কৃষকের জানালাকৃষকের জানালা

ব্যাম্পার ফলনেও দুশ্চিন্তায় বোয়ালমারীর পাট চাষীরা

উৎপাদন খরচ বেড়েছে শ্রমিক, সার-কীটনাশকের দামে; পানি সংকটে পাট পচাতেও ভোগান্তি কৃষকের

মো. ইমরান মোল্যা
মো. ইমরান মোল্যা
ব্যাম্পার ফলনেও দুশ্চিন্তায় বোয়ালমারীর পাট চাষীরা
ছবি: পাট জাগে ব্যস্ত কৃষকেরা

মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ, পাটগাছে ভরা কৃষকের স্বপ্ন। এবারের মৌসুমে ফলনও হয়েছে আশানুরূপ। কিন্তু সেই ভালো ফলনই এখন পুরোপুরি স্বস্তি এনে দিতে পারছে না বোয়ালমারীর পাটচাষিদের। শ্রমিকের বাড়তি মজুরি, সার ও কীটনাশকের মূল্যবৃদ্ধিতে বেড়েছে উৎপাদন খরচ। তার ওপর বাজারে পাটের দাম অস্থিতিশীল হলে ভালো ফলনও কৃষকের ঘরে আনন্দের বদলে লোকসানের হিসাব নিয়ে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৬ হাজার ১১২ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ২ দশমিক ১৫ টন পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। গতবারের তুলনায় এবার ফলনও ভালো হয়েছে। মাঠে পোকামাকড়ের উপদ্রব কম থাকায় পাটের গাছ হয়েছে বেশ সতেজ ও সবল।

তবে ফলন ভালো হলেও পাট কাটা, বহন ও জাগ দেওয়ার কাজে শ্রমিকের বাড়তি মজুরি কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। পাশাপাশি সার, কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে উৎপাদন ব্যয়। অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত পানি না থাকায় পাট পচাতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে কৃষকদের।

কৃষকদের আশঙ্কা, উৎপাদনের শুরুতেই খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে পাটের দাম কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না থাকলে তাদের লাভ তো দূরের কথা, মূলধন ফেরত পাওয়াও কঠিন হবে। তাই ভালো ফলনের পাশাপাশি উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাকেই এখন সবচেয়ে বড় দাবি হিসেবে দেখছেন তারা।

শেখর ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের কৃষক মো. আতিয়ার রহমান বলেন, এবারের পাটের ফলন ভালো হয়েছে। তবে পানি সংকটের কারণে পাট পচাতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। আবার বাতাসে পাটগাছ পড়ে যাওয়ায় কাটতেও বাড়তি কষ্ট হচ্ছে।

দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক রুবেল শেখ বলেন, এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকের অতিরিক্ত মজুরির কারণে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। বাজারে পাটের ন্যায্যমূল্য না পেলে ভালো ফলনও আমাদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান বলেন, এ বছর উপজেলায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে এবং পোকামাকড়ের তেমন উপদ্রব হয়নি। তবে বিপণন ও বাজারদরের বিষয়টি কৃষি বিভাগের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নেই। কৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে কথা বলা হবে।

বিষয় : পাটের বাম্পার ফলন

কাল মহাকাল

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬


ব্যাম্পার ফলনেও দুশ্চিন্তায় বোয়ালমারীর পাট চাষীরা

প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ, পাটগাছে ভরা কৃষকের স্বপ্ন। এবারের মৌসুমে ফলনও হয়েছে আশানুরূপ। কিন্তু সেই ভালো ফলনই এখন পুরোপুরি স্বস্তি এনে দিতে পারছে না বোয়ালমারীর পাটচাষিদের। শ্রমিকের বাড়তি মজুরি, সার ও কীটনাশকের মূল্যবৃদ্ধিতে বেড়েছে উৎপাদন খরচ। তার ওপর বাজারে পাটের দাম অস্থিতিশীল হলে ভালো ফলনও কৃষকের ঘরে আনন্দের বদলে লোকসানের হিসাব নিয়ে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৬ হাজার ১১২ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ২ দশমিক ১৫ টন পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। গতবারের তুলনায় এবার ফলনও ভালো হয়েছে। মাঠে পোকামাকড়ের উপদ্রব কম থাকায় পাটের গাছ হয়েছে বেশ সতেজ ও সবল।

তবে ফলন ভালো হলেও পাট কাটা, বহন ও জাগ দেওয়ার কাজে শ্রমিকের বাড়তি মজুরি কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। পাশাপাশি সার, কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে উৎপাদন ব্যয়। অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত পানি না থাকায় পাট পচাতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে কৃষকদের।

কৃষকদের আশঙ্কা, উৎপাদনের শুরুতেই খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে পাটের দাম কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না থাকলে তাদের লাভ তো দূরের কথা, মূলধন ফেরত পাওয়াও কঠিন হবে। তাই ভালো ফলনের পাশাপাশি উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাকেই এখন সবচেয়ে বড় দাবি হিসেবে দেখছেন তারা।

শেখর ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের কৃষক মো. আতিয়ার রহমান বলেন, এবারের পাটের ফলন ভালো হয়েছে। তবে পানি সংকটের কারণে পাট পচাতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। আবার বাতাসে পাটগাছ পড়ে যাওয়ায় কাটতেও বাড়তি কষ্ট হচ্ছে।

দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক রুবেল শেখ বলেন, এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকের অতিরিক্ত মজুরির কারণে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। বাজারে পাটের ন্যায্যমূল্য না পেলে ভালো ফলনও আমাদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান বলেন, এ বছর উপজেলায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে এবং পোকামাকড়ের তেমন উপদ্রব হয়নি। তবে বিপণন ও বাজারদরের বিষয়টি কৃষি বিভাগের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নেই। কৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে কথা বলা হবে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত