১২ জুন ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দলের বাইরে থাকছে নেইমার
হেক্সা জয়ের মিশন শুরু করতে যাওয়া ব্রাজিলের জন্য রোববার সকালটা হয়ে এসেছে একরাশ দুশ্চিন্তার বার্তা। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য এবারের বিশ্বকাপের মঞ্চটা এমনিতেই আবেগের, কিন্তু মাঠে বল গড়ানোর আগেই সেলেসাও শিবিরে নেমে এসেছে বড় ধাক্কা। কাফ মাসলের পুরনো চোট থেকে সেরে উঠতে না পারায় মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নিশ্চিতভাবেই নেইমারকে পাচ্ছে না ব্রাজিল।
গত ১৭ মে ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগে সান্তোসের হয়ে খেলার সময় চোট পান এই তারকা ফরোয়ার্ড। ব্রাজিলীয় মেডিকেল টিম শুরুতে তিন সপ্তাহের পুনর্বাসন সময়ের কথা জানালেও, পরিস্থিতি এখন প্রত্যাশার চেয়েও জটিল। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফুটমেরকাতোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেরে ওঠার প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হওয়ায় ৩৪ বছর বয়সি এই ফরোয়ার্ড এখনো মূল দলের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরতে পারেননি। নেইমার এখন নিউ জার্সিতে দলের বাকি সদস্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কেবল জিম আর সাইক্লিংয়ে নিজেকে প্রস্তুত করার কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
কোচ কার্লো আনচেলত্তির কৌশলগত পরিকল্পনায় নেইমার ছিলেন অন্যতম বড় ভরসার জায়গা। নিজের ক্যারিয়ারের চতুর্থ ও সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপকে ঘিরে তিনি নিজেও ছিলেন দারুণ আবেগপ্রবণ। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে তার এই ইনজুরি এখন পুরো দলের রণকৌশল নতুন করে সাজাতে বাধ্য করছে কোচকে।
যদিও উদ্বোধনী ম্যাচে নেইমারের না থাকাটা এখন নিশ্চিত, তবুও ব্রাজিল ভক্তদের জন্য মেডিকেল টিমের একটি সূত্র কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে গ্রুপ পর্বের পরবর্তী ম্যাচগুলোয় তাকে মাঠে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। এখন দেখার বিষয়, দলের প্রাণভোমরাকে ডাগআউটে রেখে কোচ আনচেলত্তি মরক্কোর বিপক্ষে কী মাস্টারপ্ল্যান সাজান।
ফুটবল মানেই একসময় ছিল সাদা-কালোর ধ্রুপদী লড়াই। মাঠের সবুজ ঘাসে কালো রঙের বুট পরা খেলোয়াড়দের দৌড়ঝাঁপ ছিল সেই আমলের চিরাচরিত দৃশ্য। তবে গত পঁচিশ বছরে ফুটবলের এই নান্দনিকতায় লেগেছে রঙের ছোঁয়া। আর ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে সেই ধারা যেন চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছাল। মাঠের প্রতিটি কোণে ফুটবলারদের পায়ে এখন কেবলই গোলাপি রঙের দ্যুতি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কখনো এত খেলোয়াড়কে একসঙ্গে একই রঙের বুট পরতে দেখা যায়নি। কেন এত রঙের ভিড়ে এবার গোলাপিকেই বেছে নেওয়া হলো?
ফুটবলের দুনিয়ায় বুট বা কিটের ডিজাইন স্রেফ কোনো শখের বিষয় নয়; এটি এখন বিশাল এক বাণিজ্যের অংশ। নাইকি, অ্যাডিডাস কিংবা পুমার মতো বড় বড় ব্র্যান্ডগুলো এবার যেন অলিখিত এক সমঝোতায় পৌঁছেছে। তাদের লক্ষ্য একটাই—মাঠের সবুজ ঘাসের সঙ্গে এমন কোনো রঙ ব্যবহার করা যা টেলিভিশনের পর্দায় কিংবা গ্যালারি থেকে দর্শকদের চোখে মুহূর্তেই ধরা দেয়। আর এই ‘ইলেকট্রিক ফুশিয়া’ বা গোলাপি-বেগুনি মিশ্রিত রঙের আভা সবুজের বিপরীতে দারুণ এক বৈপরীত্য (Contrast) তৈরি করে। ফ্লাডলাইটের নিচে কিংবা স্লো-মোশন রিপ্লেতে গোলাপি বুটটি তাই সবার আগে নজর কাড়ে।
গোলাপি রঙের এই আধিপত্য মোটেও কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। বড় ব্র্যান্ডগুলো কোনো পণ্য বাজারে ছাড়ার আগে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করে থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারে ট্রেন্ড কী হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে কাজ করে ডব্লিউজিএসএন (WGSN)-এর মতো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে গোলাপি ও বেগুনি ঘরানার রঙগুলো আধিপত্য বিস্তার করবে। আর প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিক দুই বছর আগে থেকেই সেই পূর্বাভাস মাথায় রেখে তাদের বুটের নকশা চূড়ান্ত করতে শুরু করে।
আজকের ফুটবল কেবল ৯০ মিনিটের খেলা নয়, এটি ফ্যাশন স্টেটমেন্টও বটে। মাঠে ফুটবলাররা যখন বল নিয়ে কারিকুরি করেন, তখন তাদের পায়ে থাকা এই গোলাপি বুটগুলো ক্যামেরার লেন্সকে বারবার নিজেদের দিকে টেনে নেয়। সব মিলিয়ে, গোলাপি রঙের এই ট্রেন্ড একদিকে যেমন নিখুঁত ব্যবসায়িক কৌশলের ফসল, তেমনি এটি আধুনিক ফুটবলের গ্ল্যামারের এক উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ।
গোল হজম করেও দমে যায়নি এশিয়ান জায়ান্টরা; ওহ হিউয়ান-গিউর শেষ মুহূর্তের জাদুতে চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
গুয়াদালাহারার মাঠে এদিন শুরু থেকেই আক্রমণের পসরা সাজিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। কিন্তু ফুটবলের অদ্ভুত নিয়মে সব সময় সুন্দর ফুটবল গোল উপহার দেয় না। একের পর এক আক্রমণ করেও প্রথমার্ধে জালের দেখা পায়নি কোরিয়ানরা। উল্টো ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে স্রোতের বিপরীতে গোল খেয়ে বসে তারা। চেক প্রজাতন্ত্রের অধিনায়ক লাদিস্লাভ ক্রেইচির হেডে যখন স্কোরবোর্ড ১-০ হলো, তখন অনেকেই হয়তো ভেবেছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার দিনটি আজ ভালো যাবে না।
কিন্তু এশিয়ান জায়ান্টরা যে সহজে হার মানার পাত্র নয়, তা প্রমাণ করতে সময় নিল মাত্র ৮ মিনিট। ৬৭তম মিনিটে দলকে ম্যাচে ফেরান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হোয়াং ইন-বম। সমতায় ফেরার পর দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ৭৮তম মিনিটে চেক প্রজাতন্ত্রের তমাশ সুচেকের গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হওয়ায় হাফ ছেড়ে বাঁচে কোরিয়া। এরপরই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ৮০তম মিনিটে হোয়াং ইন-বমের বাড়িয়ে দেওয়া দারুণ এক ক্রস থেকে বল জালে জড়িয়ে কোরিয়ান সমর্থকদের উল্লাসে ভাসান বেসিকতাস ফরোয়ার্ড ওহ হিউয়ান-গিউ।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে দক্ষিণ কোরিয়ার এটি অষ্টম জয়। মজার ব্যাপার হলো, এই অষ্টম জয়ের মধ্যে চারবারই তারা প্রথমে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েছিল। অর্থাৎ চাপের মুখে ঘুরে দাঁড়ানো যেন তাদের রক্তে মিশে গেছে। গোলরক্ষক কিম সুং-গিউর শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত এক সেভ না থাকলে হয়তো জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারতো না কোরিয়া।
