বিনোদন
নিউইয়র্কের আকাশ ছোঁয়া দালানগুলোর ভিড়ে প্রতি বছরের মতো এবারও বসেছিল বিশ্ব বিনোদনের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ আসর ‘মেট গালা’। মে মাসের প্রথম সোমবার মানেই তো ফ্যাশন দুনিয়ার অলিখিত উৎসব। মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অফ আর্ট-এর সিঁড়িতে যখন তারকারা পা রাখলেন, তখন সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের ক্যামেরার ফ্ল্যাশ যেন থমকে গিয়েছিল এক মুহূর্তের জন্য। একে তো আভিজাত্য, তার ওপর শিল্পের এমন অদ্ভুত প্রকাশ—সত্যি বলতে, এই আয়োজনকে স্রেফ একটি পার্টি বললে ভুল হবে; এটি আসলে মানুষের সৃজনশীলতার সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়ার এক লড়াই।
এবারের ২০২৬ সালের আয়োজনে মূল থিমটি ছিল গতানুগতিক ধারার বাইরে একদমই অন্যরকম। আয়োজকদের পক্ষ থেকে যখন ‘টাইমলেস ইকোস: এ ড্যান্স অফ নেচার’ থিমটি ঘোষণা করা হয়, তখন থেকেই ফ্যাশন বিশ্লেষকদের মধ্যে একটা বাড়তি কৌতূহল ছিল। বিষয়টি ছিল মূলত প্রকৃতি এবং সময়ের অবিনশ্বর সম্পর্ক নিয়ে। রেড কার্পেটে যখন একের পর এক তারকা উঠে আসছিলেন, তখন ফুটে উঠছিল পৃথিবী রক্ষা এবং টেকসই ফ্যাশনের এক জোরালো বার্তা। অনেক নামী ডিজাইনার এবার রিসাইকেল করা ফেব্রিক এবং প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি এমন সব পোশাক উপহার দিয়েছেন, যা দেখে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই।
বরাবরের মতোই এই জাদুর কাঠি ছিল ভোগের এডিটর-ইন-চিফ অ্যানা উইন্টুরের হাতে। তার কঠোর তত্ত্ববধান আর নিখুঁত পরিকল্পনায় মেট গালা এবারও প্রমাণ করে দিয়েছে কেন একে ফ্যাশনের ‘অস্কার’ বলা হয়। হলিউড থেকে শুরু করে সংগীত জগত, এমনকি এবার এশীয় অঞ্চলের কয়েকজন প্রভাবশালী তারকার উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদের প্রত্যেকের পোশাকের ভাঁজে যেন মিশে ছিল একেকটি গল্প। কেউ হয়তো ফুটিয়ে তুলেছেন সমুদ্রের তলদেশের রহস্য, আবার কেউ শরীরী ভাষায় প্রকাশ করেছেন বিলুপ্তপ্রায় অরণ্যের হাহাকার।
তবে মেট গালার আসল গাম্ভীর্য শুধু ঝলমলে পোশাকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি মূলত কস্টিউম ইনস্টিটিউটের জন্য বড় অঙ্কের তহবিল সংগ্রহের একটি মাধ্যম। প্রথাগতভাবে সংবাদমাধ্যমগুলোতে যেমনটি উঠে এসেছে, এবার তহবিলের পরিমাণ অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের এই রাতটি শুধু ফ্যাশন বা গ্ল্যামারের জন্য নয়, বরং সচেতনতা আর শিল্পের এক মার্জিত বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই ইতিহাসে জায়গা করে নেবে। দিনের শেষে মেট গালা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ফ্যাশন শুধু পরার জন্য নয়, অনুভব করার জন্যও।
বিষয় : মেটগালা

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
নিউইয়র্কের আকাশ ছোঁয়া দালানগুলোর ভিড়ে প্রতি বছরের মতো এবারও বসেছিল বিশ্ব বিনোদনের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ আসর ‘মেট গালা’। মে মাসের প্রথম সোমবার মানেই তো ফ্যাশন দুনিয়ার অলিখিত উৎসব। মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অফ আর্ট-এর সিঁড়িতে যখন তারকারা পা রাখলেন, তখন সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের ক্যামেরার ফ্ল্যাশ যেন থমকে গিয়েছিল এক মুহূর্তের জন্য। একে তো আভিজাত্য, তার ওপর শিল্পের এমন অদ্ভুত প্রকাশ—সত্যি বলতে, এই আয়োজনকে স্রেফ একটি পার্টি বললে ভুল হবে; এটি আসলে মানুষের সৃজনশীলতার সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়ার এক লড়াই।
এবারের ২০২৬ সালের আয়োজনে মূল থিমটি ছিল গতানুগতিক ধারার বাইরে একদমই অন্যরকম। আয়োজকদের পক্ষ থেকে যখন ‘টাইমলেস ইকোস: এ ড্যান্স অফ নেচার’ থিমটি ঘোষণা করা হয়, তখন থেকেই ফ্যাশন বিশ্লেষকদের মধ্যে একটা বাড়তি কৌতূহল ছিল। বিষয়টি ছিল মূলত প্রকৃতি এবং সময়ের অবিনশ্বর সম্পর্ক নিয়ে। রেড কার্পেটে যখন একের পর এক তারকা উঠে আসছিলেন, তখন ফুটে উঠছিল পৃথিবী রক্ষা এবং টেকসই ফ্যাশনের এক জোরালো বার্তা। অনেক নামী ডিজাইনার এবার রিসাইকেল করা ফেব্রিক এবং প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি এমন সব পোশাক উপহার দিয়েছেন, যা দেখে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই।
বরাবরের মতোই এই জাদুর কাঠি ছিল ভোগের এডিটর-ইন-চিফ অ্যানা উইন্টুরের হাতে। তার কঠোর তত্ত্ববধান আর নিখুঁত পরিকল্পনায় মেট গালা এবারও প্রমাণ করে দিয়েছে কেন একে ফ্যাশনের ‘অস্কার’ বলা হয়। হলিউড থেকে শুরু করে সংগীত জগত, এমনকি এবার এশীয় অঞ্চলের কয়েকজন প্রভাবশালী তারকার উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদের প্রত্যেকের পোশাকের ভাঁজে যেন মিশে ছিল একেকটি গল্প। কেউ হয়তো ফুটিয়ে তুলেছেন সমুদ্রের তলদেশের রহস্য, আবার কেউ শরীরী ভাষায় প্রকাশ করেছেন বিলুপ্তপ্রায় অরণ্যের হাহাকার।
তবে মেট গালার আসল গাম্ভীর্য শুধু ঝলমলে পোশাকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি মূলত কস্টিউম ইনস্টিটিউটের জন্য বড় অঙ্কের তহবিল সংগ্রহের একটি মাধ্যম। প্রথাগতভাবে সংবাদমাধ্যমগুলোতে যেমনটি উঠে এসেছে, এবার তহবিলের পরিমাণ অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের এই রাতটি শুধু ফ্যাশন বা গ্ল্যামারের জন্য নয়, বরং সচেতনতা আর শিল্পের এক মার্জিত বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই ইতিহাসে জায়গা করে নেবে। দিনের শেষে মেট গালা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ফ্যাশন শুধু পরার জন্য নয়, অনুভব করার জন্যও।
