স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের ডায়েট চার্টে এখন বিদেশী আমদানিকৃত ‘চিয়াসীড’ খুবই জনপ্রিয়। তবে দেখতে অনেকটা চিয়াসীডের মতোই দেশীয় ‘তোকমা দানা’ও কিন্তু পুষ্টিগুণে কোনো অংশে কম নয়। দামের দিক থেকে চিয়াসীড কিছুটা বাড়তি হওয়ায় অনেকেই ভাবেন এটিই বুঝি বেশি উপকারী। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, দুটি বীজের পুষ্টিগুণ প্রায় কাছাকাছি এবং নিজ নিজ জায়গায় দুটিই স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপযোগি। তাহলে চলুন জেনে নিই, সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য কোনটি বেছে নেওয়া শ্রেয়।
চিয়াসীড এবং তোকমা দানা—দুটিই ভিন্ন উদ্ভিদ থেকে আসলেও দুটিই তুলসী পরিবারের অন্তর্গত। এদের প্রধান মিল হলো, উভয়েই পানিতে ভিজলে ফুলে উঠে জেলির মতো রূপ ধারণ করে এবং প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ সরবরাহ করে। তবে কিছু কিছু পুষ্টি উপাদানে এদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড উপাদানে চিয়াসীড স্পষ্টভাবে এগিয়ে। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরল দূর করতে বেশ কার্যকর। ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় দুটি বীজই পেটে দীর্ঘ সময় ভরাট ভাব রাখে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে চিয়াসীডের তুলনায় তোকমায় ফাইবারের পরিমাণ সামান্য বেশি থাকে, যা দ্রুত হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় বেশি কার্যকর। প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম—উভয় উপাদানেই তোকমা দানা চিয়াসীডের চেয়ে এগিয়ে। বিশেষ করে হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় তোকমার ভূমিকা প্রশংসনীয়। গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং পেটের অ্যাসিডিটি কমাতে তোকমা দানার শরবত দারুণ কার্যকর, যা চিয়াসীডে অতটা দেখা যায় না।
সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে এবং ওমেগা-৩-এর ঘাটতি পূরণ করতে চাইলে চিয়াসীড বেছে নিতে পারেন। বিশেষ করে যারা ওজন কমাতে ডায়েট করছেন, তাদের জন্য এটি বেশ কার্যকর। অন্যদিকে, যাঁদের চিয়াসীড খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয়, তাঁদের জন্য তোকমা অত্যন্ত উপকারী। এটি দ্রুত হজম হয় এবং পেটের সমস্যা দূর করতে দ্রুত কাজ করে। এছাড়া, গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে তোকমাই সেরা। দাম বিবেচনায় তোকমা চিয়াসীডের চেয়ে কিছুটা কম হওয়ায় এটি অনেক বেশি সহজলভ্য।
দুটি বীজই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। খুব বেশি পরিমাণে খেলে পেট ফাঁপা বা অ্যালার্জির সমস্যা হতে পারে। প্রতিদিন দুই চা চামচ চিয়াসীড রাতে পানিতে ভিজিয়ে সকালে খালি পেটে খাওয়া ভালো। এটি দুধ বা দইয়ের সাথে মিক্স করে, ওটস, ফালুদা বা ডেজার্টের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। সালাদ ও স্মুদিতে ছড়িয়ে কাঁচা চিয়াসীডও খাওয়া যায়। তোকমা দানার ক্ষেত্রে, এক গ্লাস পানিতে ১-২ চা চামচ তোকমা দানা ১০–১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ফুলে গেলে শরবত, দুধ বা ফলের জুসের সাথে মিশিয়ে খান। চিনি ছাড়া খাওয়া বেশি উপকারী।
চিয়াসীড এবং তোকমা—দুটিই পুষ্টিগুণে ভরপুর বলে একেকটা ‘পাওয়ার হাউস’ বলা যায়। আপনি যদি পানি দ্রুত শোষণ করে সময় বাঁচায় এমন কিছু চান এবং গরমে আরাম পেতে চান, তবে তোকমা এগিয়ে থাকবে। আর হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে চাইলে চিয়াসীড হবে আপনার সেরা পছন্দ।

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের ডায়েট চার্টে এখন বিদেশী আমদানিকৃত ‘চিয়াসীড’ খুবই জনপ্রিয়। তবে দেখতে অনেকটা চিয়াসীডের মতোই দেশীয় ‘তোকমা দানা’ও কিন্তু পুষ্টিগুণে কোনো অংশে কম নয়। দামের দিক থেকে চিয়াসীড কিছুটা বাড়তি হওয়ায় অনেকেই ভাবেন এটিই বুঝি বেশি উপকারী। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, দুটি বীজের পুষ্টিগুণ প্রায় কাছাকাছি এবং নিজ নিজ জায়গায় দুটিই স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপযোগি। তাহলে চলুন জেনে নিই, সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য কোনটি বেছে নেওয়া শ্রেয়।
চিয়াসীড এবং তোকমা দানা—দুটিই ভিন্ন উদ্ভিদ থেকে আসলেও দুটিই তুলসী পরিবারের অন্তর্গত। এদের প্রধান মিল হলো, উভয়েই পানিতে ভিজলে ফুলে উঠে জেলির মতো রূপ ধারণ করে এবং প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ সরবরাহ করে। তবে কিছু কিছু পুষ্টি উপাদানে এদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড উপাদানে চিয়াসীড স্পষ্টভাবে এগিয়ে। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরল দূর করতে বেশ কার্যকর। ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় দুটি বীজই পেটে দীর্ঘ সময় ভরাট ভাব রাখে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে চিয়াসীডের তুলনায় তোকমায় ফাইবারের পরিমাণ সামান্য বেশি থাকে, যা দ্রুত হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় বেশি কার্যকর। প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম—উভয় উপাদানেই তোকমা দানা চিয়াসীডের চেয়ে এগিয়ে। বিশেষ করে হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় তোকমার ভূমিকা প্রশংসনীয়। গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং পেটের অ্যাসিডিটি কমাতে তোকমা দানার শরবত দারুণ কার্যকর, যা চিয়াসীডে অতটা দেখা যায় না।
সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে এবং ওমেগা-৩-এর ঘাটতি পূরণ করতে চাইলে চিয়াসীড বেছে নিতে পারেন। বিশেষ করে যারা ওজন কমাতে ডায়েট করছেন, তাদের জন্য এটি বেশ কার্যকর। অন্যদিকে, যাঁদের চিয়াসীড খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয়, তাঁদের জন্য তোকমা অত্যন্ত উপকারী। এটি দ্রুত হজম হয় এবং পেটের সমস্যা দূর করতে দ্রুত কাজ করে। এছাড়া, গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে তোকমাই সেরা। দাম বিবেচনায় তোকমা চিয়াসীডের চেয়ে কিছুটা কম হওয়ায় এটি অনেক বেশি সহজলভ্য।
দুটি বীজই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। খুব বেশি পরিমাণে খেলে পেট ফাঁপা বা অ্যালার্জির সমস্যা হতে পারে। প্রতিদিন দুই চা চামচ চিয়াসীড রাতে পানিতে ভিজিয়ে সকালে খালি পেটে খাওয়া ভালো। এটি দুধ বা দইয়ের সাথে মিক্স করে, ওটস, ফালুদা বা ডেজার্টের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। সালাদ ও স্মুদিতে ছড়িয়ে কাঁচা চিয়াসীডও খাওয়া যায়। তোকমা দানার ক্ষেত্রে, এক গ্লাস পানিতে ১-২ চা চামচ তোকমা দানা ১০–১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ফুলে গেলে শরবত, দুধ বা ফলের জুসের সাথে মিশিয়ে খান। চিনি ছাড়া খাওয়া বেশি উপকারী।
চিয়াসীড এবং তোকমা—দুটিই পুষ্টিগুণে ভরপুর বলে একেকটা ‘পাওয়ার হাউস’ বলা যায়। আপনি যদি পানি দ্রুত শোষণ করে সময় বাঁচায় এমন কিছু চান এবং গরমে আরাম পেতে চান, তবে তোকমা এগিয়ে থাকবে। আর হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে চাইলে চিয়াসীড হবে আপনার সেরা পছন্দ।
