বানিজ্য
দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করতে এবং শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করতে প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া আমূল সহজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কল-কারখানাগুলোতে প্রকৃত ও আন্তরিক বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের নিশ্চয়তা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৪ মে, ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন। মূলত বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা এবং সেগুলো পুনরায় চালুর কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, বর্তমান সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, "শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা দূর করা অপরিহার্য।" প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা স্পষ্ট করে দেয় যে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে সরকার পুরোনো ও জটিল প্রথা ভেঙে এগিয়ে যেতে চায়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে অস্বাভাবিক দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, বিভিন্ন দপ্তর থেকে অনুমতি নেওয়ার এই প্রক্রিয়া বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ কমিয়ে দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি নির্দেশ দেন:
প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়াকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করতে হবে।
যেসব মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের ছাড়পত্র একান্ত অপরিহার্য নয়, সেগুলোকে দ্রুততম সময়ে অনুমোদন প্রক্রিয়া থেকে বাদ দিতে হবে।
বন্ধ থাকা সরকারি কল-কারখানায় বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে অর্থের সংস্থান বা ঋণ প্রাপ্তি সহজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন সরকারপ্রধান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি সরাসরি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এর ফলে মুখ থুবড়ে পড়া শিল্প খাতগুলো আবারও প্রাণ ফিরে পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই নীতি-নির্ধারণী সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এবং অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ বাংলাদেশ টেক্সটাইল ও জুট মিলস করপোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতির চিত্র বদলে দিতে সহায়ক হবে এবং বন্ধ শিল্প ইউনিটগুলো পুনরায় উৎপাদনের চাকা ঘোরাতে শুরু করবে।
বিষয় : তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগ

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করতে এবং শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করতে প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া আমূল সহজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কল-কারখানাগুলোতে প্রকৃত ও আন্তরিক বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের নিশ্চয়তা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৪ মে, ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন। মূলত বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা এবং সেগুলো পুনরায় চালুর কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, বর্তমান সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, "শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা দূর করা অপরিহার্য।" প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা স্পষ্ট করে দেয় যে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে সরকার পুরোনো ও জটিল প্রথা ভেঙে এগিয়ে যেতে চায়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে অস্বাভাবিক দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, বিভিন্ন দপ্তর থেকে অনুমতি নেওয়ার এই প্রক্রিয়া বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ কমিয়ে দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি নির্দেশ দেন:
প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়াকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করতে হবে।
যেসব মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের ছাড়পত্র একান্ত অপরিহার্য নয়, সেগুলোকে দ্রুততম সময়ে অনুমোদন প্রক্রিয়া থেকে বাদ দিতে হবে।
বন্ধ থাকা সরকারি কল-কারখানায় বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে অর্থের সংস্থান বা ঋণ প্রাপ্তি সহজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন সরকারপ্রধান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি সরাসরি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এর ফলে মুখ থুবড়ে পড়া শিল্প খাতগুলো আবারও প্রাণ ফিরে পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই নীতি-নির্ধারণী সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এবং অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ বাংলাদেশ টেক্সটাইল ও জুট মিলস করপোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতির চিত্র বদলে দিতে সহায়ক হবে এবং বন্ধ শিল্প ইউনিটগুলো পুনরায় উৎপাদনের চাকা ঘোরাতে শুরু করবে।
