সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 বিনোদনবিনোদন

মাত্র তিন বছরে রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন

রুপালি পর্দার শাহেনশাহ থেকে এলাহাবাদের সংসদ সদস্য—রাজনীতির মাঠে অমিতাভ বচ্চনের তিন বছরের সেই বিতর্কিত যাত্রা, যা তাকে আজও তাড়া করে বেড়ায়।

মাত্র তিন বছরে রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন
ছবি -সংগৃহীত

বলিউডের পর্দায় অমিতাভ বচ্চনের দাপটের গল্প তো সবারই জানা। কিন্তু পর্দার বাইরের এক অধ্যায়, যা তিনি নিজেই বর্ণনা করেছেন ‘নরকসম’ বলে—সেটি ছিল তার ১৯৮৪ সালের রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত। মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসে ১৯৮২ সালে ‘কুলি’র শুটিং শেষে যখন গোটা ভারত তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছিল, তখন অমিতাভ ছিলেন দেশের অন্যতম প্রভাবশালী তারকা। সেই জনপ্রিয়তার শিখরে থাকাকালীনই এক আবেগপ্রসূত সিদ্ধান্তে তিনি পা রেখেছিলেন রাজনীতির জটিল ময়দানে। নেহরু-গান্ধী পরিবারের সঙ্গে বচ্চন পরিবারের দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পর্কের টানে এবং বন্ধু রাজীব গান্ধীর অনুরোধে তার সেই রাজনীতিতে আগমন ছিল মূলত অনুভূতির প্রতিফলন, কোনো পরিকল্পিত ক্যারিয়ার লক্ষ্য নয়।

উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদ থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে জয়ী হলেও, রাজনীতির গলিঘুঁজি তার কাছে কখনোই সহজ মনে হয়নি। প্রচারণার শুরু থেকেই নিজের অস্বস্তি টের পাচ্ছিলেন অমিতাভ। একদিকে ছিল মানুষের প্রত্যাশা, আর অন্যদিকে সংসদীয় রাজনীতির চড়াই-উতরাই। এলাহাবাদের মানুষের জন্য চিকিৎসা সেবা কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়নের স্বপ্ন নিয়ে তিনি মাঠে নেমেছিলেন ঠিকই, কিন্তু রাজনৈতিক দলের অন্দরের কূটকৌশল আর ‘বহিরাগত’ তকমা তাকে প্রতিনিয়ত কোণঠাসা করে ফেলছিল। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, ক্যামেরার সামনে অভিনয় আর ক্ষমতার অলিন্দে টিকে থাকা এক নয়।

রাজনীতির সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার চূড়ান্ত আঘাতটি আসে ১৯৮৭ সালে, যখন বোফর্স কেলেঙ্কারিতে তার ও তার ভাই অজিতাভ বচ্চনের নাম জড়িয়ে পড়ে। যদিও পরবর্তী সময়ে তদন্তে এবং আদালতে এই অভিযোগের কোনো ভিত্তিই পাওয়া যায়নি এবং তাকে ক্লিনচিট দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ততদিনে মিডিয়া ট্রায়াল আর বিতর্ক তার ভাবমূর্তিকে গভীর ক্ষতবিক্ষত করেছে। তিনি অনুভব করেছিলেন, শোবিজের সমালোচনা সামলানোর অভিজ্ঞতা রাজনীতির এই হিংস্র আক্রমণের সামনে কতটা নগণ্য। অবশেষে তিন বছরের মাথায় সংসদ সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করে রাজনীতিকে চিরদিনের জন্য বিদায় জানান তিনি।

তবে সেই রাজনৈতিক অধ্যায়ের রেশ আজও অমিতাভকে তাড়া করে বেড়ায়। তিনি বারবার আক্ষেপ করে বলেছেন, রাজনীতিতে আসা ছিল তার জীবনের এক ভুল সিদ্ধান্ত। এর চেয়েও বড় যন্ত্রণার জায়গা হলো—এলাহাবাদের মানুষের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতিগুলো, যা তিনি পূরণ করতে পারেননি। ক্ষমতার লোভ নয়, বরং সেই অপূর্ণ প্রতিশ্রুতিই যেন আজও তাকে মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার জায়গাটা রুপালি পর্দাই ছিল, রাজনীতির চোরাবালি নয়।


বিষয় : অমিতাভ বচ্চন রাজনীতি

মাত্র তিন বছরে রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


মাত্র তিন বছরে রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image

বলিউডের পর্দায় অমিতাভ বচ্চনের দাপটের গল্প তো সবারই জানা। কিন্তু পর্দার বাইরের এক অধ্যায়, যা তিনি নিজেই বর্ণনা করেছেন ‘নরকসম’ বলে—সেটি ছিল তার ১৯৮৪ সালের রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত। মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসে ১৯৮২ সালে ‘কুলি’র শুটিং শেষে যখন গোটা ভারত তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছিল, তখন অমিতাভ ছিলেন দেশের অন্যতম প্রভাবশালী তারকা। সেই জনপ্রিয়তার শিখরে থাকাকালীনই এক আবেগপ্রসূত সিদ্ধান্তে তিনি পা রেখেছিলেন রাজনীতির জটিল ময়দানে। নেহরু-গান্ধী পরিবারের সঙ্গে বচ্চন পরিবারের দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পর্কের টানে এবং বন্ধু রাজীব গান্ধীর অনুরোধে তার সেই রাজনীতিতে আগমন ছিল মূলত অনুভূতির প্রতিফলন, কোনো পরিকল্পিত ক্যারিয়ার লক্ষ্য নয়।

উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদ থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে জয়ী হলেও, রাজনীতির গলিঘুঁজি তার কাছে কখনোই সহজ মনে হয়নি। প্রচারণার শুরু থেকেই নিজের অস্বস্তি টের পাচ্ছিলেন অমিতাভ। একদিকে ছিল মানুষের প্রত্যাশা, আর অন্যদিকে সংসদীয় রাজনীতির চড়াই-উতরাই। এলাহাবাদের মানুষের জন্য চিকিৎসা সেবা কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়নের স্বপ্ন নিয়ে তিনি মাঠে নেমেছিলেন ঠিকই, কিন্তু রাজনৈতিক দলের অন্দরের কূটকৌশল আর ‘বহিরাগত’ তকমা তাকে প্রতিনিয়ত কোণঠাসা করে ফেলছিল। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, ক্যামেরার সামনে অভিনয় আর ক্ষমতার অলিন্দে টিকে থাকা এক নয়।

রাজনীতির সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার চূড়ান্ত আঘাতটি আসে ১৯৮৭ সালে, যখন বোফর্স কেলেঙ্কারিতে তার ও তার ভাই অজিতাভ বচ্চনের নাম জড়িয়ে পড়ে। যদিও পরবর্তী সময়ে তদন্তে এবং আদালতে এই অভিযোগের কোনো ভিত্তিই পাওয়া যায়নি এবং তাকে ক্লিনচিট দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ততদিনে মিডিয়া ট্রায়াল আর বিতর্ক তার ভাবমূর্তিকে গভীর ক্ষতবিক্ষত করেছে। তিনি অনুভব করেছিলেন, শোবিজের সমালোচনা সামলানোর অভিজ্ঞতা রাজনীতির এই হিংস্র আক্রমণের সামনে কতটা নগণ্য। অবশেষে তিন বছরের মাথায় সংসদ সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করে রাজনীতিকে চিরদিনের জন্য বিদায় জানান তিনি।

তবে সেই রাজনৈতিক অধ্যায়ের রেশ আজও অমিতাভকে তাড়া করে বেড়ায়। তিনি বারবার আক্ষেপ করে বলেছেন, রাজনীতিতে আসা ছিল তার জীবনের এক ভুল সিদ্ধান্ত। এর চেয়েও বড় যন্ত্রণার জায়গা হলো—এলাহাবাদের মানুষের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতিগুলো, যা তিনি পূরণ করতে পারেননি। ক্ষমতার লোভ নয়, বরং সেই অপূর্ণ প্রতিশ্রুতিই যেন আজও তাকে মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার জায়গাটা রুপালি পর্দাই ছিল, রাজনীতির চোরাবালি নয়।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত