রাজনীতি
বাংলাদেশে চার বছরের দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল কূটনৈতিক অধ্যায় শেষ করলেন ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। ঢাকায় প্রচলিত তিন বছরের মেয়াদের চেয়েও বেশি সময় দায়িত্ব পালন শেষে তিনি এখন পাড়ি জমাচ্ছেন বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে, যেখানে তিনি রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। বিদায়ের এই ক্ষণে এসে কেবল কূটনৈতিক রুটিন মেনে নয়, বরং গভীর আবেগের সঙ্গে বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি।
নিজের বিদায়ী বার্তায় প্রণয় ভার্মা বলেছেন, বিগত চার বছরে তিনি এখানে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তা যেমন সমৃদ্ধ, তেমনি বৈচিত্র্যময়। স্বাধীনতাপরবর্তী ৫৫ বছরে দুই দেশই অনেক পথ পাড়ি দিয়েছে। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভারত ও বাংলাদেশ এখন অনেক বেশি সক্ষম, আত্মবিশ্বাসী এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী সমাজে পরিণত হয়েছে। প্রণয় ভার্মার মতে, এই অঞ্চলের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতা অপরিহার্য। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।
কূটনৈতিক সম্পর্কের চিরাচরিত গণ্ডি পেরিয়ে তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও আবেগীয় বন্ধনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে দুই দেশের মানুষের সম্মিলিত আত্মত্যাগ এই সম্পর্ককে যে গভীরতায় নিয়ে গেছে, তা অনন্য। তিনি মনে করেন, আমাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত মিলই এই সম্পর্কের মূল চালিকাশক্তি। তবে বর্তমান সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন কর্মসূচি বা রোডম্যাপ প্রয়োজন। প্রণয় ভার্মার ভাষ্যমতে, এমন একটি কর্মসূচি প্রয়োজন যা বর্তমান জাতীয় অগ্রাধিকার এবং সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। ভৌগোলিক নৈকট্যকে কোনো সমস্যা বা দায় হিসেবে না দেখে, একে পারস্পরিক উন্নয়নের সুযোগে রূপান্তর করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বিদায়ের এই মুহূর্তে তার ও তার স্ত্রী মনুর জন্য বাংলাদেশ একটি অবিস্মরণীয় ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। কূটনীতিক হিসেবে নয়, বরং মানুষ হিসেবে এখানে পাওয়া ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের বন্ধন তার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন। নানা উত্থান-পতনের মাঝেও দেশজুড়ে মানুষের উষ্ণতা ও স্নেহের যে অভিজ্ঞতা তিনি পেয়েছেন, তা স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবে। নতুন দায়িত্ব নিয়ে ইউরোপে পাড়ি জমালেও বাংলাদেশের সঙ্গে গড়ে ওঠা এই আত্মিক টান তিনি বহন করবেন আজীবন। তার বিদায়ী বার্তায় ছিল একরাশ আশা ও পরম আকাঙ্ক্ষা, যেখানে তিনি বিশ্বাস রাখেন—ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সকল শুভানুধ্যায়ী এই অভিন্ন স্বপ্ন বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। আর সেই আশার সুরেই তিনি বলেছেন, "আবার দেখা হবে।"
বিষয় : প্রণয় ভার্মা আবার দেখা হবে
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬
বাংলাদেশে চার বছরের দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল কূটনৈতিক অধ্যায় শেষ করলেন ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। ঢাকায় প্রচলিত তিন বছরের মেয়াদের চেয়েও বেশি সময় দায়িত্ব পালন শেষে তিনি এখন পাড়ি জমাচ্ছেন বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে, যেখানে তিনি রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। বিদায়ের এই ক্ষণে এসে কেবল কূটনৈতিক রুটিন মেনে নয়, বরং গভীর আবেগের সঙ্গে বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি।
নিজের বিদায়ী বার্তায় প্রণয় ভার্মা বলেছেন, বিগত চার বছরে তিনি এখানে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তা যেমন সমৃদ্ধ, তেমনি বৈচিত্র্যময়। স্বাধীনতাপরবর্তী ৫৫ বছরে দুই দেশই অনেক পথ পাড়ি দিয়েছে। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভারত ও বাংলাদেশ এখন অনেক বেশি সক্ষম, আত্মবিশ্বাসী এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী সমাজে পরিণত হয়েছে। প্রণয় ভার্মার মতে, এই অঞ্চলের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতা অপরিহার্য। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।
কূটনৈতিক সম্পর্কের চিরাচরিত গণ্ডি পেরিয়ে তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও আবেগীয় বন্ধনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে দুই দেশের মানুষের সম্মিলিত আত্মত্যাগ এই সম্পর্ককে যে গভীরতায় নিয়ে গেছে, তা অনন্য। তিনি মনে করেন, আমাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত মিলই এই সম্পর্কের মূল চালিকাশক্তি। তবে বর্তমান সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন কর্মসূচি বা রোডম্যাপ প্রয়োজন। প্রণয় ভার্মার ভাষ্যমতে, এমন একটি কর্মসূচি প্রয়োজন যা বর্তমান জাতীয় অগ্রাধিকার এবং সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। ভৌগোলিক নৈকট্যকে কোনো সমস্যা বা দায় হিসেবে না দেখে, একে পারস্পরিক উন্নয়নের সুযোগে রূপান্তর করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বিদায়ের এই মুহূর্তে তার ও তার স্ত্রী মনুর জন্য বাংলাদেশ একটি অবিস্মরণীয় ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। কূটনীতিক হিসেবে নয়, বরং মানুষ হিসেবে এখানে পাওয়া ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের বন্ধন তার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন। নানা উত্থান-পতনের মাঝেও দেশজুড়ে মানুষের উষ্ণতা ও স্নেহের যে অভিজ্ঞতা তিনি পেয়েছেন, তা স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবে। নতুন দায়িত্ব নিয়ে ইউরোপে পাড়ি জমালেও বাংলাদেশের সঙ্গে গড়ে ওঠা এই আত্মিক টান তিনি বহন করবেন আজীবন। তার বিদায়ী বার্তায় ছিল একরাশ আশা ও পরম আকাঙ্ক্ষা, যেখানে তিনি বিশ্বাস রাখেন—ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সকল শুভানুধ্যায়ী এই অভিন্ন স্বপ্ন বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। আর সেই আশার সুরেই তিনি বলেছেন, "আবার দেখা হবে।"
2.png)