খেলা
কানসাস সিটি স্টেডিয়ামের ৭৭ হাজার দর্শক আজ সাক্ষী হলেন এক আবেগঘন মুহূর্তের। বিশ্বকাপের আসরে লিওনেল মেসির ‘শেষের কবিতার’ শুরুর মঞ্চ এটি। গ্যালারিতে যখন বিচ্ছেদী সুর আর আবেগের অশ্রু ভাসছিল, তখন মাঠের ভেতরে মেসি যেন সব সংশয় উড়িয়ে দিয়ে নিজের চিরচেনা ফুটবল-কবিতা লিখতে শুরু করলেন। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে আর্জেন্টিনা বুঝিয়ে দিল, বিশ্বজয়ের ক্ষুধা এখনো কমেনি বিন্দুমাত্র।
ম্যাচের শুরুটা ছিল যেন এক ভ্রান্তিবিলাসের মহড়া। ৫ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের গোল অফসাইডে বাতিল হওয়ার পর আলজেরিয়াও একবার জালের দেখা পেয়েছিল, কিন্তু সেটিও টেকেনি। দুই দলের এমন দোদুল্যমান পরিস্থিতির মাঝেই মেসি তাঁর জাদুকরী বাঁ পায়ের জাদু দেখাতে শুরু করলেন। রদ্রিগো দি পলের কাছ থেকে বল পেয়ে মাঝমাঠ থেকে সেই ট্রেডমার্ক দৌড়—আলজেরিয়ার বক্সের মাথায় গিয়ে মেসির নেওয়া জোরালো শট লুকা জিদানকে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়। গ্যালারিতে তখন উল্লাসের জোয়ার।
বিরতির পর মেসি যেন আরও ধারালো হয়ে উঠলেন। ৬০ মিনিটে আলেক্সিস ম্যাক-আলিস্টারের শট আলজেরিয়ার গোলরক্ষক ঠিকমতো আটকাতে না পারলে বলটি পেয়ে যান মেসি। আলতো এক টোকায় বল জালে জড়িয়ে তিনি নিজের দ্বিতীয় গোলটি তুলে নেন। তবে ম্যাচের সেরা কাব্যটি লেখা বাকি ছিল তখনও। ৩৮ বছর বয়সেও যে তিনি আগের মতোই অপ্রতিরোধ্য, তার প্রমাণ পাওয়া গেল ৭৬ মিনিটে। নিকো গঞ্জালেসের সাথে ওয়ান-টু খেলে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া সেই বাঁকানো শট যখন জালে জড়াল, তখন কেবল আলজেরিয়ার গোলপোস্টই নয়, সিক্ত হলো ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়।
ম্যাচ শেষে মেসি যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, তখন গ্যালারির হাজার হাজার দর্শক দাঁড়িয়ে সম্মান (স্ট্যান্ডিং অভেশন) জানালেন এই কিংবদন্তিকে। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপের শুরুতেই এমন হ্যাটট্রিক যেন এক অনন্য প্রাপ্তি। বিশ্বকাপে মেসির এমন উদ্যাপন দেখার সুযোগ হয়তো ফুরিয়ে আসছে, কিন্তু তার ফুটবল-কবিতার প্রতিটি লাইন আজও একইভাবে মুগ্ধ করছে কোটি ভক্তকে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই জয় আর্জেন্টিনার জন্য যেমন আত্মবিশ্বাসের রসদ, তেমনি মেসির ভক্তদের জন্য এক অনবদ্য স্মৃতি।
বিষয় : জাদুকর মেসি হ্যাটট্রিক
2.png)
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
কানসাস সিটি স্টেডিয়ামের ৭৭ হাজার দর্শক আজ সাক্ষী হলেন এক আবেগঘন মুহূর্তের। বিশ্বকাপের আসরে লিওনেল মেসির ‘শেষের কবিতার’ শুরুর মঞ্চ এটি। গ্যালারিতে যখন বিচ্ছেদী সুর আর আবেগের অশ্রু ভাসছিল, তখন মাঠের ভেতরে মেসি যেন সব সংশয় উড়িয়ে দিয়ে নিজের চিরচেনা ফুটবল-কবিতা লিখতে শুরু করলেন। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে আর্জেন্টিনা বুঝিয়ে দিল, বিশ্বজয়ের ক্ষুধা এখনো কমেনি বিন্দুমাত্র।
ম্যাচের শুরুটা ছিল যেন এক ভ্রান্তিবিলাসের মহড়া। ৫ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের গোল অফসাইডে বাতিল হওয়ার পর আলজেরিয়াও একবার জালের দেখা পেয়েছিল, কিন্তু সেটিও টেকেনি। দুই দলের এমন দোদুল্যমান পরিস্থিতির মাঝেই মেসি তাঁর জাদুকরী বাঁ পায়ের জাদু দেখাতে শুরু করলেন। রদ্রিগো দি পলের কাছ থেকে বল পেয়ে মাঝমাঠ থেকে সেই ট্রেডমার্ক দৌড়—আলজেরিয়ার বক্সের মাথায় গিয়ে মেসির নেওয়া জোরালো শট লুকা জিদানকে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়। গ্যালারিতে তখন উল্লাসের জোয়ার।
বিরতির পর মেসি যেন আরও ধারালো হয়ে উঠলেন। ৬০ মিনিটে আলেক্সিস ম্যাক-আলিস্টারের শট আলজেরিয়ার গোলরক্ষক ঠিকমতো আটকাতে না পারলে বলটি পেয়ে যান মেসি। আলতো এক টোকায় বল জালে জড়িয়ে তিনি নিজের দ্বিতীয় গোলটি তুলে নেন। তবে ম্যাচের সেরা কাব্যটি লেখা বাকি ছিল তখনও। ৩৮ বছর বয়সেও যে তিনি আগের মতোই অপ্রতিরোধ্য, তার প্রমাণ পাওয়া গেল ৭৬ মিনিটে। নিকো গঞ্জালেসের সাথে ওয়ান-টু খেলে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া সেই বাঁকানো শট যখন জালে জড়াল, তখন কেবল আলজেরিয়ার গোলপোস্টই নয়, সিক্ত হলো ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়।
ম্যাচ শেষে মেসি যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, তখন গ্যালারির হাজার হাজার দর্শক দাঁড়িয়ে সম্মান (স্ট্যান্ডিং অভেশন) জানালেন এই কিংবদন্তিকে। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপের শুরুতেই এমন হ্যাটট্রিক যেন এক অনন্য প্রাপ্তি। বিশ্বকাপে মেসির এমন উদ্যাপন দেখার সুযোগ হয়তো ফুরিয়ে আসছে, কিন্তু তার ফুটবল-কবিতার প্রতিটি লাইন আজও একইভাবে মুগ্ধ করছে কোটি ভক্তকে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই জয় আর্জেন্টিনার জন্য যেমন আত্মবিশ্বাসের রসদ, তেমনি মেসির ভক্তদের জন্য এক অনবদ্য স্মৃতি।
2.png)