সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 বিনোদনবিনোদন

বলিউডের গ্ল্যামার ছাড়িয়ে ফুটবল মাঠে নোরার জয়জয়কার

নাচ, গান আর ফুটবলের মেলবন্ধন ঘটিয়ে নোরা ফাতেহি এখন বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আকর্ষণ। মরক্কোর শিকড় আর খেলার প্রতি আবেগ তাঁকে নিয়ে গেছে নতুন এক উচ্চতায়।

বলিউডের গ্ল্যামার ছাড়িয়ে ফুটবল মাঠে নোরার জয়জয়কার
ছবি -সংগৃহীত

বলিউডের রুপালি পর্দায় যখন নোরা ফাতেহি নাচেন, তখন দর্শক মুগ্ধ হয় তাঁর ছন্দে। কিন্তু মাঠের বাইরের নোরাকে দেখলে চেনা যায় অন্য এক মানুষকে। ফুটবল তাঁর কাছে নিছক একটি খেলা নয়, বরং নিজের শেকড় ও আবেগের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কানাডায় জন্ম নিলেও নোরার রক্তে মিশে আছে মরক্কোর ফুটবল ঐতিহ্য। যে দেশে ফুটবল মানেই জাতীয় উৎসব, সেই পরিবেশেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। তাই ছোটবেলা থেকেই বিশ্বকাপের মৌসুম মানেই নোরার পরিবারে আনন্দের জোয়ার।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ ছিল নোরার জীবনের এক স্মরণীয় অধ্যায়। যখন মরক্কো প্রথম আফ্রিকান ও আরব দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে উঠল, তখন পুরো ফুটবল বিশ্বের আবেগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন নোরা। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তিনি শুধু বলিউডের তারকা ছিলেন না, ছিলেন মরক্কোর একজন গর্বিত প্রতিনিধি। ফ্যান ফেস্টের মঞ্চে দাঁড়িয়ে হাতে মরক্কোর পতাকা নিয়ে তাঁর উদ্‌যাপন কোটি কোটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল। অনেকের মতেই, বলিউডের কোনো তারকার জন্য এমন বিশ্বমঞ্চে নিজের শিকড়কে তুলে ধরার ঘটনা বিরল।

‘দিলবার’ কিংবা ‘নাচ মেরি রানি’র মতো গানে যে নোরাকে দর্শক দেখেছেন, ফুটবলের সুবাদে তিনি পৌঁছে গেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দর্শকগোষ্ঠীর কাছে। তিনি মনে করেন, ফুটবল হলো এমন এক ভাষা যা ধর্ম, বর্ণ ও রাজনীতির দেয়াল ভেঙে মানুষকে কাছে টানে। একটি গোল যেমন মরক্কোর রাস্তায় উল্লাস আনে, তেমনি একই আবেগ ভর করে ভারতের গ্যালারিতে কিংবা ব্রাজিলের সমুদ্রতীরে। আর এই দর্শনেই তিনি বিশ্বাসী।

ফুটবলপ্রেমীদের চিরন্তন দ্বন্দ্বে অর্থাৎ মেসি নাকি রোনালদো—এই তর্কে নিজেকে জড়ান না তিনি। দুই কিংবদন্তির প্রতিই তাঁর সমান শ্রদ্ধা। তাঁর মতে, রোনালদোর শৃঙ্খল পরিশ্রম যেমন অনুপ্রেরণাদায়ক, তেমনি মেসির খেলার শৈল্পিক সৌন্দর্যও মুগ্ধ হওয়ার মতো। একই সময়ে ইতিহাসের এই দুই মহাতারকার লড়াই দেখার সুযোগ পাওয়াকে তিনি নিজের জীবনের এক বড় সৌভাগ্য বলে মনে করেন।

২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপেও নোরার উপস্থিতি নতুন করে তাঁকে পাদপ্রদীপে নিয়ে এসেছে। উদ্বোধনী আয়োজন থেকে শুরু করে টুর্নামেন্টের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পর্বে তাঁর অংশগ্রহণ ফুটবল ও বিনোদনের মেলবন্ধনকে আরও পোক্ত করেছে। তিনি নিজে বিষয়টি দেখছেন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে দারুণ অভিজ্ঞতা হিসেবে। বিশ্বমঞ্চে একজন বলিউড তারকার এমন সাবলীল উপস্থিতি কেবল তাঁর ভক্তদের নয়, পুরো ভারতীয় উপমহাদেশের দর্শকদের জন্যই এক গর্বের জায়গা তৈরি করেছে।

