সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 মতামতমতামত

মমতার শিষ্য থেকে প্রতিপক্ষ: শুভেন্দুর ক্ষমতা দখলের লড়াই

তৃণমূলের অন্দরে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হওয়া সেই শুভেন্দু অধিকারীই কি তবে নবান্নের মসনদে মমতার উত্তরসূরি? দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সখ্যতা কাটিয়ে এখন তিনি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দেওয়ার প্রধান কারিগর।

মমতার শিষ্য থেকে প্রতিপক্ষ: শুভেন্দুর ক্ষমতা দখলের লড়াই
ছবি -সংগৃহীত

রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই—এই বহু পুরনো আপ্তবাক্যটিই যেন বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ধ্রুবসত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে শুভেন্দু অধিকারী একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন, যার কাঁধে ভর করে নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলন সফল হয়েছিল, আজ তিনিই দিদির প্রধান প্রতিপক্ষ। এককালের বিশ্বস্ত সেনাপতি এখন রণক্ষেত্রে নামছেন খোদ নেত্রীর আসনটি টলিয়ে দিতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু যদি শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আবির্ভূত হন, তবে তা হবে রাজ্যের ইতিহাসের এক বিশাল বাঁকবদল।

​শুভেন্দুর এই দীর্ঘ পথপরিক্রমা বেশ নাটকীয়। ১৯৯৮ সাল থেকে দীর্ঘ দুই দশক তিনি ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের অপরিহার্য অংশ। ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পরিবহন এবং সেচ ও জলসম্পদ দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। মমতার অতি ঘনিষ্ঠ এই নেতা কেন এবং কীভাবে দূরত্ব তৈরি করলেন, তা আজও বাংলার রাজনীতির অলিগলিতে আলোচনার মূল খোরাক। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে যখন তিনি তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ ত্যাগ করে অমিত শাহের উপস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দিলেন, তখনই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে তিনি কেবল দল বদলাননি, বদলে দিয়েছেন রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনীতির মেরুকরণ।

​বিজেপির ঝাণ্ডা তলে শুভেন্দুর এই উত্থান এবং গেরুয়া শিবিরের শাসন প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা রাজ্যের নীতিগত কাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর প্রভাব শুধু পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, তিস্তা চুক্তি কিংবা সীমান্ত বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এক নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের রাজনীতিতে শুভেন্দুর যে নিজস্ব জনভিত্তি ও সাংগঠনিক দক্ষতা রয়েছে, তাকে পুঁজি করেই তিনি এখন পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছেন।

​মিত্র যখন ঘোর শত্রুতে পরিণত হয়, তখন লড়াইটা কেবল রাজনৈতিক থাকে না, তা হয়ে ওঠে অস্তিত্বের এবং ব্যক্তিগত দম্ভের। ক্ষমতার অলিন্দে কার শেষ হাসি ফুটবে—দিদি নাকি তাঁর প্রাক্তন শিষ্য? এই প্রশ্নের উত্তরই এখন নির্ধারণ করবে পশ্চিমবঙ্গের আগামী দিনের মানচিত্র। শুভেন্দুর এই রাজকীয় উত্থান প্রমাণ করছে যে, সময়ের স্রোতে রাজনীতির পুরনো বন্ধুত্বের চেয়ে ক্ষমতার নতুন লক্ষ্যই অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

বিষয় : মমতা শুভেন্দু

কাল মহাকাল

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬


মমতার শিষ্য থেকে প্রতিপক্ষ: শুভেন্দুর ক্ষমতা দখলের লড়াই

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

featured Image

রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই—এই বহু পুরনো আপ্তবাক্যটিই যেন বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ধ্রুবসত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে শুভেন্দু অধিকারী একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন, যার কাঁধে ভর করে নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলন সফল হয়েছিল, আজ তিনিই দিদির প্রধান প্রতিপক্ষ। এককালের বিশ্বস্ত সেনাপতি এখন রণক্ষেত্রে নামছেন খোদ নেত্রীর আসনটি টলিয়ে দিতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু যদি শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আবির্ভূত হন, তবে তা হবে রাজ্যের ইতিহাসের এক বিশাল বাঁকবদল।

​শুভেন্দুর এই দীর্ঘ পথপরিক্রমা বেশ নাটকীয়। ১৯৯৮ সাল থেকে দীর্ঘ দুই দশক তিনি ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের অপরিহার্য অংশ। ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পরিবহন এবং সেচ ও জলসম্পদ দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। মমতার অতি ঘনিষ্ঠ এই নেতা কেন এবং কীভাবে দূরত্ব তৈরি করলেন, তা আজও বাংলার রাজনীতির অলিগলিতে আলোচনার মূল খোরাক। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে যখন তিনি তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ ত্যাগ করে অমিত শাহের উপস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দিলেন, তখনই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে তিনি কেবল দল বদলাননি, বদলে দিয়েছেন রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনীতির মেরুকরণ।

​বিজেপির ঝাণ্ডা তলে শুভেন্দুর এই উত্থান এবং গেরুয়া শিবিরের শাসন প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা রাজ্যের নীতিগত কাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর প্রভাব শুধু পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, তিস্তা চুক্তি কিংবা সীমান্ত বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এক নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের রাজনীতিতে শুভেন্দুর যে নিজস্ব জনভিত্তি ও সাংগঠনিক দক্ষতা রয়েছে, তাকে পুঁজি করেই তিনি এখন পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছেন।

​মিত্র যখন ঘোর শত্রুতে পরিণত হয়, তখন লড়াইটা কেবল রাজনৈতিক থাকে না, তা হয়ে ওঠে অস্তিত্বের এবং ব্যক্তিগত দম্ভের। ক্ষমতার অলিন্দে কার শেষ হাসি ফুটবে—দিদি নাকি তাঁর প্রাক্তন শিষ্য? এই প্রশ্নের উত্তরই এখন নির্ধারণ করবে পশ্চিমবঙ্গের আগামী দিনের মানচিত্র। শুভেন্দুর এই রাজকীয় উত্থান প্রমাণ করছে যে, সময়ের স্রোতে রাজনীতির পুরনো বন্ধুত্বের চেয়ে ক্ষমতার নতুন লক্ষ্যই অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত