সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

বিনিয়োগে আমলাতান্ত্রিক ধীরগতির কারনে বিনিয়োগকারীরা বাধাগ্রস্থ

বিদেশি বিনিয়োগে প্রধান অন্তরায় হিসেবে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মন্থর গতিকে চিহ্নিত করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী; একইসাথে তিন মাসের মধ্যে জ্বালানি খাতে দরপত্র আহ্বানের ঘোষণা।

বিনিয়োগে আমলাতান্ত্রিক ধীরগতির কারনে  বিনিয়োগকারীরা বাধাগ্রস্থ
ছবি -সংগৃহীত

দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থাগুলোর আমলাতান্ত্রিক ধীরগতিকে অন্যতম প্রধান অন্তরায় হিসেবে অভিহিত করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার সকালে রাজধানীর বনানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘দ্য কম্পাস ডায়লগ’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায় সংলাপে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন। ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ট্যাকটিকস রিসার্চ (আইএসটিআর) আয়োজিত এই সংলাপে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, ব্যবসায়িক প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিনিয়োগকারীদের হতাশা ও প্রশাসনিক মন্থরতা

সংলাপে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে পাওয়া ফিডব্যাকের ভিত্তিতে মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, এ দেশে ব্যবসার পরিবেশ এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বিনিয়োগবান্ধব হয়ে ওঠেনি। তিনি বলেন, “বিনিয়োগকারীরা যে দ্রুততায় সমস্যার সমাধান প্রত্যাশা করেন, সরকারি দপ্তরগুলো তা প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছে। প্রশাসনিক এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে তারা হতাশ হয়ে পড়ছেন, যা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) ক্ষেত্রে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে”। তবে পরিস্থিতি উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী নিরলস কাজ করছেন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন।

সামষ্টিক অর্থনীতি ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি

সরকারের বর্তমান লক্ষ্য সম্পর্কে মির্জা ফখরুল জানান, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সরকার বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লিখিত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং শস্যভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কর্মসূচিগুলো ইতিমধ্যে প্রান্তিক মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

জ্বালানি খাতে নতুন দিগন্ত

জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে। সৌরশক্তির প্রসার ঘটানোর পাশাপাশি স্থল ও সমুদ্রভাগে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের প্রক্রিয়াও বেগবান করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন যে, আগামী তিন মাসের মধ্যেই জ্বালানি অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভূ-রাজনীতি

দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিএনপির মহাসচিব মন্তব্য করেছেন যে, অতীতের রাজনৈতিক সমস্যাগুলো পুরোপুরি নির্মূল না হলেও বর্তমান পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই ইতিবাচক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। এছাড়া বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তা এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে বলে তিনি ব্যক্ত করেছেন।

বিষয় : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিদেশি বিনিয়োগ আমলাতান্ত্রিক ধীরগতি

কাল মহাকাল

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬


বিনিয়োগে আমলাতান্ত্রিক ধীরগতির কারনে বিনিয়োগকারীরা বাধাগ্রস্থ

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

featured Image

দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থাগুলোর আমলাতান্ত্রিক ধীরগতিকে অন্যতম প্রধান অন্তরায় হিসেবে অভিহিত করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার সকালে রাজধানীর বনানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘দ্য কম্পাস ডায়লগ’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায় সংলাপে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন। ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ট্যাকটিকস রিসার্চ (আইএসটিআর) আয়োজিত এই সংলাপে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, ব্যবসায়িক প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিনিয়োগকারীদের হতাশা ও প্রশাসনিক মন্থরতা

সংলাপে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে পাওয়া ফিডব্যাকের ভিত্তিতে মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, এ দেশে ব্যবসার পরিবেশ এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বিনিয়োগবান্ধব হয়ে ওঠেনি। তিনি বলেন, “বিনিয়োগকারীরা যে দ্রুততায় সমস্যার সমাধান প্রত্যাশা করেন, সরকারি দপ্তরগুলো তা প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছে। প্রশাসনিক এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে তারা হতাশ হয়ে পড়ছেন, যা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) ক্ষেত্রে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে”। তবে পরিস্থিতি উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী নিরলস কাজ করছেন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন।

সামষ্টিক অর্থনীতি ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি

সরকারের বর্তমান লক্ষ্য সম্পর্কে মির্জা ফখরুল জানান, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সরকার বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লিখিত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং শস্যভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কর্মসূচিগুলো ইতিমধ্যে প্রান্তিক মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

জ্বালানি খাতে নতুন দিগন্ত

জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে। সৌরশক্তির প্রসার ঘটানোর পাশাপাশি স্থল ও সমুদ্রভাগে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের প্রক্রিয়াও বেগবান করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন যে, আগামী তিন মাসের মধ্যেই জ্বালানি অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।


রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভূ-রাজনীতি

দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিএনপির মহাসচিব মন্তব্য করেছেন যে, অতীতের রাজনৈতিক সমস্যাগুলো পুরোপুরি নির্মূল না হলেও বর্তমান পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই ইতিবাচক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। এছাড়া বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তা এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে বলে তিনি ব্যক্ত করেছেন।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত