সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 ইরান যুদ্ধইরান যুদ্ধ

সুইজারল্যান্ডে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সাথে করমর্দন ও ছবি তোলায় অস্বীকৃতি ইরানের

কূটনৈতিক সৌজন্য এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর বার্তা তেহরানের; ইরানের অনড় অবস্থানে বাতিল হলো পূর্বনির্ধারিত ফটোসেশন ও আনুষ্ঠানিকতা।

সুইজারল্যান্ডে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সাথে করমর্দন ও ছবি তোলায় অস্বীকৃতি ইরানের
ছবি -সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ডের বুরগেনস্টকে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনৈতিকভাবে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে ইরান। মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে করমর্দন ও যৌথ ছবি তুলতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে তেহরান, যা দুই দেশের দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্কের মাঝে নতুন করে উত্তেজনা ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরা এবং ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে উপস্থিত দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও যৌথ ছবি তোলার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করেছিলেন আয়োজকরা। কিন্তু শুরু থেকেই ইরানের প্রতিনিধিদল এসব আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে তীব্র অনীহা প্রকাশ করে। শেষ পর্যন্ত তাদের অটল অবস্থানের কারণে নির্ধারিত ফটোসেশন ও সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম বাতিল করতে বাধ্য হন আয়োজকরা।

বৈঠক সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ইরানের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে তারা কোনো যৌথ ছবিতে অংশ নেবেন না। এমনকি সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকা অবস্থায়ও তারা কোনো ধরনের সৌজন্যমূলক আচরণে রাজি হননি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, সাংবাদিকরা কক্ষ ত্যাগ করার পর ইরানি প্রতিনিধিরা বৈঠক কক্ষে প্রবেশ করেন। এর আগে সাংবাদিকদের বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে মার্কিন প্রতিনিধিদল অতিরিক্ত সময় চেয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তার সঙ্গে ছিলেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, করমর্দন ও যৌথ ছবির মতো প্রচলিত কূটনৈতিক শিষ্টাচার এড়িয়ে যাওয়া ইরানের পরিকল্পিত একটি কৌশল। এর মাধ্যমে তেহরান ওয়াশিংটনের প্রতি তাদের রাজনৈতিক অনড় অবস্থান এবং দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের বার্তাটি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে তুলে ধরতে চেয়েছে। দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী এই উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের ইতিহাসে এটি আরেকটি প্রতীকী অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিষয় : ইরান যুদ্ধ

সুইজারল্যান্ডে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সাথে করমর্দন ও ছবি তোলায় অস্বীকৃতি ইরানের
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬


সুইজারল্যান্ডে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সাথে করমর্দন ও ছবি তোলায় অস্বীকৃতি ইরানের

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image

সুইজারল্যান্ডের বুরগেনস্টকে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনৈতিকভাবে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে ইরান। মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে করমর্দন ও যৌথ ছবি তুলতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে তেহরান, যা দুই দেশের দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্কের মাঝে নতুন করে উত্তেজনা ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরা এবং ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে উপস্থিত দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও যৌথ ছবি তোলার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করেছিলেন আয়োজকরা। কিন্তু শুরু থেকেই ইরানের প্রতিনিধিদল এসব আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে তীব্র অনীহা প্রকাশ করে। শেষ পর্যন্ত তাদের অটল অবস্থানের কারণে নির্ধারিত ফটোসেশন ও সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম বাতিল করতে বাধ্য হন আয়োজকরা।

বৈঠক সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ইরানের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে তারা কোনো যৌথ ছবিতে অংশ নেবেন না। এমনকি সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকা অবস্থায়ও তারা কোনো ধরনের সৌজন্যমূলক আচরণে রাজি হননি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, সাংবাদিকরা কক্ষ ত্যাগ করার পর ইরানি প্রতিনিধিরা বৈঠক কক্ষে প্রবেশ করেন। এর আগে সাংবাদিকদের বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে মার্কিন প্রতিনিধিদল অতিরিক্ত সময় চেয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তার সঙ্গে ছিলেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, করমর্দন ও যৌথ ছবির মতো প্রচলিত কূটনৈতিক শিষ্টাচার এড়িয়ে যাওয়া ইরানের পরিকল্পিত একটি কৌশল। এর মাধ্যমে তেহরান ওয়াশিংটনের প্রতি তাদের রাজনৈতিক অনড় অবস্থান এবং দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের বার্তাটি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে তুলে ধরতে চেয়েছে। দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী এই উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের ইতিহাসে এটি আরেকটি প্রতীকী অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত