সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 অর্থনীতিঅর্থনীতি

অর্থনীতির নতুন মাইলফলক: জিডিপি ৫০০ ও মাথাপিছু আয় ৩০০০ ডলার ছাড়াল

প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশে; সরকার ঘোষিত ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে অর্ধেক পথ পাড়ি দিল বাংলাদেশ।

অর্থনীতির নতুন মাইলফলক: জিডিপি ৫০০ ও মাথাপিছু আয় ৩০০০ ডলার ছাড়াল
ছবি -সংগৃহীত

দেশের অর্থনীতির খাতা আজ এক নতুন মাইলফলকের সাক্ষী হলো। প্রথমবারের মতো মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ৫০০ বিলিয়ন ডলারের সীমানা পেরিয়ে দাঁড়িয়েছে ৫০১ বিলিয়ন ডলারে। সেই সাথে জনজীবনে স্বস্তির বারতা নিয়ে মাথাপিছু আয়ও স্পর্শ করেছে ৩ হাজার ২০ ডলারের রেকর্ড উচ্চতা। বুধবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দেওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সাময়িক হিসাবে অর্থনীতির এই ইতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরের ব্যবধানে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ২৫১ ডলার। আগের অর্থবছরে যা ছিল ২ হাজার ৭৬৯ ডলার, তা এখন ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকার সমতুল্য। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের বছর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যেখানে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কিছুটা থমকে গিয়ে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে এসেছিল, এবার তা ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এই প্রবৃদ্ধি অর্জনে কৃষি ও সেবা খাত মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করলেও, শিল্প খাতের ধীরগতি এখনো উদ্বেগের জায়গা হয়ে রয়েছে।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ২০৩৪ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশে পরিণত করার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, আজকের এই পরিসংখ্যান সেই দীর্ঘপথের অর্ধেক অতিক্রম করার জানান দিচ্ছে। তবে অর্থনীতির এই বড় আকারের পেছনের সূচকগুলো পুরোপুরি ঝকঝকে নয়। বিবিএসের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জিডিপির অনুপাতে সরকারি ও বেসরকারি—দুই ধরনের বিনিয়োগই আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। বিশেষ করে বেসরকারি বিনিয়োগের হার দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৫৩ শতাংশে, যা বিগত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

মাথাপিছু আয় মানেই যে প্রতিটি মানুষের পকেটে সমান অর্থ আসছে, তা নয়—এটি একটি গড় হিসাবমাত্র। দেশের অভ্যন্তরের আয় ও প্রবাসী আয়সহ সামগ্রিক জাতীয় আয়ের সমষ্টিকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলেই মেলে এই পরিসংখ্যান। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত তিন বছর ধরেই মানুষের গড় মাথাপিছু আয়ের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। কিন্তু অর্থনীতির এই বড় আয়োজনের সঙ্গে বিনিয়োগের খরা কাটানোই এখন নীতিনির্ধারকদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


বিষয় : প্রবৃদ্ধি জিডিপি মাথাপিছু আয়

অর্থনীতির নতুন মাইলফলক: জিডিপি ৫০০ ও মাথাপিছু আয় ৩০০০ ডলার ছাড়াল
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


অর্থনীতির নতুন মাইলফলক: জিডিপি ৫০০ ও মাথাপিছু আয় ৩০০০ ডলার ছাড়াল

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

featured Image

দেশের অর্থনীতির খাতা আজ এক নতুন মাইলফলকের সাক্ষী হলো। প্রথমবারের মতো মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ৫০০ বিলিয়ন ডলারের সীমানা পেরিয়ে দাঁড়িয়েছে ৫০১ বিলিয়ন ডলারে। সেই সাথে জনজীবনে স্বস্তির বারতা নিয়ে মাথাপিছু আয়ও স্পর্শ করেছে ৩ হাজার ২০ ডলারের রেকর্ড উচ্চতা। বুধবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দেওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সাময়িক হিসাবে অর্থনীতির এই ইতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরের ব্যবধানে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ২৫১ ডলার। আগের অর্থবছরে যা ছিল ২ হাজার ৭৬৯ ডলার, তা এখন ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকার সমতুল্য। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের বছর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যেখানে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কিছুটা থমকে গিয়ে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে এসেছিল, এবার তা ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এই প্রবৃদ্ধি অর্জনে কৃষি ও সেবা খাত মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করলেও, শিল্প খাতের ধীরগতি এখনো উদ্বেগের জায়গা হয়ে রয়েছে।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ২০৩৪ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশে পরিণত করার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, আজকের এই পরিসংখ্যান সেই দীর্ঘপথের অর্ধেক অতিক্রম করার জানান দিচ্ছে। তবে অর্থনীতির এই বড় আকারের পেছনের সূচকগুলো পুরোপুরি ঝকঝকে নয়। বিবিএসের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জিডিপির অনুপাতে সরকারি ও বেসরকারি—দুই ধরনের বিনিয়োগই আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। বিশেষ করে বেসরকারি বিনিয়োগের হার দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৫৩ শতাংশে, যা বিগত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

মাথাপিছু আয় মানেই যে প্রতিটি মানুষের পকেটে সমান অর্থ আসছে, তা নয়—এটি একটি গড় হিসাবমাত্র। দেশের অভ্যন্তরের আয় ও প্রবাসী আয়সহ সামগ্রিক জাতীয় আয়ের সমষ্টিকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলেই মেলে এই পরিসংখ্যান। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত তিন বছর ধরেই মানুষের গড় মাথাপিছু আয়ের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। কিন্তু অর্থনীতির এই বড় আয়োজনের সঙ্গে বিনিয়োগের খরা কাটানোই এখন নীতিনির্ধারকদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত