সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 বাংলাদেশবাংলাদেশ

প্রতিমন্ত্রীর নামেই স্কুলের নামকরণ নিয়ে বিতর্ক, নিজের নাম জড়াতে নারাজ মীর শাহে আলম

বগুড়ার শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব ঘিরে তোলপাড়। বিতর্ক এড়াতে নিজের নাম প্রত্যাহার করতে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

প্রতিমন্ত্রীর নামেই স্কুলের নামকরণ নিয়ে বিতর্ক, নিজের নাম জড়াতে নারাজ মীর শাহে আলম
ছবি -সংগৃহীত

বগুড়ার শিবগঞ্জের ৫৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়’। এই নাম বদলে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নামে প্রতিষ্ঠানটির নতুন নামকরণের আবেদন ঘিরে এলাকায় চলছে জোর বিতর্ক। একদিকে বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ, অন্যদিকে সেই উদ্যোগ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রতিমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন বিদ্যালয়টির অ্যাডহক কমিটি নাম পরিবর্তনের এই প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ও বগুড়ার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়।

তবে নিজের নামে নাম পরিবর্তনের বিষয়টি মোটেও ভালোভাবে নেননি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বিষয়টি জানার পর ১ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে তিনি একটি আধা সরকারি (ডিও) পত্র পাঠান। সেই পত্রে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, তার অগোচরে বা স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় অনেকে তার নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব পাঠাচ্ছেন, যা তার কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি ঐতিহ্যবাহী কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের চেয়ে তার স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখাকেই অধিকতর সমীচীন বলে মনে করেন।

প্রতিমন্ত্রী তার পত্রে আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, অতীতে নিজের উদ্যোগে বা পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার বাইরে নিজের বা পরিবারের সদস্যদের নামে নতুন কোনো নামকরণের প্রস্তাব গ্রহণ না করার জন্য তিনি মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি অন্তত ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।

অন্যদিকে, নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবটি স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান জানান, স্থানীয় মরহুম রফিক উদ্দিন প্রামাণিক ও মরহুম মুছা চৌধুরীর মতো শিক্ষানুরাগীদের দান করা জমিতে গড়ে ওঠা এই স্কুলের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। অতীতে অনেক সভাপতি আসলেও এমন নাম পরিবর্তনের চেষ্টা কেউ কখনো করেননি।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম জানান, ৯২৪ জন শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়ে প্রতিমন্ত্রীর অবদান অনস্বীকার্য। তার প্রচেষ্টায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে এবং বর্তমানে স্কুলটি জাতীয়করণের প্রক্রিয়া চলছে। শিক্ষকদের দাবি, শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিমন্ত্রীর বিশেষ ভূমিকার কারণে কৃতজ্ঞতাস্বরূপ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এই নামকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

প্রধান শিক্ষক আরও দাবি করেছেন, প্রতিমন্ত্রীর আপত্তির কথা জানতে পেরে ১১ জুন মন্ত্রণালয়কে আরেকটি চিঠি দিয়ে এই প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে সেই চিঠির কোনো অনুলিপি এখনো জনসম্মুখে আসেনি।

ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন হওয়া উচিত, নাকি দীর্ঘদিনের নাম ও সুনাম অটুট রাখা বাঞ্ছনীয়—এখন সেই প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে।

বগুড়ার শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য নাম পরিবর্তন না করে অন্য কোনোভাবে প্রতিমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বিকল্প কোনো উপায় কি থাকতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

বিষয় : শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মীর শাহে আলম

প্রতিমন্ত্রীর নামেই স্কুলের নামকরণ নিয়ে বিতর্ক, নিজের নাম জড়াতে নারাজ মীর শাহে আলম
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬


প্রতিমন্ত্রীর নামেই স্কুলের নামকরণ নিয়ে বিতর্ক, নিজের নাম জড়াতে নারাজ মীর শাহে আলম

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬

featured Image

বগুড়ার শিবগঞ্জের ৫৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়’। এই নাম বদলে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নামে প্রতিষ্ঠানটির নতুন নামকরণের আবেদন ঘিরে এলাকায় চলছে জোর বিতর্ক। একদিকে বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ, অন্যদিকে সেই উদ্যোগ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রতিমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন বিদ্যালয়টির অ্যাডহক কমিটি নাম পরিবর্তনের এই প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ও বগুড়ার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়।

তবে নিজের নামে নাম পরিবর্তনের বিষয়টি মোটেও ভালোভাবে নেননি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বিষয়টি জানার পর ১ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে তিনি একটি আধা সরকারি (ডিও) পত্র পাঠান। সেই পত্রে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, তার অগোচরে বা স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় অনেকে তার নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব পাঠাচ্ছেন, যা তার কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি ঐতিহ্যবাহী কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের চেয়ে তার স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখাকেই অধিকতর সমীচীন বলে মনে করেন।

প্রতিমন্ত্রী তার পত্রে আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, অতীতে নিজের উদ্যোগে বা পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার বাইরে নিজের বা পরিবারের সদস্যদের নামে নতুন কোনো নামকরণের প্রস্তাব গ্রহণ না করার জন্য তিনি মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি অন্তত ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।

অন্যদিকে, নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবটি স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান জানান, স্থানীয় মরহুম রফিক উদ্দিন প্রামাণিক ও মরহুম মুছা চৌধুরীর মতো শিক্ষানুরাগীদের দান করা জমিতে গড়ে ওঠা এই স্কুলের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। অতীতে অনেক সভাপতি আসলেও এমন নাম পরিবর্তনের চেষ্টা কেউ কখনো করেননি।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম জানান, ৯২৪ জন শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়ে প্রতিমন্ত্রীর অবদান অনস্বীকার্য। তার প্রচেষ্টায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে এবং বর্তমানে স্কুলটি জাতীয়করণের প্রক্রিয়া চলছে। শিক্ষকদের দাবি, শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিমন্ত্রীর বিশেষ ভূমিকার কারণে কৃতজ্ঞতাস্বরূপ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এই নামকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

প্রধান শিক্ষক আরও দাবি করেছেন, প্রতিমন্ত্রীর আপত্তির কথা জানতে পেরে ১১ জুন মন্ত্রণালয়কে আরেকটি চিঠি দিয়ে এই প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে সেই চিঠির কোনো অনুলিপি এখনো জনসম্মুখে আসেনি।

ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন হওয়া উচিত, নাকি দীর্ঘদিনের নাম ও সুনাম অটুট রাখা বাঞ্ছনীয়—এখন সেই প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে।

বগুড়ার শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য নাম পরিবর্তন না করে অন্য কোনোভাবে প্রতিমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বিকল্প কোনো উপায় কি থাকতে পারে বলে আপনি মনে করেন?


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত