অর্থনীতি
বাজেট মানেই কেবল গাণিতিক হিসাব বা তথ্যের মারপ্যাঁচ নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার দলিল। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণার পরদিন রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানালেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর মতে, এবারের বাজেট কোনো বিশেষ শ্রেণি বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর জন্য তৈরি করা হয়নি; বরং কৃষক, শ্রমিক, শিল্পী, তাঁতি থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের চাহিদাকে এতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর কণ্ঠে এদিন বারবার উঠে এসেছে ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ’-এর কথা। তিনি স্পষ্ট করেছেন, বিগত দিনগুলোতে দেশের অর্থনীতি ছিল মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের কবজায়। অধিকাংশ মানুষ উন্নয়নের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। সেই বদ্ধ দুয়ার খুলে দিয়ে সরকার এখন অর্থনীতিকে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে নিয়ে আসতে চায়। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর একটি নির্বাচিত সরকার পেয়ে মানুষ বড় আশা নিয়ে আছে। সরকারের লক্ষ্য সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানো।
সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান কালো টাকা সাদা করার বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়নি। বরং সম্পত্তি বা জমি কেনাবেচায় প্রকৃত মূল্য ঘোষণার ক্ষেত্রে যে জটিলতা তৈরি হয়, তা নিরসনের একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে মাত্র। এ নিয়ে জনমনে ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ নেই। এছাড়া, জমি ও ফ্ল্যাটের মৌজা রেট এবং বাজারমূল্যের পার্থক্য ঘোচাতে কাজ চলছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
অর্থনীতিকে টেকসই করতে এবার ঋণনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসার ডাক দিয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি মনে করেন, শুধু কাগজ-কলমে নীতিমালা করলেই চলবে না, তার সঠিক বাস্তবায়ন জরুরি। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়তে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
বাজেটের আরেকটি উজ্জ্বল দিক হলো ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতি। সংস্কৃতিকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপ দিতে সরকার প্রায় ৮০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। থিয়েটার, সংগীত, চলচ্চিত্র ও শিল্পকলাকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করে দেশের পর্যটন শিল্পকে আরও প্রাণবন্ত করার পরিকল্পনা করছে সরকার। অর্থমন্ত্রী জানান, এটি কেবল বিনোদনের জন্য নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার একটি বড় মাধ্যম হবে।
জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানালেন নতুন বার্তা। বাপেক্সকে আবার সক্রিয় করা হচ্ছে এবং সক্ষমতা বাড়াতে কেনা হচ্ছে পাঁচটি নতুন রিগ। গত ১৭ বছরে গ্যাস অনুসন্ধানে যে স্থবিরতা ছিল, তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। যদিও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর (আইপিপি) বকেয়া ৫৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের চাপ অর্থনীতিতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তবুও সরকার বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বদ্ধপরিকর।
সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে অর্থমন্ত্রী আশার কথা শুনিয়েছেন। তিনি মনে করেন, পরিকল্পনার ৮০ শতাংশ সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলেই বাংলাদেশের অর্থনীতি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। সুশাসন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির হাত ধরেই দেশ আগামীর শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
2.png)
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
বাজেট মানেই কেবল গাণিতিক হিসাব বা তথ্যের মারপ্যাঁচ নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার দলিল। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণার পরদিন রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানালেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর মতে, এবারের বাজেট কোনো বিশেষ শ্রেণি বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর জন্য তৈরি করা হয়নি; বরং কৃষক, শ্রমিক, শিল্পী, তাঁতি থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের চাহিদাকে এতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর কণ্ঠে এদিন বারবার উঠে এসেছে ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ’-এর কথা। তিনি স্পষ্ট করেছেন, বিগত দিনগুলোতে দেশের অর্থনীতি ছিল মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের কবজায়। অধিকাংশ মানুষ উন্নয়নের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। সেই বদ্ধ দুয়ার খুলে দিয়ে সরকার এখন অর্থনীতিকে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে নিয়ে আসতে চায়। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর একটি নির্বাচিত সরকার পেয়ে মানুষ বড় আশা নিয়ে আছে। সরকারের লক্ষ্য সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানো।
সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান কালো টাকা সাদা করার বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়নি। বরং সম্পত্তি বা জমি কেনাবেচায় প্রকৃত মূল্য ঘোষণার ক্ষেত্রে যে জটিলতা তৈরি হয়, তা নিরসনের একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে মাত্র। এ নিয়ে জনমনে ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ নেই। এছাড়া, জমি ও ফ্ল্যাটের মৌজা রেট এবং বাজারমূল্যের পার্থক্য ঘোচাতে কাজ চলছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
অর্থনীতিকে টেকসই করতে এবার ঋণনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসার ডাক দিয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি মনে করেন, শুধু কাগজ-কলমে নীতিমালা করলেই চলবে না, তার সঠিক বাস্তবায়ন জরুরি। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়তে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
বাজেটের আরেকটি উজ্জ্বল দিক হলো ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতি। সংস্কৃতিকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপ দিতে সরকার প্রায় ৮০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। থিয়েটার, সংগীত, চলচ্চিত্র ও শিল্পকলাকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করে দেশের পর্যটন শিল্পকে আরও প্রাণবন্ত করার পরিকল্পনা করছে সরকার। অর্থমন্ত্রী জানান, এটি কেবল বিনোদনের জন্য নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার একটি বড় মাধ্যম হবে।
জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানালেন নতুন বার্তা। বাপেক্সকে আবার সক্রিয় করা হচ্ছে এবং সক্ষমতা বাড়াতে কেনা হচ্ছে পাঁচটি নতুন রিগ। গত ১৭ বছরে গ্যাস অনুসন্ধানে যে স্থবিরতা ছিল, তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। যদিও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর (আইপিপি) বকেয়া ৫৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের চাপ অর্থনীতিতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তবুও সরকার বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বদ্ধপরিকর।
সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে অর্থমন্ত্রী আশার কথা শুনিয়েছেন। তিনি মনে করেন, পরিকল্পনার ৮০ শতাংশ সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলেই বাংলাদেশের অর্থনীতি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। সুশাসন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির হাত ধরেই দেশ আগামীর শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
2.png)