রাজধানী
রাজধানীর ফুটপাত ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করতে এবার ‘ডিজিটাল ছোঁয়া’ দিচ্ছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন। কয়েক দশক ধরে চলা উচ্ছেদ ও পুনর্দখলের অন্তহীন নাটকের অবসান ঘটাতে হকারদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ ‘স্মার্ট কার্ড’ বা আইডি কার্ড। তবে কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে সাধারণ পথচারী ও নগর পরিকল্পনাবিদদের একাংশ দেখছেন ফুটপাত দখলের ‘আনুষ্ঠানিক বৈধতা’ হিসেবে। তাদের মতে, যা ছিল দীর্ঘদিনের অনিয়ম, ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে তাকেই যেন এক প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হচ্ছে।
শৃঙ্খলার ছকে হকার ব্যবস্থাপনা
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হকারদের পূর্ণাঙ্গ তথ্যসম্বলিত একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। এর আওতায় হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান ও সময় (বিকেল ৬টা থেকে রাত ১০টা) বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) হকারদের পুনর্বাসনের জন্য রাজধানীর ৬টি মাঠ ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, নিবন্ধিত এই ব্যবস্থার ফলে ফুটপাতে অন্তত ৫ থেকে ৬ ফুট জায়গা পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা সম্ভব হবে।
অনিয়ম কি এবার আনুষ্ঠানিকতা পাচ্ছে?
হকার কার্ডের এই ধারণাকে ঘিরেই দানা বাঁধছে তীব্র বিতর্ক। পরিবেশবাদী ও নাগরিক অধিকার কর্মীদের মতে, রাজপথ কিংবা ফুটপাত কোনোভাবেই বাণিজ্যের জায়গা হতে পারে না। তাদের আশঙ্কা, একবার আইডি কার্ড হাতে পেলে হকারদের উচ্ছেদ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। যা এতদিন অনানুষ্ঠানিক দখলদারিত্ব ছিল, প্রশাসনের কার্ড পাওয়ার পর তা ‘আইনসিদ্ধ’ অধিকারে পরিণত হতে পারে। ফলে নগরবাসী ফুটপাত ফিরে পাওয়ার পরিবর্তে চিরস্থায়ী যানজট ও ভোগান্তির মুখে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
চাঁদাবাজির নতুন সমীকরণ
দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাতে ‘লাইনম্যান’ বা স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে যে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হতো, আইডি কার্ডের মাধ্যমে তা বন্ধ হবে কি না—তা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন তুলছেন, সরকারি এই কার্ড কি চাঁদাবাজির নতুন কোনো মাধ্যম হয়ে দাঁড়াবে? নাকি সত্যিই ফুটপাত হবে দখলমুক্ত?
সমাধান নাকি সাময়িক প্রলেপ?
নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হকারদের পুনর্বাসন হওয়া উচিত ফুটপাত থেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে কোনো স্থায়ী মার্কেট বা বহুতল ভবনে। সড়কের ওপর সাময়িক ব্যবস্থা কখনোই দীর্ঘমেয়াদী সমাধান আনতে পারে না। সিটি কর্পোরেশনের এই ডিজিটাল আইডি কার্ড শেষ পর্যন্ত ঢাকার যানজট কমাবে, নাকি ফুটপাতকে হকারদের স্থায়ী ‘জমিদারি’তে পরিণত করবে—তা সময়ই বলে দেবে।

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
রাজধানীর ফুটপাত ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করতে এবার ‘ডিজিটাল ছোঁয়া’ দিচ্ছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন। কয়েক দশক ধরে চলা উচ্ছেদ ও পুনর্দখলের অন্তহীন নাটকের অবসান ঘটাতে হকারদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ ‘স্মার্ট কার্ড’ বা আইডি কার্ড। তবে কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে সাধারণ পথচারী ও নগর পরিকল্পনাবিদদের একাংশ দেখছেন ফুটপাত দখলের ‘আনুষ্ঠানিক বৈধতা’ হিসেবে। তাদের মতে, যা ছিল দীর্ঘদিনের অনিয়ম, ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে তাকেই যেন এক প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হচ্ছে।
শৃঙ্খলার ছকে হকার ব্যবস্থাপনা
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হকারদের পূর্ণাঙ্গ তথ্যসম্বলিত একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। এর আওতায় হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান ও সময় (বিকেল ৬টা থেকে রাত ১০টা) বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) হকারদের পুনর্বাসনের জন্য রাজধানীর ৬টি মাঠ ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, নিবন্ধিত এই ব্যবস্থার ফলে ফুটপাতে অন্তত ৫ থেকে ৬ ফুট জায়গা পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা সম্ভব হবে।
অনিয়ম কি এবার আনুষ্ঠানিকতা পাচ্ছে?
হকার কার্ডের এই ধারণাকে ঘিরেই দানা বাঁধছে তীব্র বিতর্ক। পরিবেশবাদী ও নাগরিক অধিকার কর্মীদের মতে, রাজপথ কিংবা ফুটপাত কোনোভাবেই বাণিজ্যের জায়গা হতে পারে না। তাদের আশঙ্কা, একবার আইডি কার্ড হাতে পেলে হকারদের উচ্ছেদ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। যা এতদিন অনানুষ্ঠানিক দখলদারিত্ব ছিল, প্রশাসনের কার্ড পাওয়ার পর তা ‘আইনসিদ্ধ’ অধিকারে পরিণত হতে পারে। ফলে নগরবাসী ফুটপাত ফিরে পাওয়ার পরিবর্তে চিরস্থায়ী যানজট ও ভোগান্তির মুখে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
চাঁদাবাজির নতুন সমীকরণ
দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাতে ‘লাইনম্যান’ বা স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে যে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হতো, আইডি কার্ডের মাধ্যমে তা বন্ধ হবে কি না—তা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন তুলছেন, সরকারি এই কার্ড কি চাঁদাবাজির নতুন কোনো মাধ্যম হয়ে দাঁড়াবে? নাকি সত্যিই ফুটপাত হবে দখলমুক্ত?
সমাধান নাকি সাময়িক প্রলেপ?
নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হকারদের পুনর্বাসন হওয়া উচিত ফুটপাত থেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে কোনো স্থায়ী মার্কেট বা বহুতল ভবনে। সড়কের ওপর সাময়িক ব্যবস্থা কখনোই দীর্ঘমেয়াদী সমাধান আনতে পারে না। সিটি কর্পোরেশনের এই ডিজিটাল আইডি কার্ড শেষ পর্যন্ত ঢাকার যানজট কমাবে, নাকি ফুটপাতকে হকারদের স্থায়ী ‘জমিদারি’তে পরিণত করবে—তা সময়ই বলে দেবে।
