আন্তর্জাতিক
ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য দেশের নিরাপত্তা এবং ভূ-রাজনীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশেও নাকি হামাসের কার্যক্রমের অস্তিত্ব রয়েছে। এই দাবি সত্য কি মিথ্যা—তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও, এটি দেশের অভ্যন্তরে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অবাধ বিচরণ ও তৎপরতার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, হামাসের উপস্থিতি থাকুক বা না থাকুক, মোসাদ কিংবা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র' (RAW)-এর মতো বিদেশি শক্তির সক্রিয়তা এ দেশে নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্যের আড়ালে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পারস্পরিক যোগসাজশ ও গোপন মিশনের ইঙ্গিতই বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
গোয়েন্দা সক্ষমতার ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ এবার আরও জোরালো হয়েছে। এর বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের উত্থানকে। জঙ্গল সলিমপুরের মতো স্থানীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী যখন দিনের পর দিন নিজেদের সাম্রাজ্য বিস্তার করে, তখন সে সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্যের অভাব বা আগাম বার্তা না পাওয়াটা আমাদের প্রশাসনিক দুর্বলতাকেই নির্দেশ করে। দেশের ভেতরের ছোটখাটো অপরাধী চক্র সম্পর্কে যেখানে আগাম তথ্য থাকছে না, সেখানে মোসাদ বা 'র'-এর মতো আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যে এদেশে আরও বড় কোনো মিশন পরিচালনার সুযোগ নিতে পারে, সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এতে গুপ্তহত্যার মতো স্পর্শকাতর ঘটনা ঘটার ঝুঁকিও থেকে যায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। দেশের গোয়েন্দা সংস্থাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে তুলে এনে পেশাদার ও উচ্চপ্রশিক্ষিত বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। কারণ, জাতীয় নিরাপত্তার প্রথম রক্ষাকবচ হলো নির্ভুল গোয়েন্দা তথ্য ও তাৎক্ষণিক সক্ষমতা। একই সঙ্গে দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পেশাদারিত্ব নিয়ে যে বিতর্ক বা আলোচনা রয়েছে, তা নিয়েও সরকারের সতর্ক অবস্থান জরুরি।
ভারত ও ইসরায়েলের মতো দেশগুলোর ভূ-রাজনৈতিক কৌশল এবং বাংলাদেশে তাদের প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা—সব মিলিয়ে সরকার এখন এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কোনোভাবেই শৈথিল্য দেখানোর সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের 'হিট লিস্টে' রাখতে হবে এবং প্রতিটি গোয়েন্দা সংস্থা যেন দালালমুক্ত ও দেশপ্রেমের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে কাজ করে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
2.png)
শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য দেশের নিরাপত্তা এবং ভূ-রাজনীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশেও নাকি হামাসের কার্যক্রমের অস্তিত্ব রয়েছে। এই দাবি সত্য কি মিথ্যা—তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও, এটি দেশের অভ্যন্তরে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অবাধ বিচরণ ও তৎপরতার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, হামাসের উপস্থিতি থাকুক বা না থাকুক, মোসাদ কিংবা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র' (RAW)-এর মতো বিদেশি শক্তির সক্রিয়তা এ দেশে নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্যের আড়ালে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পারস্পরিক যোগসাজশ ও গোপন মিশনের ইঙ্গিতই বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
গোয়েন্দা সক্ষমতার ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ এবার আরও জোরালো হয়েছে। এর বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের উত্থানকে। জঙ্গল সলিমপুরের মতো স্থানীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী যখন দিনের পর দিন নিজেদের সাম্রাজ্য বিস্তার করে, তখন সে সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্যের অভাব বা আগাম বার্তা না পাওয়াটা আমাদের প্রশাসনিক দুর্বলতাকেই নির্দেশ করে। দেশের ভেতরের ছোটখাটো অপরাধী চক্র সম্পর্কে যেখানে আগাম তথ্য থাকছে না, সেখানে মোসাদ বা 'র'-এর মতো আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যে এদেশে আরও বড় কোনো মিশন পরিচালনার সুযোগ নিতে পারে, সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এতে গুপ্তহত্যার মতো স্পর্শকাতর ঘটনা ঘটার ঝুঁকিও থেকে যায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। দেশের গোয়েন্দা সংস্থাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে তুলে এনে পেশাদার ও উচ্চপ্রশিক্ষিত বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। কারণ, জাতীয় নিরাপত্তার প্রথম রক্ষাকবচ হলো নির্ভুল গোয়েন্দা তথ্য ও তাৎক্ষণিক সক্ষমতা। একই সঙ্গে দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পেশাদারিত্ব নিয়ে যে বিতর্ক বা আলোচনা রয়েছে, তা নিয়েও সরকারের সতর্ক অবস্থান জরুরি।
ভারত ও ইসরায়েলের মতো দেশগুলোর ভূ-রাজনৈতিক কৌশল এবং বাংলাদেশে তাদের প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা—সব মিলিয়ে সরকার এখন এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কোনোভাবেই শৈথিল্য দেখানোর সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের 'হিট লিস্টে' রাখতে হবে এবং প্রতিটি গোয়েন্দা সংস্থা যেন দালালমুক্ত ও দেশপ্রেমের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে কাজ করে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
2.png)