বলিউডের গ্ল্যামার ছাড়িয়ে ফুটবল মাঠে নোরার জয়জয়কার
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


বলিউডের গ্ল্যামার ছাড়িয়ে ফুটবল মাঠে নোরার জয়জয়কার

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬

featured Image

বলিউডের রুপালি পর্দায় যখন নোরা ফাতেহি নাচেন, তখন দর্শক মুগ্ধ হয় তাঁর ছন্দে। কিন্তু মাঠের বাইরের নোরাকে দেখলে চেনা যায় অন্য এক মানুষকে। ফুটবল তাঁর কাছে নিছক একটি খেলা নয়, বরং নিজের শেকড় ও আবেগের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কানাডায় জন্ম নিলেও নোরার রক্তে মিশে আছে মরক্কোর ফুটবল ঐতিহ্য। যে দেশে ফুটবল মানেই জাতীয় উৎসব, সেই পরিবেশেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। তাই ছোটবেলা থেকেই বিশ্বকাপের মৌসুম মানেই নোরার পরিবারে আনন্দের জোয়ার।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ ছিল নোরার জীবনের এক স্মরণীয় অধ্যায়। যখন মরক্কো প্রথম আফ্রিকান ও আরব দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে উঠল, তখন পুরো ফুটবল বিশ্বের আবেগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন নোরা। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তিনি শুধু বলিউডের তারকা ছিলেন না, ছিলেন মরক্কোর একজন গর্বিত প্রতিনিধি। ফ্যান ফেস্টের মঞ্চে দাঁড়িয়ে হাতে মরক্কোর পতাকা নিয়ে তাঁর উদ্‌যাপন কোটি কোটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল। অনেকের মতেই, বলিউডের কোনো তারকার জন্য এমন বিশ্বমঞ্চে নিজের শিকড়কে তুলে ধরার ঘটনা বিরল।

‘দিলবার’ কিংবা ‘নাচ মেরি রানি’র মতো গানে যে নোরাকে দর্শক দেখেছেন, ফুটবলের সুবাদে তিনি পৌঁছে গেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দর্শকগোষ্ঠীর কাছে। তিনি মনে করেন, ফুটবল হলো এমন এক ভাষা যা ধর্ম, বর্ণ ও রাজনীতির দেয়াল ভেঙে মানুষকে কাছে টানে। একটি গোল যেমন মরক্কোর রাস্তায় উল্লাস আনে, তেমনি একই আবেগ ভর করে ভারতের গ্যালারিতে কিংবা ব্রাজিলের সমুদ্রতীরে। আর এই দর্শনেই তিনি বিশ্বাসী।

ফুটবলপ্রেমীদের চিরন্তন দ্বন্দ্বে অর্থাৎ মেসি নাকি রোনালদো—এই তর্কে নিজেকে জড়ান না তিনি। দুই কিংবদন্তির প্রতিই তাঁর সমান শ্রদ্ধা। তাঁর মতে, রোনালদোর শৃঙ্খল পরিশ্রম যেমন অনুপ্রেরণাদায়ক, তেমনি মেসির খেলার শৈল্পিক সৌন্দর্যও মুগ্ধ হওয়ার মতো। একই সময়ে ইতিহাসের এই দুই মহাতারকার লড়াই দেখার সুযোগ পাওয়াকে তিনি নিজের জীবনের এক বড় সৌভাগ্য বলে মনে করেন।

২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপেও নোরার উপস্থিতি নতুন করে তাঁকে পাদপ্রদীপে নিয়ে এসেছে। উদ্বোধনী আয়োজন থেকে শুরু করে টুর্নামেন্টের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পর্বে তাঁর অংশগ্রহণ ফুটবল ও বিনোদনের মেলবন্ধনকে আরও পোক্ত করেছে। তিনি নিজে বিষয়টি দেখছেন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে দারুণ অভিজ্ঞতা হিসেবে। বিশ্বমঞ্চে একজন বলিউড তারকার এমন সাবলীল উপস্থিতি কেবল তাঁর ভক্তদের নয়, পুরো ভারতীয় উপমহাদেশের দর্শকদের জন্যই এক গর্বের জায়গা তৈরি করেছে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত