বাংলাদেশ
বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের নামে গঠিত বিতর্কিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় নবগঠিত ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম বাতিলের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই খবরে স্থানীয় জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ ও অস্বস্তি কেটে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি সরকারি চিঠি জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পৌঁছায়। বিষয়টি নিশ্চিত করে বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ফোন করে তাকে নাম পরিবর্তনের নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, স্থানীয় জনগণের মতামত গ্রহণ করে এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক পরিচিতিকে গুরুত্ব দিয়ে যেন ইউনিয়নগুলোর জন্য নতুন নাম প্রস্তাব করা হয়। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনকে দ্রুত গণশুনানি আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর যথাযথ প্রক্রিয়ায় তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
সম্প্রতি শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলা পুনর্গঠনের সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলে ও পৈতৃক বাড়ির নামে এই ইউনিয়নগুলোর নামকরণ করা হয়েছিল। এছাড়া প্রতিমন্ত্রীর এক আত্মীয়ের নামে ‘স্বর্ণগ্রাম’ নামেও একটি ইউনিয়ন গঠন করা হয়। এসব নামকরণের খবর জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। এমনকি বিষয়টি জাতীয় সংসদ পর্যন্ত গড়িয়েছিল।
তবে সরকারি নতুন এই নির্দেশনায় ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়নটির বিষয়ে স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধির জন্য প্রতিষ্ঠানের নামকরণ না করে এলাকার গৌরবময় ইতিহাসের প্রতিফলন ঘটে—এমন নামই রাখা হোক।
এদিকে, নিজের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণের বিতর্কের রেশ না কাটতেই প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নিজেই এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। গত ১ জুন তিনি শিক্ষা সচিবের কাছে ডিও লেটার পাঠিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই তার বা তার পরিবারের কারো নামে যেন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণ না করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, তার অগোচরে বা অতি উৎসাহী মহলের স্বার্থসিদ্ধির কারণে এমন বিতর্কিত নামকরণের অপচেষ্টা করা হয়েছিল। শনিবার বিকেলে প্রতিমন্ত্রী জানান, ইউনিয়নগুলোর নাম পরিবর্তনের সরকারি সিদ্ধান্তের পর তিনি বিষয়টি নিয়ে আর কোনো বিতর্ক বা সমালোচনা চান না। প্রশাসনের এমন পদক্ষেপে এলাকার মানুষ এখন ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক গুরুত্বের ভিত্তিতে ইউনিয়নগুলোর নতুন নামকরণের অপেক্ষায় আছেন।
2.png)
শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের নামে গঠিত বিতর্কিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় নবগঠিত ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম বাতিলের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই খবরে স্থানীয় জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ ও অস্বস্তি কেটে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি সরকারি চিঠি জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পৌঁছায়। বিষয়টি নিশ্চিত করে বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ফোন করে তাকে নাম পরিবর্তনের নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, স্থানীয় জনগণের মতামত গ্রহণ করে এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক পরিচিতিকে গুরুত্ব দিয়ে যেন ইউনিয়নগুলোর জন্য নতুন নাম প্রস্তাব করা হয়। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনকে দ্রুত গণশুনানি আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর যথাযথ প্রক্রিয়ায় তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
সম্প্রতি শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলা পুনর্গঠনের সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলে ও পৈতৃক বাড়ির নামে এই ইউনিয়নগুলোর নামকরণ করা হয়েছিল। এছাড়া প্রতিমন্ত্রীর এক আত্মীয়ের নামে ‘স্বর্ণগ্রাম’ নামেও একটি ইউনিয়ন গঠন করা হয়। এসব নামকরণের খবর জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। এমনকি বিষয়টি জাতীয় সংসদ পর্যন্ত গড়িয়েছিল।
তবে সরকারি নতুন এই নির্দেশনায় ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়নটির বিষয়ে স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধির জন্য প্রতিষ্ঠানের নামকরণ না করে এলাকার গৌরবময় ইতিহাসের প্রতিফলন ঘটে—এমন নামই রাখা হোক।
এদিকে, নিজের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণের বিতর্কের রেশ না কাটতেই প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নিজেই এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। গত ১ জুন তিনি শিক্ষা সচিবের কাছে ডিও লেটার পাঠিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই তার বা তার পরিবারের কারো নামে যেন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণ না করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, তার অগোচরে বা অতি উৎসাহী মহলের স্বার্থসিদ্ধির কারণে এমন বিতর্কিত নামকরণের অপচেষ্টা করা হয়েছিল। শনিবার বিকেলে প্রতিমন্ত্রী জানান, ইউনিয়নগুলোর নাম পরিবর্তনের সরকারি সিদ্ধান্তের পর তিনি বিষয়টি নিয়ে আর কোনো বিতর্ক বা সমালোচনা চান না। প্রশাসনের এমন পদক্ষেপে এলাকার মানুষ এখন ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক গুরুত্বের ভিত্তিতে ইউনিয়নগুলোর নতুন নামকরণের অপেক্ষায় আছেন।
2.png)