজ’-এ দ্বৈত চরিত্রে তাঁর অভিনয় এখনও হিন্দি সিনেমার আলোচিত পারফরম্যান্সগুলোর একটি।
শুধু গ্ল্যামারনির্ভর নায়িকা হয়ে থাকেননি শ্রীদেবি। ‘সদমা’, ‘লামহে’, ‘গুমরাহ’, ‘লাডলা’সহ নানা ছবিতে চরিত্রের ভেতরের আবেগ ও দ্বন্দ্বও তুলে ধরেছেন তিনি। পর্দায় কখনো প্রাণবন্ত, কখনো রোমান্টিক, আবার কখনো তীব্র আবেগের চরিত্রে তাঁর স্বাচ্ছন্দ্য তাঁকে সমসাময়িক অনেক অভিনেতার চেয়ে আলাদা করে তুলেছিল।
নায়কদের ভিড়ে নিজের জায়গা
শ্রীদেবির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর একটি ছিল তাঁর নিজের তারকা-ক্ষমতা। আশির দশকে তিনি ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও পারিশ্রমিক পাওয়া তারকাদের একজন হয়ে ওঠেন। অনেক সিনেমায় পুরুষ নায়ক থাকলেও দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতেন শ্রীদেবি। এ কারণেই তাঁকে ভারতীয় সিনেমার ‘প্রথম নারী সুপারস্টার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তাঁর অভিনয়ের পাশাপাশি নাচও ছিল দর্শকের বিশেষ আকর্ষণ। ‘হাওয়া হাওয়াই’ থেকে ‘নেয়নো মে সপনা’—গান ও নাচের দৃশ্যে তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি আশির দশকের বলিউড সংস্কৃতির অন্যতম পরিচিত ছবি হয়ে আছে।
ব্যক্তিজীবন
১৯৯৬ সালে চলচ্চিত্র প্রযোজক বনি কাপুরকে বিয়ে করেন শ্রীদেবি। তাঁদের দুই মেয়ে—জাহ্নবী কাপুর ও খুশি কাপুর। বিয়ের পর অভিনয় থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যান তিনি এবং পরিবারকে সময় দেন।
তবে পর্দা থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকলেও দর্শকের আগ্রহ কমেনি। প্রায় ১৫ বছর পর ২০১২ সালে ‘ইংলিশ ভিংলিশ’ দিয়ে বড় পর্দায় ফিরলেন শ্রীদেবি। এক গৃহবধূর আত্মসম্মান, নিজের পরিচয় খুঁজে পাওয়া এবং নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার গল্পে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা পায়।
এরপর ২০১৭ সালে ‘মম’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। এটি ছিল তাঁর জীবদ্দশায় মুক্তি পাওয়া শেষ পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র। ছবিতে মেয়েকে রক্ষা করতে এক মায়ের লড়াইয়ের গল্প তুলে ধরেন শ্রীদেবি।
পুরস্কার ও স্বীকৃতির ঝুলিও ছিল সমৃদ্ধ
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন শ্রীদেবি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, একাধিক ফিল্মফেয়ার পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মান রয়েছে তাঁর অর্জনের তালিকায়। ২০১৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেশের অন্যতম বেসামরিক সম্মান পদ্মশ্রী প্রদান করে।
তবে পুরস্কারের সংখ্যার চেয়েও বড় হয়ে আছে তাঁর তৈরি করা চরিত্রগুলো। ‘চাঁদনি’র প্রাণবন্ত তরুণী, ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’র হাস্যরসাত্মক সাংবাদিক, ‘চালবাজ’-এর দুই বোন, 'মম' এর নিজের মেয়েকে বাঁচাতে এক মায়ের যুদ্ধ কিংবা ‘ইংলিশ ভিংলিশ’-এর সাধারণ গৃহবধূ—প্রতিটি চরিত্রেই নিজের আলাদা ছাপ রেখে গেছেন তিনি।
হঠাৎ থেমে গেল সবকিছু
২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ খবর আসে শ্রীদেবির মৃত্যুর। দুবাইয়ে একটি হোটেলে অবস্থানের সময় দুর্ঘটনাজনিতভাবে বাথটবে ডুবে তাঁর মৃত্যু হয়। তখন তাঁর বয়স মাত্র ৫৪ বছর।
খবরটি প্রকাশের পর ভারতীয় সিনেমায় নেমে আসে শোকের ছায়া। যে অভিনেত্রী কয়েক দশক ধরে দর্শককে হাসিয়েছেন, কাঁদিয়েছেন, কখনো নাচিয়েছেন, কখনো নিজের অভিনয়ে স্তব্ধ করে দিয়েছেন—তাঁর বিদায় মেনে নিতে পারেননি ভক্তরা।
শ্রীদেবি নেই। কিন্তু সিনেমার পর্দায় তাঁর উপস্থিতি এখনও জীবন্ত। নতুন প্রজন্মের দর্শক তাঁর পুরোনো সিনেমা দেখছে, তাঁর অভিনয়ের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। অভিনয়ের জগতে অনেক তারকা এসেছেন, জনপ্রিয় হয়েছেন, আবার হারিয়েও গেছেন। শ্রীদেবির নামটি সেখানে আলাদা করে উচ্চারিত হয়। কারণ কয়েক দশকের ক্যারিয়ারে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, একজন নারী অভিনেত্রীও পুরো একটি সিনেমার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারেন।
১৩ আগস্ট, তাঁর জন্মদিনে তাই শ্রীদেবিকে মনে করার সবচেয়ে সুন্দর উপায় হয়তো তাঁর সিনেমাগুলো আবার দেখা। পর্দায় ফিরে তাকালেই বোঝা যায়—কেন এত বছর পরও ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে তাঁর নামটি এত উজ্জ্বল।
2.png)