রাজনীতি
চারপাশ থেকে নানা বিভ্রান্তি ছড়ানো হলেও গণভোট কার্যকরের দাবি থেকে একচুলও পিছু হটবে না বিরোধী দল। বরং বর্তমান সরকারকে জনগণের এই দাবি মানতে বাধ্য করা হবে। শনিবার বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ কমানোর—এই চার দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য এই বিভাগীয় সমাবেশের আয়োজন করে।
শহীদ আবু সাঈদের রক্তস্নাত রংপুরের মাটি থেকে জাতির প্রতি দেওয়া কথা রক্ষার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলুম আর বৈষম্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়তেই ছাত্র-জনতা লড়াই করেছিল। সেই কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে দুটি ভোটের কথা বললেও তিনি কেবল দলীয় ভোটের হিসাব কষেছেন, গণভোটের প্রতিশ্রুতি চরমভাবে উপেক্ষা করেছেন। বিগত দিনের দুর্নীতিবাজদের ‘ভোট কারচুপির’ সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ আর কাউকে বারবার প্রতারণার সুযোগ দেবে না; বরং আগামীতে ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে ১১ দলীয় জোটই সরকার গঠন করবে। একই সঙ্গে তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সীমান্ত উত্তেজনা এবং কৃষকদের দুর্দশা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করেন। ডিসেম্বরে তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের খবরের জবাবে নাহিদ বলেন, কাপুরুষের মতো পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার আর দেশে ফেরার সৎ সাহস নেই। তারপরও যদি তিনি আসেন, তবে তাঁর জন্য ফাঁসির দড়ি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। দেশে পা রাখলেই তাঁকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হবে।
দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনা দেশের ভেতরে অস্থিতিশীলতা তৈরির ষড়যন্ত্র করছেন উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদী গণমাধ্যমের দোসরদের এই অপতৎপরতা জনগণ কখনোই মেনে নেবে না। এ সময় তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরকে ‘পুরোপুরি অর্জনশূন্য’ বলে দাবি করেন। তাঁর মতে, এই সফরে তিস্তা প্রকল্প বা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের কাছ থেকে কোনো প্রতিশ্রুতিই আদায় করা সম্ভব হয়নি। দেশে জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্যের অভাব থাকলে আইএমএফসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে কোনো ঋণ বা সহায়তা পাওয়া যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এ দিন সমাবেশে বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী এবং লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বক্তব্য রাখেন।
এছাড়াও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে রংপুরের আখতার হোসেন, মাহবুবুর রহমান বেলাল, গোলাম রব্বানী, রায়হান সিরাজী এবং কুড়িগ্রামের আনোয়ারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি জামায়াতের রংপুর মহানগর আমির এ টি এম আজম খান, সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক আল মামুন এবং মহানগরের সদস্য সচিব আবদুল মালেকও সমাবেশে বক্তব্য প্রদান করেন।
2.png)
রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬
চারপাশ থেকে নানা বিভ্রান্তি ছড়ানো হলেও গণভোট কার্যকরের দাবি থেকে একচুলও পিছু হটবে না বিরোধী দল। বরং বর্তমান সরকারকে জনগণের এই দাবি মানতে বাধ্য করা হবে। শনিবার বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ কমানোর—এই চার দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য এই বিভাগীয় সমাবেশের আয়োজন করে।
শহীদ আবু সাঈদের রক্তস্নাত রংপুরের মাটি থেকে জাতির প্রতি দেওয়া কথা রক্ষার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলুম আর বৈষম্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়তেই ছাত্র-জনতা লড়াই করেছিল। সেই কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে দুটি ভোটের কথা বললেও তিনি কেবল দলীয় ভোটের হিসাব কষেছেন, গণভোটের প্রতিশ্রুতি চরমভাবে উপেক্ষা করেছেন। বিগত দিনের দুর্নীতিবাজদের ‘ভোট কারচুপির’ সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ আর কাউকে বারবার প্রতারণার সুযোগ দেবে না; বরং আগামীতে ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে ১১ দলীয় জোটই সরকার গঠন করবে। একই সঙ্গে তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সীমান্ত উত্তেজনা এবং কৃষকদের দুর্দশা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করেন। ডিসেম্বরে তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের খবরের জবাবে নাহিদ বলেন, কাপুরুষের মতো পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার আর দেশে ফেরার সৎ সাহস নেই। তারপরও যদি তিনি আসেন, তবে তাঁর জন্য ফাঁসির দড়ি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। দেশে পা রাখলেই তাঁকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হবে।
দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনা দেশের ভেতরে অস্থিতিশীলতা তৈরির ষড়যন্ত্র করছেন উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদী গণমাধ্যমের দোসরদের এই অপতৎপরতা জনগণ কখনোই মেনে নেবে না। এ সময় তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরকে ‘পুরোপুরি অর্জনশূন্য’ বলে দাবি করেন। তাঁর মতে, এই সফরে তিস্তা প্রকল্প বা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের কাছ থেকে কোনো প্রতিশ্রুতিই আদায় করা সম্ভব হয়নি। দেশে জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্যের অভাব থাকলে আইএমএফসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে কোনো ঋণ বা সহায়তা পাওয়া যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এ দিন সমাবেশে বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী এবং লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বক্তব্য রাখেন।
এছাড়াও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে রংপুরের আখতার হোসেন, মাহবুবুর রহমান বেলাল, গোলাম রব্বানী, রায়হান সিরাজী এবং কুড়িগ্রামের আনোয়ারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি জামায়াতের রংপুর মহানগর আমির এ টি এম আজম খান, সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক আল মামুন এবং মহানগরের সদস্য সচিব আবদুল মালেকও সমাবেশে বক্তব্য প্রদান করেন।
2.png)