হারলেও চেক প্রজাতন্ত্রের লড়াই ছিল প্রশংসনীয়। তবে শেষ পর্যন্ত গুয়াদালাহারার রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছে কোরিয়ানরা। গ্রুপ ‘এ’-এর এই লড়াইয়ে ২-১ ব্যবধানের জয়টি তাদের পরের রাউন্ডের পথে এক ধাপ এগিয়ে দিল। আগামী ১৮ জুন মেক্সিকোর বিপক্ষে পরবর্তী পরীক্ষায় নামবে দক্ষিণ কোরিয়া। একই দিনে চেক প্রজাতন্ত্র লড়বে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল স্বাগতিক মেক্সিকো; রুদ্ধশ্বাস এই ম্যাচে দেখা মিলল রেকর্ড তিন লাল কার্ডের।
১৯৩০ সাল থেকে শুরু হওয়া ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ যাত্রায় মেক্সিকোর জন্য উদ্বোধনী ম্যাচ ছিল যেন এক অদৃশ্য বাধা, এক দীর্ঘদিনের ‘অভিশাপ’। গত সাতবারের চেষ্টায় একবারও জয় না পাওয়া মেক্সিকানরা এবার আজতেকা স্টেডিয়ামে সেই ইতিহাস বদলে দিল। ঘরের মাঠে ৮৩ হাজার দর্শকের উত্তাল গর্জন আর সমর্থকদের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা নিয়ে খেলতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেল তারা।
ম্যাচ শুরুর ৯ মিনিটের মাথায় জুলিয়ান কিনয়োনেসের গোলে যে উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছিল গ্যালারিতে, তা পুরো ম্যাচজুড়েই বজায় ছিল। প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও বল আটকাতে পারেননি, যা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের ইতিহাসে তৃতীয় দ্রুততম গোল। এই গোলের পর মেক্সিকোর ফুটবলাররা যেন আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয় স্বাগতিকরা। ৬৬ মিনিটে মাত্র ১৭ বছর ২৪০ দিন বয়সী গিলবার্তো মোরাকে মাঠে নামিয়ে মেক্সিকো নতুন ইতিহাস গড়ে। এর এক মিনিট পরেই রাউল হিমিনেজের দারুণ এক হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। আলভারাদোর নিখুঁত পাস থেকে করা এই গোলের পর হিমিনেজের চোখে ছিল আনন্দের জল, আর গ্যালারিতে তখন সবুজের জয়গান।
তবে খেলার মাঠের পারফরম্যান্স ছাপিয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কার্ডের ছড়াছড়ি। ম্যাচে রেফারি মোট তিনবার লাল কার্ড বের করেছেন, যা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের ইতিহাসে নতুন এক রেকর্ড। ৫০ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার স্ফেফেলো সিথোলে এবং ৮৪ মিনিটে থেম্বা জেওয়ানে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে আফ্রিকান দলটি একপ্রকার অসহায় হয়ে পড়ে। মেক্সিকোর সেন্টার ব্যাক সেজার মন্তেস অবশ্য যোগ করা সময়ে লাল কার্ড দেখে সেই জয়ের আনন্দের সমাপ্তি কিছুটা ম্লান করেছেন। ৯ জনের দলে পরিণত হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এই জয় মেক্সিকোর জন্য এক বড় স্বস্তি ও প্রেরণা হয়ে থাকল।
‘ওয়েলকাম টু মেক্সিকো’—এই সহজ ২ শব্দের গভীর আহ্বানেই শুরু হলো ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎসব। মেক্সিকোর ঐতিহাসিক এস্তাদিও বানোর্তে স্টেডিয়ামে আয়োজনটি ছিল সংক্ষিপ্ত, তবে প্রতিটি মুহূর্ত ছিল প্রাণবন্ত। কোনো বাড়তি জাঁকজমক নয়, বরং মেক্সিকান ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির এক দারুণ মিশেলে বিশ্বকে ফুটবলীয় ঐক্যের মন্ত্র শোনালো এবারের আসর।
অনুষ্ঠানের মূল সুর ছিল মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধন। সঞ্চালকের কথায় ফুটে উঠল মেক্সিকোর আতিথেয়তা, “আমরা কেবল একটি দেশ নই, আমরা বৈচিত্র্যের এক মেলবন্ধন। ফুটবল আমাদের একসূত্রে গাঁথে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেয় ভালোবাসার বার্তা।”
স্টেডিয়ামের মাঝখানে ঘুরতে থাকা বিশ্বকাপ ট্রফির বিশাল প্রতিকৃতি আর নৃত্যশিল্পীদের ছন্দময় পারফরম্যান্স যেন পুরো মাঠকে রূপ দিয়েছিল এক রঙিন ক্যানভাসে।
সংগীতের জাদুতে দর্শকদের মুগ্ধতা বাড়াতে মঞ্চে আসেন ভেনেজুয়েলার তারকা ড্যানি ওশান। তাকে অনেকেই ‘ভেনেজুয়েলার জাস্টিন বিবার’ বলে চেনেন। তবে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে ওঠে যখন পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরা এবং নাইজেরিয়ান শিল্পী বার্না বয় একসঙ্গে কণ্ঠ মেলান। বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘দাই দাই’-এর সুরের মূর্ছনায় স্টেডিয়ামের হাজারো দর্শক যেন মুহূর্তেই একাত্ম হয়ে যায়। তাদের পাশাপাশি জে বালভিন, টাইলা, আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ কিংবা বেলিন্দাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে পূর্ণতা দেয়।
ইতালিয়ান নির্মাতা মার্কো বালিচের পরিকল্পনায় প্রতিটি পরিবেশনায় ছিল মেক্সিকোর নিজস্ব শিল্পকলা ‘পাপেল পিকাদো’-এর ছাপ। সংস্কৃতির নান্দনিক এই উপস্থাপনা দর্শকদের মনে গেঁথে থাকবে অনেকদিন।
বর্ণিল এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়ে যায় মাঠের আসল লড়াই। মেক্সিকো আর দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠল ২০২৬ বিশ্বকাপের। প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ফুটবল বিশ্ব এখন এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হতে চলেছে।
2.png)
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
ফুটবলের দুনিয়ায় বুট বা কিটের ডিজাইন স্রেফ কোনো শখের বিষয় নয়; এটি এখন বিশাল এক বাণিজ্যের অংশ। নাইকি, অ্যাডিডাস কিংবা পুমার মতো বড় বড় ব্র্যান্ডগুলো এবার যেন অলিখিত এক সমঝোতায় পৌঁছেছে। তাদের লক্ষ্য একটাই—মাঠের সবুজ ঘাসের সঙ্গে এমন কোনো রঙ ব্যবহার করা যা টেলিভিশনের পর্দায় কিংবা গ্যালারি থেকে দর্শকদের চোখে মুহূর্তেই ধরা দেয়। আর এই ‘ইলেকট্রিক ফুশিয়া’ বা গোলাপি-বেগুনি মিশ্রিত রঙের আভা সবুজের বিপরীতে দারুণ এক বৈপরীত্য (Contrast) তৈরি করে। ফ্লাডলাইটের নিচে কিংবা স্লো-মোশন রিপ্লেতে গোলাপি বুটটি তাই সবার আগে নজর কাড়ে।
গোলাপি রঙের এই আধিপত্য মোটেও কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। বড় ব্র্যান্ডগুলো কোনো পণ্য বাজারে ছাড়ার আগে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করে থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারে ট্রেন্ড কী হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে কাজ করে ডব্লিউজিএসএন (WGSN)-এর মতো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে গোলাপি ও বেগুনি ঘরানার রঙগুলো আধিপত্য বিস্তার করবে। আর প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিক দুই বছর আগে থেকেই সেই পূর্বাভাস মাথায় রেখে তাদের বুটের নকশা চূড়ান্ত করতে শুরু করে।
আজকের ফুটবল কেবল ৯০ মিনিটের খেলা নয়, এটি ফ্যাশন স্টেটমেন্টও বটে। মাঠে ফুটবলাররা যখন বল নিয়ে কারিকুরি করেন, তখন তাদের পায়ে থাকা এই গোলাপি বুটগুলো ক্যামেরার লেন্সকে বারবার নিজেদের দিকে টেনে নেয়। সব মিলিয়ে, গোলাপি রঙের এই ট্রেন্ড একদিকে যেমন নিখুঁত ব্যবসায়িক কৌশলের ফসল, তেমনি এটি আধুনিক ফুটবলের গ্ল্যামারের এক উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ।
2.png)