ইরান যুদ্ধ
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ফের নজিরবিহীন সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনী ওই অঞ্চলে বেসামরিক নৌযানে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে অন্তত পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। তেহরান থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি রেসুল সরদার আতাস এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্র পূর্বে দাবি করেছিল যে তারা সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, তেহরান সেই দাবি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, আক্রান্ত নৌযানগুলো কোনোভাবেই ইরানের বিশেষায়িত বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) ছিল না; বরং সেগুলো ছিল সাধারণ মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির এই ঘটনায় ইরানের নৌবাহিনীও সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছে বলে তেহরান থেকে দাবি করা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন ডেস্ট্রয়ার বা যুদ্ধজাহাজগুলো তাদের রাডার পুরোপুরি বন্ধ রেখে অত্যন্ত গোপনে প্রণালিতে প্রবেশের অপচেষ্টা চালিয়েছিল। তবে এই অঞ্চলে ইরানি নৌবাহিনীর সার্বক্ষণিক ও তীক্ষ্ণ নজরদারির কারণে রাডার চালু করার সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন জাহাজগুলো শনাক্ত হয়ে যায়। ইরানের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন ডেস্ট্রয়ারগুলোকে চিহ্নিত করার পরপরই সেগুলোর অবস্থান লক্ষ্য করে ইরানি নৌবাহিনী সতর্কতামূলক গোলাবর্ষণ করে। সতর্কবার্তার অংশ হিসেবে অত্যাধুনিক কমব্যাট ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং রকেট ব্যবহার করা হয়। এই নজিরবিহীন প্রতিরোধের মুখে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো তাদের অভিযান পরিত্যাগ করতে এবং ফিরে যেতে বাধ্য হয় বলে তেহরান জানিয়েছে।
এই ঘটনার পর তেহরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইরানের কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন নৌবাহিনী যদি ভবিষ্যতেও আবারও হরমুজ প্রণালিতে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করে, তবে তা বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির সরাসরি এবং গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে। এই হুশিয়ারির মাধ্যমে ইরান একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে যে, তারা তাদের জলসীমায় কোনো ধরনের বিদেশি অনুপ্রবেশ বা হামলা বরদাশত করবে না। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই দৃঢ় অবস্থান এবং মার্কিন পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা এই অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে, কারণ হরমুজ প্রণালি বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো ধরনের সংঘাত পুরো বিশ্ব অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: আল–জাজিরা
বিষয় : ইরান হরমুজ জাহাজে আগুন

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ফের নজিরবিহীন সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনী ওই অঞ্চলে বেসামরিক নৌযানে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে অন্তত পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। তেহরান থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি রেসুল সরদার আতাস এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্র পূর্বে দাবি করেছিল যে তারা সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, তেহরান সেই দাবি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, আক্রান্ত নৌযানগুলো কোনোভাবেই ইরানের বিশেষায়িত বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) ছিল না; বরং সেগুলো ছিল সাধারণ মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির এই ঘটনায় ইরানের নৌবাহিনীও সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছে বলে তেহরান থেকে দাবি করা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন ডেস্ট্রয়ার বা যুদ্ধজাহাজগুলো তাদের রাডার পুরোপুরি বন্ধ রেখে অত্যন্ত গোপনে প্রণালিতে প্রবেশের অপচেষ্টা চালিয়েছিল। তবে এই অঞ্চলে ইরানি নৌবাহিনীর সার্বক্ষণিক ও তীক্ষ্ণ নজরদারির কারণে রাডার চালু করার সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন জাহাজগুলো শনাক্ত হয়ে যায়। ইরানের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন ডেস্ট্রয়ারগুলোকে চিহ্নিত করার পরপরই সেগুলোর অবস্থান লক্ষ্য করে ইরানি নৌবাহিনী সতর্কতামূলক গোলাবর্ষণ করে। সতর্কবার্তার অংশ হিসেবে অত্যাধুনিক কমব্যাট ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং রকেট ব্যবহার করা হয়। এই নজিরবিহীন প্রতিরোধের মুখে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো তাদের অভিযান পরিত্যাগ করতে এবং ফিরে যেতে বাধ্য হয় বলে তেহরান জানিয়েছে।
এই ঘটনার পর তেহরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইরানের কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন নৌবাহিনী যদি ভবিষ্যতেও আবারও হরমুজ প্রণালিতে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করে, তবে তা বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির সরাসরি এবং গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে। এই হুশিয়ারির মাধ্যমে ইরান একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে যে, তারা তাদের জলসীমায় কোনো ধরনের বিদেশি অনুপ্রবেশ বা হামলা বরদাশত করবে না। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই দৃঢ় অবস্থান এবং মার্কিন পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা এই অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে, কারণ হরমুজ প্রণালি বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো ধরনের সংঘাত পুরো বিশ্ব অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: আল–জাজিরা
