মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের কালো ধোঁয়ায় ঢাকা। লেবানন থেকে শুরু করে ফিলিস্তিন—সবখানেই কান পাতলে শোনা যাচ্ছে বোমার শব্দ আর মানুষের আর্তনাদ। এই বিভীষিকা থেকে মুক্তি পেতে এবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একগুচ্ছ প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। তবে তেহরানের এবারের বার্তা খুব স্পষ্ট—তারা আর ভাঙাচোরা কোনো সাময়িক শান্তি চায়না, বরং চায় সমস্যার গোড়া থেকে সমাধান।
রোববার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধ চিরতরে বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে ১৪ দফার একটি ‘শান্তি পরিকল্পনা’ দিয়েছে ইরান। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ৯ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু ইরান সেটাতে রাজি না হয়ে নিজেদের শর্তগুলো জানিয়ে দিয়েছে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই পুরো আলোচনার পেছনের যোগসূত্র হিসেবে কাজ করছে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান। ইসলামাবাদের মাধ্যমেই তেহরান ও ওয়াশিংটন এখন নিজেদের দাবি-দাওয়া বিনিময় করছে।
এই আলোচনা বা কূটনীতির লড়াইয়ে এখন সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সময়। মার্কিন প্রশাসন চেয়েছিল অন্তত দুই মাসের (৬০ দিন) একটা সময় নিয়ে ধীরে সুস্থে যুদ্ধবিরতির দিকে এগোতে। কিন্তু ইরান সেই প্রস্তাব সটান নাকচ করে দিয়েছে। তাদের দাবি, কোনো টালবাহানা চলবে না। যা করার তা আগামী ৩০ দিনের মধ্যেই করতে হবে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি তেহরানে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সাথে আলাপকালে বেশ কড়া সুরেই কথা বলেছেন। তিনি জানান, পাকিস্তান সরকারের হাতে তারা এই শান্তি প্রস্তাব তুলে দিয়েছেন। ঘারিভাবাদির ভাষায়, "আমরা আমাদের কাজ করেছি। এখন বল পুরোটাই আমেরিকার কোর্টে। তারা চাইলে শান্তি আসবে, আর না চাইলে সংঘাত বাড়বে। সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে।"
ইরানের মূল শর্তগুলো কী?
ইরান যে ১৪টি শর্ত দিয়েছে, তার মধ্যে কয়েকটি বেশ কঠিন। তারা চাইছে ভবিষ্যতে আর কোনোদিন তাদের ওপর হামলা হবে না—এমন গ্যারান্টি। এছাড়া আরও কিছু দাবি আছে যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশ অস্বস্তিকর হতে পারে:
* ইরানের আশপাশের দেশগুলো থেকে সব মার্কিন সেনা সরিয়ে নিতে হবে।
* ইরানের ওপর যত ধরনের অর্থনৈতিক ও নৌ-অবরোধ আছে, সব তুলে দিতে হবে।
* বিদেশের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের সব টাকা-পয়সা ফেরত দিতে হবে।
* লেবাননসহ সব জায়গায় যুদ্ধ এখনই বন্ধ করতে হবে।
পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এখন যে অস্থিরতা চলছে, তাতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বাজারের জিনিসের দাম বাড়ছে, ঘরবাড়ি ছাড়ছে হাজার হাজার পরিবার। এই পরিস্থিতিতে ইরানের এই প্রস্তাব কি আসলেই কোনো কাজে আসবে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই প্রস্তাবের পেছনে দুটি দিক থাকতে পারে। একদিকে তারা বিশ্বকে দেখাতে চায় যে তারা শান্তিপ্রিয়, অন্যদিকে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে একটা সময়সীমার চাপে ফেলতে চাইছে। তবে শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন এই 'ডেডলাইন' বা সময়সীমা মেনে নেবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
সাধারণ মানুষের একটাই প্রার্থনা—আলোচনা যেভাবেই হোক, অন্তত বোমার শব্দটা যেন থামে। পাকিস্তান সরকারের এই মধ্যস্থতা যদি সফল হয়, তবে হয়তো দীর্ঘ কয়েক দশক পর মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে। এখন সবার চোখ হোয়াইট হাউসের দিকে—ওয়াশিংটন কি ইরানের এই শর্তে সাড়া দেবে, নাকি যুদ্ধ চলবে নিজের চেনা ছন্দে?

রোববার, ০৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের কালো ধোঁয়ায় ঢাকা। লেবানন থেকে শুরু করে ফিলিস্তিন—সবখানেই কান পাতলে শোনা যাচ্ছে বোমার শব্দ আর মানুষের আর্তনাদ। এই বিভীষিকা থেকে মুক্তি পেতে এবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একগুচ্ছ প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। তবে তেহরানের এবারের বার্তা খুব স্পষ্ট—তারা আর ভাঙাচোরা কোনো সাময়িক শান্তি চায়না, বরং চায় সমস্যার গোড়া থেকে সমাধান।
রোববার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধ চিরতরে বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে ১৪ দফার একটি ‘শান্তি পরিকল্পনা’ দিয়েছে ইরান। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ৯ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু ইরান সেটাতে রাজি না হয়ে নিজেদের শর্তগুলো জানিয়ে দিয়েছে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই পুরো আলোচনার পেছনের যোগসূত্র হিসেবে কাজ করছে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান। ইসলামাবাদের মাধ্যমেই তেহরান ও ওয়াশিংটন এখন নিজেদের দাবি-দাওয়া বিনিময় করছে।
এই আলোচনা বা কূটনীতির লড়াইয়ে এখন সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সময়। মার্কিন প্রশাসন চেয়েছিল অন্তত দুই মাসের (৬০ দিন) একটা সময় নিয়ে ধীরে সুস্থে যুদ্ধবিরতির দিকে এগোতে। কিন্তু ইরান সেই প্রস্তাব সটান নাকচ করে দিয়েছে। তাদের দাবি, কোনো টালবাহানা চলবে না। যা করার তা আগামী ৩০ দিনের মধ্যেই করতে হবে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি তেহরানে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সাথে আলাপকালে বেশ কড়া সুরেই কথা বলেছেন। তিনি জানান, পাকিস্তান সরকারের হাতে তারা এই শান্তি প্রস্তাব তুলে দিয়েছেন। ঘারিভাবাদির ভাষায়, "আমরা আমাদের কাজ করেছি। এখন বল পুরোটাই আমেরিকার কোর্টে। তারা চাইলে শান্তি আসবে, আর না চাইলে সংঘাত বাড়বে। সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে।"
ইরানের মূল শর্তগুলো কী?
ইরান যে ১৪টি শর্ত দিয়েছে, তার মধ্যে কয়েকটি বেশ কঠিন। তারা চাইছে ভবিষ্যতে আর কোনোদিন তাদের ওপর হামলা হবে না—এমন গ্যারান্টি। এছাড়া আরও কিছু দাবি আছে যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশ অস্বস্তিকর হতে পারে:
* ইরানের আশপাশের দেশগুলো থেকে সব মার্কিন সেনা সরিয়ে নিতে হবে।
* ইরানের ওপর যত ধরনের অর্থনৈতিক ও নৌ-অবরোধ আছে, সব তুলে দিতে হবে।
* বিদেশের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের সব টাকা-পয়সা ফেরত দিতে হবে।
* লেবাননসহ সব জায়গায় যুদ্ধ এখনই বন্ধ করতে হবে।
পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এখন যে অস্থিরতা চলছে, তাতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বাজারের জিনিসের দাম বাড়ছে, ঘরবাড়ি ছাড়ছে হাজার হাজার পরিবার। এই পরিস্থিতিতে ইরানের এই প্রস্তাব কি আসলেই কোনো কাজে আসবে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই প্রস্তাবের পেছনে দুটি দিক থাকতে পারে। একদিকে তারা বিশ্বকে দেখাতে চায় যে তারা শান্তিপ্রিয়, অন্যদিকে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে একটা সময়সীমার চাপে ফেলতে চাইছে। তবে শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন এই 'ডেডলাইন' বা সময়সীমা মেনে নেবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
সাধারণ মানুষের একটাই প্রার্থনা—আলোচনা যেভাবেই হোক, অন্তত বোমার শব্দটা যেন থামে। পাকিস্তান সরকারের এই মধ্যস্থতা যদি সফল হয়, তবে হয়তো দীর্ঘ কয়েক দশক পর মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে। এখন সবার চোখ হোয়াইট হাউসের দিকে—ওয়াশিংটন কি ইরানের এই শর্তে সাড়া দেবে, নাকি যুদ্ধ চলবে নিজের চেনা ছন্দে?
