সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

মমতার তৃণমূল কংগ্রেস কি তবে জাতীয় কংগ্রেসের সাথে একীভূত হতে চলেছে?

দলের ভেতর বড় বিদ্রোহে অস্তিত্ব সংকটে তৃণমূল কংগ্রেস। এই সুযোগে মমতা ও অভিষেককে দলে টানতে সক্রিয় কংগ্রেস হাই কমান্ড।

মমতার তৃণমূল কংগ্রেস কি তবে জাতীয় কংগ্রেসের সাথে একীভূত হতে চলেছে?
ছবি -সংগৃহীত

অস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অন্দরে যখন বিদ্রোহের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এল নতুন প্রস্তাব। সূত্রের খবর, পুরোনো দলে ফেরার আহ্বান নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

গত কয়েক দিন তৃণমূলের জন্য ছিল চরম দুঃস্বপ্নের মতো। লোকসভায় দলের ২৯ জন এমপির মধ্যে ২০ জনই বিদ্রোহ করে বসে আছেন। প্রবীণ নেতা ড. কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে তাঁরা শুধু দলই ছাড়েননি, বরং বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ শিবিরে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই চিত্র দেখা গেছে রাজ্য বিধানসভাতেও। সেখানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬৪ জন বিধায়ক বিদ্রোহের পতাকা ওড়ানোয় তৃণমূলের ভিত এখন রীতিমতো নড়বড়ে।

এই ডামাডোলের মধ্যেই কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব নড়েচড়ে বসেছে। সনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী সরাসরি যোগাযোগ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। শোনা যাচ্ছে, প্রস্তাব অনুযায়ী কংগ্রেস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘জাতীয় সহ-সভাপতি’ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘জাতীয় সাধারণ সম্পাদক’ পদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিনিময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতার পদ এবং তাঁর ভাইপোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক শীর্ষ পদের দাবি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই ভাঙনকে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেস তাদের হারানো জমি পুনরুদ্ধার করতে চায়। তৃণমূলের অবশিষ্ট শক্তি যদি কংগ্রেসে মিশে যায়, তবে লোকসভা ও রাজ্যসভায় দলের আসন সংখ্যা এক লাফে অনেকটা বাড়বে, যা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সহায়ক হবে।

মমতার জন্য এই প্রত্যাবর্তন হতে পারে এক ‘ঘরে ফেরা’। নব্বইয়ের দশকে পি ভি নরসিমা রাওয়ের মন্ত্রিসভায় তিনি ছিলেন কংগ্রেসের অন্যতম ভরসা। ১৯৯৮ সালে সেই কংগ্রেস থেকেই বেরিয়ে তিনি তৈরি করেছিলেন আজকের তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে এই সমীকরণ বাস্তবে রূপ নিলে রাজনীতির বৃত্ত পুনরায় পূর্ণ হবে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে এখনও কোনো পক্ষই কোনো বিবৃতি দেয়নি। বিষয়টি এখন আলোচনার টেবিলেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

বিষয় : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস জাতীয় কংগ্রেস সোনিয়া গান্ধী

মমতার তৃণমূল কংগ্রেস কি তবে জাতীয় কংগ্রেসের সাথে একীভূত হতে চলেছে?
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬


মমতার তৃণমূল কংগ্রেস কি তবে জাতীয় কংগ্রেসের সাথে একীভূত হতে চলেছে?

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬

featured Image

অস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অন্দরে যখন বিদ্রোহের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এল নতুন প্রস্তাব। সূত্রের খবর, পুরোনো দলে ফেরার আহ্বান নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

গত কয়েক দিন তৃণমূলের জন্য ছিল চরম দুঃস্বপ্নের মতো। লোকসভায় দলের ২৯ জন এমপির মধ্যে ২০ জনই বিদ্রোহ করে বসে আছেন। প্রবীণ নেতা ড. কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে তাঁরা শুধু দলই ছাড়েননি, বরং বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ শিবিরে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই চিত্র দেখা গেছে রাজ্য বিধানসভাতেও। সেখানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬৪ জন বিধায়ক বিদ্রোহের পতাকা ওড়ানোয় তৃণমূলের ভিত এখন রীতিমতো নড়বড়ে।

এই ডামাডোলের মধ্যেই কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব নড়েচড়ে বসেছে। সনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী সরাসরি যোগাযোগ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। শোনা যাচ্ছে, প্রস্তাব অনুযায়ী কংগ্রেস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘জাতীয় সহ-সভাপতি’ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘জাতীয় সাধারণ সম্পাদক’ পদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিনিময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতার পদ এবং তাঁর ভাইপোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক শীর্ষ পদের দাবি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই ভাঙনকে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেস তাদের হারানো জমি পুনরুদ্ধার করতে চায়। তৃণমূলের অবশিষ্ট শক্তি যদি কংগ্রেসে মিশে যায়, তবে লোকসভা ও রাজ্যসভায় দলের আসন সংখ্যা এক লাফে অনেকটা বাড়বে, যা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সহায়ক হবে।

মমতার জন্য এই প্রত্যাবর্তন হতে পারে এক ‘ঘরে ফেরা’। নব্বইয়ের দশকে পি ভি নরসিমা রাওয়ের মন্ত্রিসভায় তিনি ছিলেন কংগ্রেসের অন্যতম ভরসা। ১৯৯৮ সালে সেই কংগ্রেস থেকেই বেরিয়ে তিনি তৈরি করেছিলেন আজকের তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে এই সমীকরণ বাস্তবে রূপ নিলে রাজনীতির বৃত্ত পুনরায় পূর্ণ হবে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে এখনও কোনো পক্ষই কোনো বিবৃতি দেয়নি। বিষয়টি এখন আলোচনার টেবিলেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত