সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 রাজনীতিরাজনীতি

বাজেটকে 'পুষ্টিহীন চানাচুর' মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনা নাহিদ ইসলামের

প্রস্তাবিত বাজেটকে অবাস্তব ও ঋণনির্ভর আখ্যা দিয়ে ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের অভাব নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধী দলের চিফ হুইপ।

বাজেটকে 'পুষ্টিহীন চানাচুর' মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনা নাহিদ ইসলামের
ছবি -সংগৃহীত

"বাজেটটা অনেকটা চানাচুরের মতো; দেখতে সুন্দর, খেতেও ভালো লাগবে, কিন্তু এর কোনো পুষ্টি নেই।" বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের কাছে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে ঠিক এভাবেই নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার মতে, প্রস্তাবিত এই বাজেট উচ্চাভিলাষী এবং বাস্তবতা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়নের কথা শুনতে খুব সুন্দর লাগলেও বাজেটের গভীরে বাস্তব কোনো পদক্ষেপের ছাপ নেই। ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ কিংবা পাচার হওয়া অর্থ ফেরতের কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে পাওয়া যায়নি। বাজেট কাঠামোয় বিদেশি ঋণের বোঝা এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা প্রবল, যা দেশের অর্থনীতির মৌলিক কোনো পরিবর্তনের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না।

ব্যাংকিং খাতে দলীয়করণ ও রাজনীতিকরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি ইসলামী ব্যাংকের উদাহরণ টেনে বলেন, আস্থার জায়গা তৈরি হওয়ার বদলে আমানতকারীদের মধ্যে অনাস্থা আরও বাড়ছে। এস আলম গ্রুপের হাতে ব্যাংকটি আবারও তুলে দেওয়ার যে প্রক্রিয়া চলছে, তা পুরো ব্যাংকিং খাতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে বলে সতর্ক করেন তিনি। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, সরকার আর্থিক খাতে রাজনৈতিক বিবেচনা না রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও, বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানে বিতর্কিত নিয়োগ তার উল্টোটাই প্রমাণ করে।

নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, অর্থনৈতিক সংস্কার কখনোই রাজনৈতিক সংস্কার থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। দুদকের সংস্কার বা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত না করে বড় বাজেটের আড়ালে দুর্নীতির সুযোগই তৈরি হবে। তার মতে, এই সরকারের রাজনৈতিক সংস্কারের কমিটমেন্ট এখন পর্যন্ত শূন্য। সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করে এই বাজেট শুধু কাগুজে উন্নয়নই নিয়ে আসবে, বাস্তবে দেশের মানুষের কোনো উপকারে আসবে না বলে মন্তব্য করেন এনসিপি আহ্বায়ক।

বিষয় : নাহিদ ইসলাম প্রস্তাবিত বাজেট

বাজেটকে 'পুষ্টিহীন চানাচুর' মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনা নাহিদ ইসলামের
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬


বাজেটকে 'পুষ্টিহীন চানাচুর' মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনা নাহিদ ইসলামের

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬

featured Image

"বাজেটটা অনেকটা চানাচুরের মতো; দেখতে সুন্দর, খেতেও ভালো লাগবে, কিন্তু এর কোনো পুষ্টি নেই।" বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের কাছে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে ঠিক এভাবেই নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার মতে, প্রস্তাবিত এই বাজেট উচ্চাভিলাষী এবং বাস্তবতা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়নের কথা শুনতে খুব সুন্দর লাগলেও বাজেটের গভীরে বাস্তব কোনো পদক্ষেপের ছাপ নেই। ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ কিংবা পাচার হওয়া অর্থ ফেরতের কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে পাওয়া যায়নি। বাজেট কাঠামোয় বিদেশি ঋণের বোঝা এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা প্রবল, যা দেশের অর্থনীতির মৌলিক কোনো পরিবর্তনের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না।

ব্যাংকিং খাতে দলীয়করণ ও রাজনীতিকরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি ইসলামী ব্যাংকের উদাহরণ টেনে বলেন, আস্থার জায়গা তৈরি হওয়ার বদলে আমানতকারীদের মধ্যে অনাস্থা আরও বাড়ছে। এস আলম গ্রুপের হাতে ব্যাংকটি আবারও তুলে দেওয়ার যে প্রক্রিয়া চলছে, তা পুরো ব্যাংকিং খাতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে বলে সতর্ক করেন তিনি। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, সরকার আর্থিক খাতে রাজনৈতিক বিবেচনা না রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও, বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানে বিতর্কিত নিয়োগ তার উল্টোটাই প্রমাণ করে।

নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, অর্থনৈতিক সংস্কার কখনোই রাজনৈতিক সংস্কার থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। দুদকের সংস্কার বা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত না করে বড় বাজেটের আড়ালে দুর্নীতির সুযোগই তৈরি হবে। তার মতে, এই সরকারের রাজনৈতিক সংস্কারের কমিটমেন্ট এখন পর্যন্ত শূন্য। সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করে এই বাজেট শুধু কাগুজে উন্নয়নই নিয়ে আসবে, বাস্তবে দেশের মানুষের কোনো উপকারে আসবে না বলে মন্তব্য করেন এনসিপি আহ্বায়ক।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত