বাংলাদেশ
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহ চিত্র দেশজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে। গত ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সাত দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১৩৫ জন। ঈদের আনন্দযাত্রাকে ঘিরে সৃষ্ট এই প্রাণহানি সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই সাত দিনের দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি ছিল মোটরসাইকেলযাত্রীদের জন্য। মোট ৩২টি দুর্ঘটনার মধ্যে ১৫টিই ছিল মোটরসাইকেল সংক্রান্ত, যেখানে ৩২ জন ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। এটি মোট প্রাণহানির ৪০ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ অর্ধেকের কাছাকাছি দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেলে, যা ঈদযাত্রায় গণপরিবহন সংকটের কারণে মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের চিত্রটিই স্পষ্ট করে।
দুর্ঘটনার পেছনে বেশ কিছু কারণ কাজ করেছে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, চালকদের বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং সড়কের বছরব্যাপী অব্যবস্থাপনা এসব দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ঈদ ঘিরে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং মহাসড়কে মোটরসাইকেলের বাড়তি চলাচল প্রাণহানির সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া চালকদের পূর্ব-অভিজ্ঞতার অভাব এবং আইন অমান্য করার প্রবণতাও বড় ভূমিকা রেখেছে।
ঈদুল আজহার এই সময়ের দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল ২৫ মে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ জন শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা। এছাড়া ২৭ মে রাজধানীর নদ্দা নতুন বাজার এলাকায় বাসের ধাক্কায় চারজন নিহত হওয়া এবং ছুটির শেষ দিনে নেত্রকোনায় বাসচাপায় মা ও তার দুই মেয়ের মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে শোক ছড়িয়েছে। একইভাবে বগুড়া, কুষ্টিয়া ও সিলেটের ওসমানীনগরে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অকালে ঝরে গেছে বহু প্রাণ।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান দীর্ঘমেয়াদী ‘সেফটি কালচার’ বা নিরাপত্তা চর্চার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন, সারা বছর সড়কে বিশৃঙ্খলা জিইয়ে রেখে ঈদের সময় রাতারাতি পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়। তিনি ঈদের সময় বিশেষ সতর্কতা ছাড়াও সড়কে মানুষের চাপ কমাতে রেল যোগাযোগের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন এবং সারা বছর কঠোর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
বিষয় : বাংলাদেশ সড়ক দুর্ঘটনা
2.png)
সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহ চিত্র দেশজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে। গত ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সাত দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১৩৫ জন। ঈদের আনন্দযাত্রাকে ঘিরে সৃষ্ট এই প্রাণহানি সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই সাত দিনের দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি ছিল মোটরসাইকেলযাত্রীদের জন্য। মোট ৩২টি দুর্ঘটনার মধ্যে ১৫টিই ছিল মোটরসাইকেল সংক্রান্ত, যেখানে ৩২ জন ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। এটি মোট প্রাণহানির ৪০ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ অর্ধেকের কাছাকাছি দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেলে, যা ঈদযাত্রায় গণপরিবহন সংকটের কারণে মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের চিত্রটিই স্পষ্ট করে।
দুর্ঘটনার পেছনে বেশ কিছু কারণ কাজ করেছে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, চালকদের বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং সড়কের বছরব্যাপী অব্যবস্থাপনা এসব দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ঈদ ঘিরে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং মহাসড়কে মোটরসাইকেলের বাড়তি চলাচল প্রাণহানির সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া চালকদের পূর্ব-অভিজ্ঞতার অভাব এবং আইন অমান্য করার প্রবণতাও বড় ভূমিকা রেখেছে।
ঈদুল আজহার এই সময়ের দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল ২৫ মে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ জন শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা। এছাড়া ২৭ মে রাজধানীর নদ্দা নতুন বাজার এলাকায় বাসের ধাক্কায় চারজন নিহত হওয়া এবং ছুটির শেষ দিনে নেত্রকোনায় বাসচাপায় মা ও তার দুই মেয়ের মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে শোক ছড়িয়েছে। একইভাবে বগুড়া, কুষ্টিয়া ও সিলেটের ওসমানীনগরে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অকালে ঝরে গেছে বহু প্রাণ।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান দীর্ঘমেয়াদী ‘সেফটি কালচার’ বা নিরাপত্তা চর্চার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন, সারা বছর সড়কে বিশৃঙ্খলা জিইয়ে রেখে ঈদের সময় রাতারাতি পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়। তিনি ঈদের সময় বিশেষ সতর্কতা ছাড়াও সড়কে মানুষের চাপ কমাতে রেল যোগাযোগের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন এবং সারা বছর কঠোর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
2.png)