সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

দেড়শ বছরের পুরোনো আইন বাতিল করে পাস হলো কঠোর জুয়া আইন

ডিজিটাল যুগে অনলাইন জুয়া ও বেটিং রুখতে নতুন আইন। অপরাধভেদে সর্বোচ্চ ১০ বছর জেল ও ৫ কোটি টাকা জরিমানার বিধান।

দেড়শ বছরের পুরোনো আইন বাতিল করে পাস হলো কঠোর জুয়া আইন
ছবি -সংগৃহীত

ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইন ব্যবস্থায় বড় এক পরিবর্তন আনল বাংলাদেশ। অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জুয়ার দৌরাত্ম্য রুখতে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়েছে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’। ব্রিটিশ আমলের দেড়শ বছরেরও পুরোনো ‘প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭’ রহিত করে নতুন এই যুগোপযোগী আইনটি প্রণয়ন করা হলো।

মঙ্গলবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে ২৩ জুন বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয় এবং পরবর্তীতে তা আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল।

নতুন আইনে জুয়া ও এর সংশ্লিষ্ট অপরাধের পরিধি ও ধরন অনুযায়ী কঠোর সাজার বিধান রাখা হয়েছে। আইনে ২৪টি ভিন্ন ভিন্ন অপরাধের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং অপরাধের প্রকৃতি বিবেচনায় ১৪ ধরনের শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিশেষ করে, ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিংয়ের মতো জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা জরিমানার বিধান করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই আইনে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের বিধান রয়েছে।

আইন প্রণেতারা মনে করছেন, বর্তমান সময়ে অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের অপব্যবহার তরুণ সমাজের জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পুরোনো আইন দিয়ে এই প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। এখন থেকে অনলাইন জুয়া, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন, ঘোস্ট সিম ব্যবহার করে জুয়া বা ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে অর্থপাচারের মতো বিষয়গুলো সুনির্দিষ্টভাবে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

আইনের আওতায় এখন থেকে জুয়ার উদ্দেশ্যে অর্থ আদান-প্রদান, বিদেশি জুয়া প্ল্যাটফর্মের এজেন্ট হিসেবে কাজ করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়ার প্রচার চালানো—সবই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইনটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে অপরাধগুলো ‘আমলযোগ্য’ ও ‘অজামিনযোগ্য’ হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ এসব অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে সাইবার ট্রাইব্যুনাল কিংবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন এই আইনটি কার্যকর হলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যারা সমাজে অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক ধস সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে, তাদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালানো সহজ হবে। জুয়ার সরঞ্জাম সরবরাহ থেকে শুরু করে স্পনসরশিপ—সবক্ষেত্রেই এখন থেকে আইনের কঠোর নজরদারি থাকবে।

দেড়শ বছরের পুরোনো আইন বাতিল করে পাস হলো কঠোর জুয়া আইন
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


দেড়শ বছরের পুরোনো আইন বাতিল করে পাস হলো কঠোর জুয়া আইন

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image

ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইন ব্যবস্থায় বড় এক পরিবর্তন আনল বাংলাদেশ। অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জুয়ার দৌরাত্ম্য রুখতে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়েছে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’। ব্রিটিশ আমলের দেড়শ বছরেরও পুরোনো ‘প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭’ রহিত করে নতুন এই যুগোপযোগী আইনটি প্রণয়ন করা হলো।

মঙ্গলবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে ২৩ জুন বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয় এবং পরবর্তীতে তা আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল।

নতুন আইনে জুয়া ও এর সংশ্লিষ্ট অপরাধের পরিধি ও ধরন অনুযায়ী কঠোর সাজার বিধান রাখা হয়েছে। আইনে ২৪টি ভিন্ন ভিন্ন অপরাধের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং অপরাধের প্রকৃতি বিবেচনায় ১৪ ধরনের শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিশেষ করে, ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিংয়ের মতো জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা জরিমানার বিধান করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই আইনে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের বিধান রয়েছে।

আইন প্রণেতারা মনে করছেন, বর্তমান সময়ে অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের অপব্যবহার তরুণ সমাজের জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পুরোনো আইন দিয়ে এই প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। এখন থেকে অনলাইন জুয়া, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন, ঘোস্ট সিম ব্যবহার করে জুয়া বা ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে অর্থপাচারের মতো বিষয়গুলো সুনির্দিষ্টভাবে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

আইনের আওতায় এখন থেকে জুয়ার উদ্দেশ্যে অর্থ আদান-প্রদান, বিদেশি জুয়া প্ল্যাটফর্মের এজেন্ট হিসেবে কাজ করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়ার প্রচার চালানো—সবই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইনটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে অপরাধগুলো ‘আমলযোগ্য’ ও ‘অজামিনযোগ্য’ হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ এসব অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে সাইবার ট্রাইব্যুনাল কিংবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন এই আইনটি কার্যকর হলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যারা সমাজে অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক ধস সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে, তাদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালানো সহজ হবে। জুয়ার সরঞ্জাম সরবরাহ থেকে শুরু করে স্পনসরশিপ—সবক্ষেত্রেই এখন থেকে আইনের কঠোর নজরদারি থাকবে।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত