মতামত
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন সবথেকে আলোচিত নাম শুভেন্দু অধিকারী। বাংলাদেশের মানুষের কাছেও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি সবসময়ই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে, আর সেই রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে শুভেন্দু এক রহস্যময় অথচ প্রভাবশালী চরিত্র। একসময় যাকে ভাবা হতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ্য উত্তরসূরি, আজ তিনিই ‘দিদি’র ঘুম কেড়ে নেওয়া প্রধান প্রতিপক্ষ। ২০০৭ সালে নন্দীগ্রামের সেই রক্তাক্ত জমি আন্দোলনে মমতার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করা শুভেন্দু আজ নিজেই সেই চেনা দুর্গের দেয়াল ধসিয়ে দিতে মরিয়া।
শুভেন্দুর এই বদলে যাওয়ার গল্পটা বেশ নাটকীয়। প্রায় দুই দশক তৃণমূলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে ছিলেন তিনি। পরিবহন ও সেচ দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন দক্ষতার সাথে। কিন্তু ক্ষমতার অন্দরে যে মান-অভিমানের পাহাড় জমেছিল, তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে। অমিত শাহের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়ে তিনি কেবল দলবদলই করেননি, বরং বাংলার রাজনীতির চিরচেনা মেরুকরণটাই ওলটপালট করে দিয়েছেন। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রামের মাটিতে পরাজিত করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, মাঠের রাজনীতিতে তাঁর লড়াইটা কেবল শখের নয়, বরং অস্তিত্ব রক্ষার।
শুভেন্দু যদি শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আবির্ভূত হন, তবে এর প্রভাব কেবল ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বাংলাদেশের জন্যও এই পরিবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি থেকে শুরু করে সীমান্ত বাণিজ্য—প্রতিটি ক্ষেত্রে দিল্লির সাথে ঢাকার যে দরকষাকষি চলে, তাতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা থাকে অপরিসীম। মমতার দীর্ঘদিনের অনড় অবস্থানের বিপরীতে শুভেন্দু ক্ষমতায় এলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে এখনই চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
আসলে রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই—এই প্রবাদটিই যেন শুভেন্দুর ক্ষেত্রে বারবার সত্য হয়ে উঠছে। একসময়ের পরম আস্থার পাত্র যখন ঘোর শত্রুতে পরিণত হয়, তখন সেই লড়াইটা কেবল নীতি-আদর্শের থাকে না, তা হয়ে ওঠে ব্যক্তিগত দম্ভ আর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াই। দক্ষিণবঙ্গের মেঠোপথে শুভেন্দুর যে নিজস্ব জনভিত্তি রয়েছে, তাকে পুঁজি করেই তিনি এখন নবান্নের দখল নিতে চান। শেষ পর্যন্ত বাংলার মানুষ কার ওপর আস্থা রাখবেন—চেনা দিদি নাকি তাঁর এককালের তুখোড় সেনাপতি? এই উত্তরের ওপরই নির্ভর করছে দুই বাংলার সম্পর্কের আগামীর মানচিত্র।
2.png)
শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন সবথেকে আলোচিত নাম শুভেন্দু অধিকারী। বাংলাদেশের মানুষের কাছেও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি সবসময়ই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে, আর সেই রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে শুভেন্দু এক রহস্যময় অথচ প্রভাবশালী চরিত্র। একসময় যাকে ভাবা হতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ্য উত্তরসূরি, আজ তিনিই ‘দিদি’র ঘুম কেড়ে নেওয়া প্রধান প্রতিপক্ষ। ২০০৭ সালে নন্দীগ্রামের সেই রক্তাক্ত জমি আন্দোলনে মমতার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করা শুভেন্দু আজ নিজেই সেই চেনা দুর্গের দেয়াল ধসিয়ে দিতে মরিয়া।
শুভেন্দুর এই বদলে যাওয়ার গল্পটা বেশ নাটকীয়। প্রায় দুই দশক তৃণমূলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে ছিলেন তিনি। পরিবহন ও সেচ দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন দক্ষতার সাথে। কিন্তু ক্ষমতার অন্দরে যে মান-অভিমানের পাহাড় জমেছিল, তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে। অমিত শাহের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়ে তিনি কেবল দলবদলই করেননি, বরং বাংলার রাজনীতির চিরচেনা মেরুকরণটাই ওলটপালট করে দিয়েছেন। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রামের মাটিতে পরাজিত করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, মাঠের রাজনীতিতে তাঁর লড়াইটা কেবল শখের নয়, বরং অস্তিত্ব রক্ষার।
শুভেন্দু যদি শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আবির্ভূত হন, তবে এর প্রভাব কেবল ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বাংলাদেশের জন্যও এই পরিবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি থেকে শুরু করে সীমান্ত বাণিজ্য—প্রতিটি ক্ষেত্রে দিল্লির সাথে ঢাকার যে দরকষাকষি চলে, তাতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা থাকে অপরিসীম। মমতার দীর্ঘদিনের অনড় অবস্থানের বিপরীতে শুভেন্দু ক্ষমতায় এলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে এখনই চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
আসলে রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই—এই প্রবাদটিই যেন শুভেন্দুর ক্ষেত্রে বারবার সত্য হয়ে উঠছে। একসময়ের পরম আস্থার পাত্র যখন ঘোর শত্রুতে পরিণত হয়, তখন সেই লড়াইটা কেবল নীতি-আদর্শের থাকে না, তা হয়ে ওঠে ব্যক্তিগত দম্ভ আর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াই। দক্ষিণবঙ্গের মেঠোপথে শুভেন্দুর যে নিজস্ব জনভিত্তি রয়েছে, তাকে পুঁজি করেই তিনি এখন নবান্নের দখল নিতে চান। শেষ পর্যন্ত বাংলার মানুষ কার ওপর আস্থা রাখবেন—চেনা দিদি নাকি তাঁর এককালের তুখোড় সেনাপতি? এই উত্তরের ওপরই নির্ভর করছে দুই বাংলার সম্পর্কের আগামীর মানচিত্র।
2.png)