সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

সরাসরি

ইরান সংকটে ট্রাম্পের নীতি ব্যর্থ, যুদ্ধের ইঙ্গিত ইসরাইলের

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্ববিরোধী অবস্থানকে দায়ী করে পুনরায় সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলি থিংক-ট্যাংক গবেষক বেনি সাবতি।

অ+ অ-
৬ মে ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
ইরান সংকটে ট্রাম্পের নীতি ব্যর্থ, যুদ্ধের ইঙ্গিত ইসরাইলের
ছবি- প্রবেনি সাবতি (এ আই জেনারেটেড)

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-কেন্দ্রিক বিদ্যমান সংকট ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত নীতিকে সরাসরি দায়ী করেছেন ইসরায়েলি থিংক-ট্যাংক 'আইএনএসএস'-এর ইরান বিষয়ক বিশিষ্ট গবেষক বেনি সাবতি। তিনি অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে সতর্ক করেছেন যে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব নিরসনের কূটনৈতিক পথগুলো এখন প্রায় রুদ্ধ। এই অচলাবস্থা ভাঙতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উচিত পুনরায় সরাসরি সামরিক শক্তি প্রয়োগ বা যুদ্ধের পথে প্রত্যাবর্তন করা বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন

ইরানের ‘আকাশচুম্বী দম্ভ’ ও অনমনীয়তা

গবেষক বেনি সাবতি দাবি করেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের অনমনীয় মানসিকতা বা ‘দম্ভ’ কোনো প্রকার চুক্তিতে পৌঁছানোর পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, “ইরানের দম্ভ এখন আকাশচুম্বী; তারা বাস্তব পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করতে ব্যর্থ হচ্ছে।” ক্ষেপণাস্ত্র বা পারমাণবিক কর্মসূচি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, একদল অশুভ মানুষ ক্ষমতা কুক্ষিগত করে এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। সাবতির মতে, ইরানের বর্তমান ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা এখন একটি ভয়াবহ সামরিক শাসনে রূপান্তরিত হয়েছে।

ট্রাম্পের সমালোচনা ও স্ববিরোধী অবস্থান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করে এই বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, ট্রাম্পের ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই আজ এই সংকট ঘনীভূত হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, ট্রাম্প একদিকে ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দেন, আবার পরক্ষণেই আলোচনার জন্য উন্মুখ হয়ে পড়েন। এই ধরনের দ্বিচারিতা ও স্ববিরোধী অবস্থান ইরানের মনোবল বৃদ্ধি করছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্সির মর্যাদাকে বিশ্বদরবারে ক্ষুণ্ণ করছে। যদি ট্রাম্প আলোচনার জন্য হন্যে হয়ে না বেড়াতেন, তবে বর্তমান বিশ্ব আরও নিরাপদ অবস্থানে থাকত বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন

আঞ্চলিক হুমকি ও ইরানের কৌশল

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে বেনি সাবতি ইরানকে একটি ‘ভাইরাস’-এর সাথে তুলনা করেছেন। তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, শরীর অসুস্থ হলে ভাইরাস যেমন আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে, ইরানও নিজেকে হুমকিগ্রস্ত মনে করে বর্তমানে ঠিক তা-ই করছে। সাবতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তেহরান সরাসরি ইসরায়েলকে আক্রমণের সাহস পায় না; বরং তারা বাহরাইন বা ওমানের মতো অপেক্ষাকৃত দুর্বল দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। ইরান সর্বদা অস্থিতিশীল পরিবেশ এবং ভঙ্গুর রাষ্ট্রব্যবস্থা খুঁজে বেড়ায়—যা তারা আশির দশকে লেবাননে করেছিল।

পরিশেষে ইসরায়েলি এই গবেষক সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, কেবল ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে আলোচনার টেবিলে পড়ে থাকলেই সংকটের সমাধান হবে না। বরং এই ব্যবস্থার নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে; অন্যথায় এই সংকট থেকে উত্তরণের আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।

৬ মে ২০২৬, ০৭:৫৪ এএম

অক্ষত ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা: মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে চাঞ্চল্য

অক্ষত ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা: মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে চাঞ্চল্য
ছবি- প্রতীকী (এ আই জেনারেটেড)

টানা দুই মাসের প্রলয়ংকরী যুদ্ধ এবং একের পর এক বিধ্বংসী হামলা সত্ত্বেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্তব্ধ করা সম্ভব হয়নি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে উঠে এসেছে যে, তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ও সময়সীমা আগের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে। গোয়েন্দা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান যদি আজ পারমাণবিক বোমা তৈরির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তবে তাদের প্রয়োজনীয় সময় গত বছরের গ্রীষ্মকালীন পরিস্থিতির মতোই আছে—অর্থাৎ একটি কার্যকর বোমা তৈরি করতে তাদের এখনো ৯ মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে ইরানের প্রচলিত সামরিক অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা শিল্পকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস এই অভিযানকে 'অপারেশন এপিক ফিউরি' হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন, এটি ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মূল উপাদানগুলো, বিশেষ করে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বেশির ভাগই অক্ষত রয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) তথ্যমতে, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা দিয়ে অন্তত ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব। ধারণা করা হচ্ছে, এই মজুতের একটি বড় অংশ ইস্পাহানের পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রের একটি দুর্ভেদ্য ভূগর্ভস্থ টানেলে লুকিয়ে রাখা হয়েছে, যেখানে সাধারণ বোমা দিয়ে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব।

সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষক এরিক ব্রুয়ার মনে করেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলো মূলত সামরিক স্থাপনায় কেন্দ্ৰীভূত থাকায় ইরানের পরমাণু সক্ষমতার কোনো নড়চড় হয়নি। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন নীতি-নির্ধারকরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ‘গ্রাউন্ড রেইড’ বা সরাসরি স্থল অভিযানের কথা বিবেচনা করছেন, যাতে ভূগর্ভস্থ টানেল থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার বা ধ্বংস করা যায়।

এদিকে, গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না এবং এটাই বর্তমান সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য।

সামরিক হামলার পাশাপাশি ইসরাইল কর্তৃক ইরানের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানীদের গুপ্তহত্যার ঘটনা তেহরানকে প্রবল চাপে ফেলেছে। জাতিসংঘের সাবেক পরমাণু পরিদর্শক ডেভিড অলব্রাইট মনে করেন, এই হত্যাকাণ্ডগুলো তেহরানের জন্য বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর ফলে ইরান যদি শেষ পর্যন্ত কোনো পারমাণবিক বোমা তৈরিও করে, তবে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন বিজ্ঞানীদের অভাবে সেটি আদতে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েই যাচ্ছে।

পেন্টাগন জানিয়েছে, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য, তবে পরিস্থিতি এখনো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দুলছে।

৫ মে ২০২৬, ০২:২২ পিএম

হরমুজে মার্কিন হামলায় ৫ বেসামরিক নিহত: ইরানের দাবি

হরমুজে মার্কিন হামলায় ৫ বেসামরিক নিহত: ইরানের দাবি
ছবি- প্রতীকী (এ আই জেনারেটেড)

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ফের নজিরবিহীন সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনী ওই অঞ্চলে বেসামরিক নৌযানে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে অন্তত পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। তেহরান থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি রেসুল সরদার আতাস এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্র পূর্বে দাবি করেছিল যে তারা সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, তেহরান সেই দাবি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, আক্রান্ত নৌযানগুলো কোনোভাবেই ইরানের বিশেষায়িত বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) ছিল না; বরং সেগুলো ছিল সাধারণ মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সতর্কতামূলক গোলাবর্ষণ ও ডেস্ট্রয়ার পিছু হটা

হরমুজ প্রণালির এই ঘটনায় ইরানের নৌবাহিনীও সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছে বলে তেহরান থেকে দাবি করা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন ডেস্ট্রয়ার বা যুদ্ধজাহাজগুলো তাদের রাডার পুরোপুরি বন্ধ রেখে অত্যন্ত গোপনে প্রণালিতে প্রবেশের অপচেষ্টা চালিয়েছিল। তবে এই অঞ্চলে ইরানি নৌবাহিনীর সার্বক্ষণিক ও তীক্ষ্ণ নজরদারির কারণে রাডার চালু করার সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন জাহাজগুলো শনাক্ত হয়ে যায়। ইরানের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন ডেস্ট্রয়ারগুলোকে চিহ্নিত করার পরপরই সেগুলোর অবস্থান লক্ষ্য করে ইরানি নৌবাহিনী সতর্কতামূলক গোলাবর্ষণ করে। সতর্কবার্তার অংশ হিসেবে অত্যাধুনিক কমব্যাট ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং রকেট ব্যবহার করা হয়। এই নজিরবিহীন প্রতিরোধের মুখে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো তাদের অভিযান পরিত্যাগ করতে এবং ফিরে যেতে বাধ্য হয় বলে তেহরান জানিয়েছে।

ইরানের কঠোর হুশিয়ারি ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের আশঙ্কা

এই ঘটনার পর তেহরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইরানের কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন নৌবাহিনী যদি ভবিষ্যতেও আবারও হরমুজ প্রণালিতে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করে, তবে তা বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির সরাসরি এবং গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে। এই হুশিয়ারির মাধ্যমে ইরান একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে যে, তারা তাদের জলসীমায় কোনো ধরনের বিদেশি অনুপ্রবেশ বা হামলা বরদাশত করবে না। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই দৃঢ় অবস্থান এবং মার্কিন পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা এই অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে, কারণ হরমুজ প্রণালি বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো ধরনের সংঘাত পুরো বিশ্ব অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। 

সূত্র: আল–জাজিরা 

কাল মহাকাল

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬


ইরান সংকটে ট্রাম্পের নীতি ব্যর্থ, যুদ্ধের ইঙ্গিত ইসরাইলের

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-কেন্দ্রিক বিদ্যমান সংকট ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত নীতিকে সরাসরি দায়ী করেছেন ইসরায়েলি থিংক-ট্যাংক 'আইএনএসএস'-এর ইরান বিষয়ক বিশিষ্ট গবেষক বেনি সাবতি। তিনি অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে সতর্ক করেছেন যে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব নিরসনের কূটনৈতিক পথগুলো এখন প্রায় রুদ্ধ। এই অচলাবস্থা ভাঙতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উচিত পুনরায় সরাসরি সামরিক শক্তি প্রয়োগ বা যুদ্ধের পথে প্রত্যাবর্তন করা বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন

ইরানের ‘আকাশচুম্বী দম্ভ’ ও অনমনীয়তা

গবেষক বেনি সাবতি দাবি করেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের অনমনীয় মানসিকতা বা ‘দম্ভ’ কোনো প্রকার চুক্তিতে পৌঁছানোর পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, “ইরানের দম্ভ এখন আকাশচুম্বী; তারা বাস্তব পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করতে ব্যর্থ হচ্ছে।” ক্ষেপণাস্ত্র বা পারমাণবিক কর্মসূচি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, একদল অশুভ মানুষ ক্ষমতা কুক্ষিগত করে এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। সাবতির মতে, ইরানের বর্তমান ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা এখন একটি ভয়াবহ সামরিক শাসনে রূপান্তরিত হয়েছে।

ট্রাম্পের সমালোচনা ও স্ববিরোধী অবস্থান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করে এই বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, ট্রাম্পের ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই আজ এই সংকট ঘনীভূত হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, ট্রাম্প একদিকে ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দেন, আবার পরক্ষণেই আলোচনার জন্য উন্মুখ হয়ে পড়েন। এই ধরনের দ্বিচারিতা ও স্ববিরোধী অবস্থান ইরানের মনোবল বৃদ্ধি করছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্সির মর্যাদাকে বিশ্বদরবারে ক্ষুণ্ণ করছে। যদি ট্রাম্প আলোচনার জন্য হন্যে হয়ে না বেড়াতেন, তবে বর্তমান বিশ্ব আরও নিরাপদ অবস্থানে থাকত বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন

আঞ্চলিক হুমকি ও ইরানের কৌশল

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে বেনি সাবতি ইরানকে একটি ‘ভাইরাস’-এর সাথে তুলনা করেছেন। তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, শরীর অসুস্থ হলে ভাইরাস যেমন আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে, ইরানও নিজেকে হুমকিগ্রস্ত মনে করে বর্তমানে ঠিক তা-ই করছে। সাবতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তেহরান সরাসরি ইসরায়েলকে আক্রমণের সাহস পায় না; বরং তারা বাহরাইন বা ওমানের মতো অপেক্ষাকৃত দুর্বল দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। ইরান সর্বদা অস্থিতিশীল পরিবেশ এবং ভঙ্গুর রাষ্ট্রব্যবস্থা খুঁজে বেড়ায়—যা তারা আশির দশকে লেবাননে করেছিল।

পরিশেষে ইসরায়েলি এই গবেষক সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, কেবল ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে আলোচনার টেবিলে পড়ে থাকলেই সংকটের সমাধান হবে না। বরং এই ব্যবস্থার নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে; অন্যথায় এই সংকট থেকে উত্তরণের আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত