সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

বোয়িং থেকে এলএনজি: মার্কিন চুক্তির আড়ালে কতটুকু লাভ, কতটা ক্ষতি?

গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে এর অল্প সময়ের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার পরিবর্তন এবং আইনি লড়াই চুক্তির কার্যকারিতা ও যৌক্তিকতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

বোয়িং থেকে এলএনজি: মার্কিন চুক্তির আড়ালে কতটুকু লাভ, কতটা ক্ষতি?
ছবি- সংকলিত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিটি (এআরটি) বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য এক বহুমুখী সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ কেবল বড় অংকের রাজস্বই হারাবে না, বরং মার্কিন স্বার্থ রক্ষার্থে নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও নিজের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে ফেলবে। চুক্তির সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হলো এর একতরফা বাধ্যতামূলক ক্রয়ের শর্তসমূহ। এর আওতায় বাংলাদেশ আগামী ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের এলএনজি, প্রতি বছর প্রায় ৩৫০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য এবং ৩৭০ কোটি ডলার ব্যয়ে ১৪টি বোয়িং বিমান কিনতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে। অথচ এসব পণ্য অন্য দেশ থেকে তুলনামূলক কম দামে এবং সহজে আমদানির সুযোগ বাংলাদেশের কাছে ছিল।

এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। চুক্তিতে এমন কিছু শর্ত রয়েছে যার মাধ্যমে বাংলাদেশ কোন দেশের সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম কেনাবেচা করবে কিংবা কোন দেশ থেকে পারমাণবিক প্রযুক্তি নেবে, তাতেও পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে। বিশেষ করে চীন বা রাশিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক এই চুক্তির কারণে নতুন করে বাধার মুখে পড়তে পারে। এছাড়া ডিজিটাল বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মতো স্পর্শকাতর বিষয়েও মার্কিন অনুমোদন ছাড়া অন্য কোনো দেশের সঙ্গে চুক্তি করার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এই চুক্তিতে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তিতে লাভের চেয়ে ক্ষতির পাল্লাই বেশি ভারী। একদিকে বাংলাদেশ অধিকাংশ মার্কিন পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে, যা সরাসরি সরকারের রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের ধস নামাবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক প্রায় ৩৪ শতাংশে উন্নীত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের অসমতা তৈরি করবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মৌলিক নীতিমালাও এই চুক্তির মাধ্যমে লঙ্ঘিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা ভবিষ্যতে অন্য বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বিরোধ সৃষ্টি করতে পারে।

তবে চুক্তির চূড়ান্ত কার্যকারিতা নিয়ে এখনও আইনি লড়াইয়ের সুযোগ রয়েছে। ২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট পাল্টা শুল্ক আরোপের বিষয়টিকে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার বাইরে বলে রায় দেওয়ায় এই চুক্তির নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলো ইতিমধ্যেই এই সুযোগে চুক্তি অকার্যকর ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সামনেও এখন সুযোগ এসেছে মে মাসে হতে যাওয়া উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই উদ্বেগগুলো তুলে ধরার। দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টিকফা প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে এই অসম চুক্তির শর্তগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা এখন সময়ের দাবি।

কাল মহাকাল

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬


বোয়িং থেকে এলএনজি: মার্কিন চুক্তির আড়ালে কতটুকু লাভ, কতটা ক্ষতি?

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিটি (এআরটি) বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য এক বহুমুখী সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ কেবল বড় অংকের রাজস্বই হারাবে না, বরং মার্কিন স্বার্থ রক্ষার্থে নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও নিজের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে ফেলবে। চুক্তির সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হলো এর একতরফা বাধ্যতামূলক ক্রয়ের শর্তসমূহ। এর আওতায় বাংলাদেশ আগামী ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের এলএনজি, প্রতি বছর প্রায় ৩৫০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য এবং ৩৭০ কোটি ডলার ব্যয়ে ১৪টি বোয়িং বিমান কিনতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে। অথচ এসব পণ্য অন্য দেশ থেকে তুলনামূলক কম দামে এবং সহজে আমদানির সুযোগ বাংলাদেশের কাছে ছিল।

এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। চুক্তিতে এমন কিছু শর্ত রয়েছে যার মাধ্যমে বাংলাদেশ কোন দেশের সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম কেনাবেচা করবে কিংবা কোন দেশ থেকে পারমাণবিক প্রযুক্তি নেবে, তাতেও পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে। বিশেষ করে চীন বা রাশিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক এই চুক্তির কারণে নতুন করে বাধার মুখে পড়তে পারে। এছাড়া ডিজিটাল বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মতো স্পর্শকাতর বিষয়েও মার্কিন অনুমোদন ছাড়া অন্য কোনো দেশের সঙ্গে চুক্তি করার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এই চুক্তিতে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তিতে লাভের চেয়ে ক্ষতির পাল্লাই বেশি ভারী। একদিকে বাংলাদেশ অধিকাংশ মার্কিন পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে, যা সরাসরি সরকারের রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের ধস নামাবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক প্রায় ৩৪ শতাংশে উন্নীত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের অসমতা তৈরি করবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মৌলিক নীতিমালাও এই চুক্তির মাধ্যমে লঙ্ঘিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা ভবিষ্যতে অন্য বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বিরোধ সৃষ্টি করতে পারে।

তবে চুক্তির চূড়ান্ত কার্যকারিতা নিয়ে এখনও আইনি লড়াইয়ের সুযোগ রয়েছে। ২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট পাল্টা শুল্ক আরোপের বিষয়টিকে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার বাইরে বলে রায় দেওয়ায় এই চুক্তির নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলো ইতিমধ্যেই এই সুযোগে চুক্তি অকার্যকর ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সামনেও এখন সুযোগ এসেছে মে মাসে হতে যাওয়া উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই উদ্বেগগুলো তুলে ধরার। দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টিকফা প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে এই অসম চুক্তির শর্তগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা এখন সময়ের দাবি।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত