সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 লোকাল ফোকাসলোকাল ফোকাস

হাতিয়ায় প্রথম বার অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগ, বাঁচল শিশুর প্রাণ

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় প্রথমবারের মতো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগ করে বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক শিশুকে সুস্থ করে তোলা হয়েছে। সীমিত চিকিৎসা-সুবিধার মধ্যেও এই সফলতা স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবায় নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে।

হাতিয়ায় প্রথম বার অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগ, বাঁচল শিশুর প্রাণ
ছবি -সংগৃহীত

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো অ্যান্টি স্নেক ভেনম (সর্পদংশন প্রতিষেধক) ব্যবহার করে বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক শিশুর প্রাণ রক্ষা করা হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, এটি শুধু একটি সফল চিকিৎসাই নয়, বরং দ্বীপাঞ্চলের জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফিরোজ উদ্দিনের আট বছর বয়সী ছেলে রাহাত মাগরিবের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় বিষধর সাপের কামড়ে আহত হয়। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার চেষ্টা করলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে রাত ১২টার দিকে তাকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. রবিউল হোসেন নিলয় জানান, হাসপাতালে আনার পর শিশুটির শরীরে বিষধর সাপের দংশনের একাধিক উপসর্গ দেখা যায়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বিষক্রিয়া নিশ্চিত হওয়ার পর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তার পরামর্শে অভিভাবকের সম্মতি নিয়ে প্রথমবারের মতো অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগ করা হয়। চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর ধীরে ধীরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। বর্তমানে সে আশঙ্কামুক্ত রয়েছে।

শিশুটির বাবা ফিরোজ উদ্দিন বলেন, ছেলের অবস্থা দেখে পরিবার ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করিয়েও কোনো সুফল না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং আন্তরিক সেবার কারণেই তার ছেলে এখন সুস্থ হয়ে উঠছে।

হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মানসী রানী সরকার বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইতিহাসে এটিই প্রথম অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগের সফল ঘটনা। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় শিশুটির জীবন রক্ষা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও জরুরি চিকিৎসাসেবাকে আরও কার্যকর ও মানসম্মত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক, জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকটে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে অ্যান্টি স্নেক ভেনমের এই সফল প্রয়োগ সর্পদংশনের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, প্রশিক্ষিত জনবল এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে দ্বীপাঞ্চলের মানুষকে এমন জরুরি চিকিৎসার জন্য আর মূল ভূখণ্ডে ছুটতে হবে না।

বিষয় : হাতিয়া অ্যান্টি স্নেক ভেনম

কাল মহাকাল

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬


হাতিয়ায় প্রথম বার অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগ, বাঁচল শিশুর প্রাণ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো অ্যান্টি স্নেক ভেনম (সর্পদংশন প্রতিষেধক) ব্যবহার করে বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক শিশুর প্রাণ রক্ষা করা হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, এটি শুধু একটি সফল চিকিৎসাই নয়, বরং দ্বীপাঞ্চলের জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফিরোজ উদ্দিনের আট বছর বয়সী ছেলে রাহাত মাগরিবের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় বিষধর সাপের কামড়ে আহত হয়। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার চেষ্টা করলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে রাত ১২টার দিকে তাকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. রবিউল হোসেন নিলয় জানান, হাসপাতালে আনার পর শিশুটির শরীরে বিষধর সাপের দংশনের একাধিক উপসর্গ দেখা যায়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বিষক্রিয়া নিশ্চিত হওয়ার পর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তার পরামর্শে অভিভাবকের সম্মতি নিয়ে প্রথমবারের মতো অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগ করা হয়। চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর ধীরে ধীরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। বর্তমানে সে আশঙ্কামুক্ত রয়েছে।

শিশুটির বাবা ফিরোজ উদ্দিন বলেন, ছেলের অবস্থা দেখে পরিবার ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করিয়েও কোনো সুফল না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং আন্তরিক সেবার কারণেই তার ছেলে এখন সুস্থ হয়ে উঠছে।

হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মানসী রানী সরকার বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইতিহাসে এটিই প্রথম অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগের সফল ঘটনা। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় শিশুটির জীবন রক্ষা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও জরুরি চিকিৎসাসেবাকে আরও কার্যকর ও মানসম্মত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক, জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকটে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে অ্যান্টি স্নেক ভেনমের এই সফল প্রয়োগ সর্পদংশনের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, প্রশিক্ষিত জনবল এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে দ্বীপাঞ্চলের মানুষকে এমন জরুরি চিকিৎসার জন্য আর মূল ভূখণ্ডে ছুটতে হবে না।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত