ইসলাম ও জীবন
জীবনের কোনো কোনো ধাপে মানুষ যখন চরম নিঃসঙ্গতায় নিমজ্জিত হয়, চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন বোধ করে কিংবা দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রহর গোনে, তখন মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয় যে, হয়তো সৃষ্টিকর্তাও তাকে ভুলে গেছেন। হতাশার এমন ঘনঘোর অন্ধকারে মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তির পরশ হয়ে আসে পবিত্র কুরআনের অনন্য কিছু বাণী। পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলা সুরা আদ-দুহার ৩ নম্বর আয়াতে নবী করিম (সা.)-কে লক্ষ্য করে ইরশাদ করেছেন, ‘তোমার রব তোমাকে ত্যাগ করেননি এবং তিনি তোমার প্রতি অসন্তুষ্টও নন।’ এই আয়াতটি কেবল নবীজির জন্য সান্ত্বনা ছিল না, বরং কিয়ামত পর্যন্ত প্রতিটি ব্যথিত ও ক্লান্ত হৃদয়ের জন্য এটি এক শাশ্বত আশ্বাস।
মুমিনের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কোনো না কোনো পরীক্ষায় ঘেরা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বারংবার আশ্বস্ত করেছেন যে, কষ্টের সাথেই স্বস্তি বিদ্যমান। সুরা আলাম নাশরাহর ৫ ও ৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি।’ এই দ্বিমুখী আশ্বাস এটাই প্রমাণ করে যে, কোনো সংকটই চিরস্থায়ী নয়; প্রতিটি কঠিন সময়ের পরেই অবধারিতভাবে আলোর দেখা মিলবে। হাদিসের বর্ণনায় এসেছে, মুমিনের জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতিই তার জন্য কল্যাণকর। যদি সে সুখে থাকে তবে কৃতজ্ঞতায় রত থাকে, আর দুঃখে থাকলে ধৈর্যের মাধ্যমে নিজের মর্যাদা বাড়িয়ে নেয়।
আল্লাহ সম্পর্কে বান্দার ধারণা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিসে কুদসিতে উল্লেখ করেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমার বান্দা আমার সম্পর্কে যেমন ধারণা পোষণ করে, আমি তার সাথে তেমনই আচরণ করি।’ তাই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সৃষ্টিকর্তার দয়া ও পরিকল্পনার ওপর আস্থা হারানো উচিত নয়। হয়তো আমাদের কোনো চাওয়া তাৎক্ষণিক পূরণ হচ্ছে না, কিন্তু এর পেছনে মহান রবের কোনো উত্তম ফয়সালা সংরক্ষিত রয়েছে।
কখনো যদি মনে হয় আপনি একা হয়ে গেছেন, দোয়ার উত্তর পেতে দেরি হচ্ছে কিংবা পথ চলা কঠিন হয়ে পড়েছে, তবে মনে রাখবেন—আপনি পরীক্ষার মধ্যে থাকতে পারেন, কিন্তু পরিত্যক্ত নন। আল্লাহ আপনাকে দেখছেন, শুনছেন এবং আপনার জন্য সর্বোত্তম সময়টি নির্ধারণ করে রেখেছেন। হতাশার পরিবর্তে তাঁর অসীম রহমতের ওপর ভরসা করাই মুমিনের প্রকৃত বৈশিষ্ট্য। আজকের ভারাক্রান্ত হৃদয়ে কেবল এই বিশ্বাসটুকু ধারণ করুন যে, অন্ধকার যত গভীরই হোক না কেন, আপনার রব আপনাকে ছেড়ে যাননি। তাঁর প্রতি এই অবিচল বিশ্বাসই জীবনের সব হতাশা কাটিয়ে নতুন করে বাঁচার প্রেরণা জোগাবে।
2.png)
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
জীবনের কোনো কোনো ধাপে মানুষ যখন চরম নিঃসঙ্গতায় নিমজ্জিত হয়, চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন বোধ করে কিংবা দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রহর গোনে, তখন মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয় যে, হয়তো সৃষ্টিকর্তাও তাকে ভুলে গেছেন। হতাশার এমন ঘনঘোর অন্ধকারে মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তির পরশ হয়ে আসে পবিত্র কুরআনের অনন্য কিছু বাণী। পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলা সুরা আদ-দুহার ৩ নম্বর আয়াতে নবী করিম (সা.)-কে লক্ষ্য করে ইরশাদ করেছেন, ‘তোমার রব তোমাকে ত্যাগ করেননি এবং তিনি তোমার প্রতি অসন্তুষ্টও নন।’ এই আয়াতটি কেবল নবীজির জন্য সান্ত্বনা ছিল না, বরং কিয়ামত পর্যন্ত প্রতিটি ব্যথিত ও ক্লান্ত হৃদয়ের জন্য এটি এক শাশ্বত আশ্বাস।
মুমিনের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কোনো না কোনো পরীক্ষায় ঘেরা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বারংবার আশ্বস্ত করেছেন যে, কষ্টের সাথেই স্বস্তি বিদ্যমান। সুরা আলাম নাশরাহর ৫ ও ৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি।’ এই দ্বিমুখী আশ্বাস এটাই প্রমাণ করে যে, কোনো সংকটই চিরস্থায়ী নয়; প্রতিটি কঠিন সময়ের পরেই অবধারিতভাবে আলোর দেখা মিলবে। হাদিসের বর্ণনায় এসেছে, মুমিনের জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতিই তার জন্য কল্যাণকর। যদি সে সুখে থাকে তবে কৃতজ্ঞতায় রত থাকে, আর দুঃখে থাকলে ধৈর্যের মাধ্যমে নিজের মর্যাদা বাড়িয়ে নেয়।
আল্লাহ সম্পর্কে বান্দার ধারণা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিসে কুদসিতে উল্লেখ করেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমার বান্দা আমার সম্পর্কে যেমন ধারণা পোষণ করে, আমি তার সাথে তেমনই আচরণ করি।’ তাই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সৃষ্টিকর্তার দয়া ও পরিকল্পনার ওপর আস্থা হারানো উচিত নয়। হয়তো আমাদের কোনো চাওয়া তাৎক্ষণিক পূরণ হচ্ছে না, কিন্তু এর পেছনে মহান রবের কোনো উত্তম ফয়সালা সংরক্ষিত রয়েছে।
কখনো যদি মনে হয় আপনি একা হয়ে গেছেন, দোয়ার উত্তর পেতে দেরি হচ্ছে কিংবা পথ চলা কঠিন হয়ে পড়েছে, তবে মনে রাখবেন—আপনি পরীক্ষার মধ্যে থাকতে পারেন, কিন্তু পরিত্যক্ত নন। আল্লাহ আপনাকে দেখছেন, শুনছেন এবং আপনার জন্য সর্বোত্তম সময়টি নির্ধারণ করে রেখেছেন। হতাশার পরিবর্তে তাঁর অসীম রহমতের ওপর ভরসা করাই মুমিনের প্রকৃত বৈশিষ্ট্য। আজকের ভারাক্রান্ত হৃদয়ে কেবল এই বিশ্বাসটুকু ধারণ করুন যে, অন্ধকার যত গভীরই হোক না কেন, আপনার রব আপনাকে ছেড়ে যাননি। তাঁর প্রতি এই অবিচল বিশ্বাসই জীবনের সব হতাশা কাটিয়ে নতুন করে বাঁচার প্রেরণা জোগাবে।
2.png)