সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

১৫ লাখ ডোজ হাম-রুবেলা টিকা এলো দেশে

টিকা সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠার আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আগামী ১০ মে আরও এক কোটি ৮ লাখ ডোজ আসবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

১৫ লাখ ডোজ হাম-রুবেলা টিকা এলো দেশে
ছবি -সংগৃহীত

টিকা সংকট নিয়ে উদ্বেগের অবসান ঘটিয়ে বুধবার (৬ মে) ইউনিসেফের পক্ষ থেকে ১৫ লাখ ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেশে এসে পৌঁছেছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে এই চালান গ্রহণ শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেছেন, দেশে এই মুহূর্তে টিকার কোনো ঘাটতি নেই এবং ভবিষ্যতেও স্টক সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।

আজকের চালানের পাশাপাশি ৯ হাজার টিডি-টিটাস সিরিজের টিকাও হাতে পেয়েছে দেশ। মন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে এই কার্যক্রম নিয়মিত ধারায় চলবে এবং প্রতি সপ্তাহেই নতুন টিকার চালান আসতে থাকবে।

আরও একটি বড় খবর দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আগামী ১০ মে এক কোটি ৮ লাখ ডোজ টিকা—যার মধ্যে রয়েছে এমআর, টিডি, বিসিজি, ওপিভি ও পেন্টাভ্যালেন্ট—দেশে আসবে এবং সেগুলো সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত হবে। সরকারের পরিকল্পনা হলো, সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করে একটি শক্তিশালী বাফার স্টক গড়ে তোলা।

এই সাফল্যের পেছনে ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্যাভি ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ভূমিকার কথা স্বীকার করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী।

গত মাসের ৪ তারিখ থেকে শুরু হওয়া টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি জানান, ইতোমধ্যে ৯৩ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শতভাগ লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলা সম্ভব হবে।

হাম মোকাবিলার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাস্তবসম্মত একটি কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, টিকা নেওয়ার পর শরীরে সুরক্ষা তৈরি হতে তিন থেকে চার সপ্তাহ লেগে যায়। তাই তাৎক্ষণিকভাবে রোগ নিয়ন্ত্রণ না হলেও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

সম্ভাব্য রোগী বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে হাসপাতালগুলোতে শয্যা প্রস্তুত রাখার কথা জানান তিনি। ঢাকায় একটি বড় অডিটোরিয়ামে অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরি করে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন দেখা দিলে দ্রুত মোবাইল হাসপাতাল স্থাপন করা যাবে। চিকিৎসক, নার্স ও সব ধরনের সরঞ্জাম প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন সরদার মো. সাখাওয়াত।

অতীতে টিকা সংকটের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, মজুত না থাকা এবং নিয়মিত ক্যাম্পেইন না চালানোই ছিল মূল সমস্যা। তবে বর্তমান সরকারের উদ্যোগ আর প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সেই অবস্থা কাটিয়ে ওঠা গেছে বলে তিনি মনে করেন।

গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করতেও ভোলেননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ইতিবাচক প্রচারণার ফলে জনসচেতনতা বেড়েছে এবং টিকাদান কার্যক্রম সফলতার মুখ দেখেছে।

বিষয় : হাম টিকা

কাল মহাকাল

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬


১৫ লাখ ডোজ হাম-রুবেলা টিকা এলো দেশে

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

featured Image

টিকা সংকট নিয়ে উদ্বেগের অবসান ঘটিয়ে বুধবার (৬ মে) ইউনিসেফের পক্ষ থেকে ১৫ লাখ ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেশে এসে পৌঁছেছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে এই চালান গ্রহণ শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেছেন, দেশে এই মুহূর্তে টিকার কোনো ঘাটতি নেই এবং ভবিষ্যতেও স্টক সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।

আজকের চালানের পাশাপাশি ৯ হাজার টিডি-টিটাস সিরিজের টিকাও হাতে পেয়েছে দেশ। মন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে এই কার্যক্রম নিয়মিত ধারায় চলবে এবং প্রতি সপ্তাহেই নতুন টিকার চালান আসতে থাকবে।

আরও একটি বড় খবর দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আগামী ১০ মে এক কোটি ৮ লাখ ডোজ টিকা—যার মধ্যে রয়েছে এমআর, টিডি, বিসিজি, ওপিভি ও পেন্টাভ্যালেন্ট—দেশে আসবে এবং সেগুলো সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত হবে। সরকারের পরিকল্পনা হলো, সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করে একটি শক্তিশালী বাফার স্টক গড়ে তোলা।

এই সাফল্যের পেছনে ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্যাভি ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ভূমিকার কথা স্বীকার করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী।

গত মাসের ৪ তারিখ থেকে শুরু হওয়া টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি জানান, ইতোমধ্যে ৯৩ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শতভাগ লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলা সম্ভব হবে।

হাম মোকাবিলার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাস্তবসম্মত একটি কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, টিকা নেওয়ার পর শরীরে সুরক্ষা তৈরি হতে তিন থেকে চার সপ্তাহ লেগে যায়। তাই তাৎক্ষণিকভাবে রোগ নিয়ন্ত্রণ না হলেও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

সম্ভাব্য রোগী বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে হাসপাতালগুলোতে শয্যা প্রস্তুত রাখার কথা জানান তিনি। ঢাকায় একটি বড় অডিটোরিয়ামে অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরি করে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন দেখা দিলে দ্রুত মোবাইল হাসপাতাল স্থাপন করা যাবে। চিকিৎসক, নার্স ও সব ধরনের সরঞ্জাম প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন সরদার মো. সাখাওয়াত।

অতীতে টিকা সংকটের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, মজুত না থাকা এবং নিয়মিত ক্যাম্পেইন না চালানোই ছিল মূল সমস্যা। তবে বর্তমান সরকারের উদ্যোগ আর প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সেই অবস্থা কাটিয়ে ওঠা গেছে বলে তিনি মনে করেন।

গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করতেও ভোলেননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ইতিবাচক প্রচারণার ফলে জনসচেতনতা বেড়েছে এবং টিকাদান কার্যক্রম সফলতার মুখ দেখেছে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত