সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

  বানিজ্য বানিজ্য

সীমান্তে মসলার রমরমা চোরাচালান: দিশেহারা বৈধ আমদানিকারকরা

কুরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে ভারত থেকে অবৈধ পথে আসছে জিরা-এলাচ ও আদা; সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

সীমান্তে মসলার রমরমা চোরাচালান: দিশেহারা বৈধ আমদানিকারকরা
ছবি -সংগৃহীত



আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের মসলার বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে অসাধু চোরাকারবারি চক্র। ভারত থেকে সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ পথে দেদারসে দেশে ঢুকছে জিরা, এলাচ, লবঙ্গ ও শুকনা আদাসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের মসলাজাতীয় পণ্য। বিশেষ করে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও ঢাকার মৌলভীবাজারের কয়েকটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই চোরাচালান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। এতে একদিকে সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে চড়া শুল্ক দিয়ে পণ্য আনা বৈধ আমদানিকারকরা চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন।

শুল্ক ফাঁকির মহোৎসব ও অসম প্রতিযোগিতা

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি টন জিরা আমদানিতে সরকারকে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং এলাচে ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। বৈধ পথে আসা প্রতি কেজি এলাচের ক্রয়মূল্য ৪ হাজার ২০০ টাকা পড়লেও চোরাপথে আসা পণ্য ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জিরার ক্ষেত্রেও দেখা গেছে একই চিত্র; আমদানিকৃত জিরা ৫৬০ টাকায় বিক্রি হলেও চোরাই জিরা পাওয়া যাচ্ছে ৫২০ থেকে ৫৩০ টাকায়। কেজিতে ৩০-৪০ টাকার এই ব্যবধানের কারণে সাধারণ ক্রেতারা অবধারিতভাবেই চোরাই পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন।

যেভাবে সক্রিয় চোরাকারবারি সিন্ডিকেট

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, খাতুনগঞ্জের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম যারা এই অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এছাড়া কিছু ভাসমান ব্যবসায়ী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এই চক্র পরিচালনা করছেন। কখনও স্থলবন্দরে অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ১০ টনের কাগজ দেখিয়ে ২০ টন পণ্য আনা হচ্ছে, আবার কখনও গভীর রাতে পিয়াজের ট্রাকে করে সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছে এসব মসলা। পরে হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন করা হচ্ছে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ।

অস্তিত্ব সংকটে আমদানিকারকরা

খাতুনগঞ্জ ইলিয়াছ-বশর মার্কেট মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক  উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ভারত থেকে চোরাপথে পণ্য আসার কারণে বৈধ আমদানি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমেছে। তিনি বলেন,

"দুই বছর আগেও শত শত কনটেইনার শুকনা আদা আমদানি হতো। এখন বন্দর বা কাস্টমসে আদা আমদানির রেকর্ড মেলাই ভার। বাজার এখন চোরাই পণ্যে সয়লাব।"

একই সুর শোনা গেল খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকের কণ্ঠে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে সীমান্ত দিয়ে পণ্য আনা হচ্ছে। বারবার শুল্ক কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চিঠি দিলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

সমাধানের কি? শুল্ক হ্রাস না কঠোর নিয়ন্ত্রণ? 

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, উচ্চশুল্কের পণ্য যেমন জিরা ও এলাচ কেবল সমুদ্রপথে আমদানি বাধ্যতামূলক করলে এই প্রবণতা কমতে পারে। সোনামিয়া মার্কেটের এক ব্যবসায়ী র জানান, জিরার প্রতি কেজিতে ২২০ টাকা এবং এলাচে ৬৭০ টাকা শুল্ক অত্যন্ত বেশি, যা চোরাকারবারিদের উৎসাহিত করছে।

বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব সুরক্ষা করতে হলে হয় সরকারকে আমদানিতে শুল্কের হার কমাতে হবে, না হলে কঠোরভাবে সীমান্ত চোরাচালান বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় বৈধ আমদানিকারকরা লোকসানের ভারে দেউলিয়া হয়ে পড়বেন এবং বাজার পুরোপুরি সিন্ডিকেটের দখলে চলে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কাল মহাকাল

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬


সীমান্তে মসলার রমরমা চোরাচালান: দিশেহারা বৈধ আমদানিকারকরা

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image



আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের মসলার বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে অসাধু চোরাকারবারি চক্র। ভারত থেকে সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ পথে দেদারসে দেশে ঢুকছে জিরা, এলাচ, লবঙ্গ ও শুকনা আদাসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের মসলাজাতীয় পণ্য। বিশেষ করে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও ঢাকার মৌলভীবাজারের কয়েকটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই চোরাচালান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। এতে একদিকে সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে চড়া শুল্ক দিয়ে পণ্য আনা বৈধ আমদানিকারকরা চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন।

শুল্ক ফাঁকির মহোৎসব ও অসম প্রতিযোগিতা

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি টন জিরা আমদানিতে সরকারকে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং এলাচে ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। বৈধ পথে আসা প্রতি কেজি এলাচের ক্রয়মূল্য ৪ হাজার ২০০ টাকা পড়লেও চোরাপথে আসা পণ্য ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জিরার ক্ষেত্রেও দেখা গেছে একই চিত্র; আমদানিকৃত জিরা ৫৬০ টাকায় বিক্রি হলেও চোরাই জিরা পাওয়া যাচ্ছে ৫২০ থেকে ৫৩০ টাকায়। কেজিতে ৩০-৪০ টাকার এই ব্যবধানের কারণে সাধারণ ক্রেতারা অবধারিতভাবেই চোরাই পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন।

যেভাবে সক্রিয় চোরাকারবারি সিন্ডিকেট

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, খাতুনগঞ্জের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম যারা এই অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এছাড়া কিছু ভাসমান ব্যবসায়ী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এই চক্র পরিচালনা করছেন। কখনও স্থলবন্দরে অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ১০ টনের কাগজ দেখিয়ে ২০ টন পণ্য আনা হচ্ছে, আবার কখনও গভীর রাতে পিয়াজের ট্রাকে করে সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছে এসব মসলা। পরে হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন করা হচ্ছে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ।

অস্তিত্ব সংকটে আমদানিকারকরা

খাতুনগঞ্জ ইলিয়াছ-বশর মার্কেট মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক  উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ভারত থেকে চোরাপথে পণ্য আসার কারণে বৈধ আমদানি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমেছে। তিনি বলেন,

"দুই বছর আগেও শত শত কনটেইনার শুকনা আদা আমদানি হতো। এখন বন্দর বা কাস্টমসে আদা আমদানির রেকর্ড মেলাই ভার। বাজার এখন চোরাই পণ্যে সয়লাব।"

একই সুর শোনা গেল খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকের কণ্ঠে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে সীমান্ত দিয়ে পণ্য আনা হচ্ছে। বারবার শুল্ক কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চিঠি দিলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

সমাধানের কি? শুল্ক হ্রাস না কঠোর নিয়ন্ত্রণ? 

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, উচ্চশুল্কের পণ্য যেমন জিরা ও এলাচ কেবল সমুদ্রপথে আমদানি বাধ্যতামূলক করলে এই প্রবণতা কমতে পারে। সোনামিয়া মার্কেটের এক ব্যবসায়ী র জানান, জিরার প্রতি কেজিতে ২২০ টাকা এবং এলাচে ৬৭০ টাকা শুল্ক অত্যন্ত বেশি, যা চোরাকারবারিদের উৎসাহিত করছে।

বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব সুরক্ষা করতে হলে হয় সরকারকে আমদানিতে শুল্কের হার কমাতে হবে, না হলে কঠোরভাবে সীমান্ত চোরাচালান বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় বৈধ আমদানিকারকরা লোকসানের ভারে দেউলিয়া হয়ে পড়বেন এবং বাজার পুরোপুরি সিন্ডিকেটের দখলে চলে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত