সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 খেলাখেলা

ধবলধোলাই এড়ানোর ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে ২০০ রানের লক্ষ্য

​শরীফুল-তাসকিনদের তোপে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং ধস নামলেও, শেষ দিকে মাধেভেরে ও ইভান্সের দুর্দান্ত লড়াইয়ে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পেয়েছে স্বাগতিকরা।

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক
ধবলধোলাই এড়ানোর ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে ২০০ রানের লক্ষ্য
ছবি -সংগৃহীত

​হারারের মাঠে আজ বাংলাদেশের পিঠ আক্ষরিক অর্থেই দেয়ালে ঠেকে আছে। প্রথম দুটি ওয়ানডে হেরে সিরিজ আগেই হাতছাড়া হয়েছে, তাই তৃতীয় ম্যাচটি নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়—বরং এটি হোয়াইটওয়াশের চরম লজ্জা থেকে বাঁচার মরিয়া লড়াই। এমন একটা বাঁচামরার ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ নিয়েছিলেন, বোলাররা অন্তত সেটির দারুণ প্রতিদান দিয়েছেন। সব মিলিয়ে জিম্বাবুয়েকে খুব অল্প রানে বেঁধে ফেলার একটা বড় সুযোগ তৈরি হলেও, শেষ দিকের লড়াইয়ে স্বাগতিকরা ঠিক ২০০ রানের লক্ষ্যই ছুড়ে দিয়েছে।

​সত্যি বলতে, ইনিংসের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য এর চেয়ে ভালো হতে পারত না। আজ একাদশে তানভীর ইসলাম ও সাইফউদ্দিনকে ফিরিয়ে বোলিং আক্রমণে যে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা ছিল, তার ফল মিলেছে হাতেনাতেই। তবে শুরুর গল্পটা লিখেছেন মূলত শরীফুল ইসলাম এবং তাসকিন আহমেদ। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকানো জিম্বাবুয়ের ভয়ংকর ব্যাটার বেন কারান আজ যেন কিছুটা দুর্ভাগ্যের শিকার হলেন। শরীফুলের বলটি ঠিকঠাক ডিফেন্স করেও স্টাম্প বাঁচাতে পারেননি তিনি; বল গড়িয়ে গিয়ে বেল ফেলে দেয়। এই অদ্ভুত আউটের রেশ কাটতে না কাটতেই পরের ওভারে তাসকিনের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন ব্রায়ান বেনেট। আর ক্রেইগ আরভিনকে শরীফুল যখন ফেরালেন, মাত্র ২৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ে তখন রীতিমতো কাঁপছে।

​বিপর্যস্ত সেই মুহূর্তে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন ইনোসেন্ট কাইয়া ও ওয়েসলি মাধেভেরে। দুজনের ৫১ রানের জুটিটা যখন একটু একটু করে থিতু হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিল, ঠিক তখনই বোলিংয়ে ফিরে তাসকিন আবারও ত্রাতা হয়ে আসেন। তাঁর একটি দারুণ ডেলিভারিতে কাইয়া ক্যাচ তুলে দেন তানভীরের হাতে। এরপরের গল্পটা জিম্বাবুয়ের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সিকান্দার রাজাকে ঘিরে। তানভীর ইসলামের বলে পুল করতে গিয়ে টাইমিংয়ের অভাবে তিনি যেভাবে প্রায় মাটিতে পড়ে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দিলেন, তা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বেশ বিরল দৃশ্যই বটে। শরীফুল যখন মাদানদেকে দ্রুত ফিরিয়ে দিলেন, ১১২ রানে ৬ উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ের বড় সংগ্রহ গড়ার স্বপ্ন অনেকটাই ফিকে হয়ে যায়।

​তবে ক্রিকেটে শেষ বলটি হওয়ার আগে আসলে নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না। শরীফুল ইসলাম তাঁর ১০ ওভারে মাত্র ৪৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা বোলিং স্পেল উপহার দিলেও, জিম্বাবুয়ের লেজটা ঠিকমতো মুড়তে পারেনি বাংলাদেশ। একদিকে মাধেভেরে ৭৪ বলে ৭৫ রানের দারুণ এক দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তুলেছেন। আর শেষ দিকে এসে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন ইভান্স। আগের ম্যাচেও তাসকিনকে ভোগানো এই ব্যাটার আজ মাত্র ৪১ বলে তুলে নিয়েছেন দুর্দান্ত এক ফিফটি। মূলত তাঁর ৪৩ বলে করা ওই ৫০ রানের ক্যামিও ইনিংসটির সুবাদেই জিম্বাবুয়ে লড়াই করার মতো একটি সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

​এখন বড় প্রশ্ন হলো, ২০০ রানের এই লক্ষ্যটা বাংলাদেশের জন্য কতটা কঠিন হবে? হারারের উইকেটে এই রান তাড়া করা খুব একটা কঠিন হওয়ার কথা নয়। কিন্তু টানা দুই ম্যাচ হারের পর দলের আত্মবিশ্বাস এখন স্বাভাবিকভাবেই তলানিতে থাকার কথা। সিরিজ হারের হতাশা আর ধবলধোলাইয়ের মানসিক চাপ—এই দুইয়ের সঙ্গে লড়াই করে ব্যাটারদের আজ নিজেদের প্রমাণ করতে হবে। বোলাররা নিজেদের কাজটা বেশ গুছিয়েই করে দিয়েছেন, এখন পালা সৌম্য, শান্ত, হৃদয়দের। হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াতে হলে আজ তাঁদের ব্যাট হাতে দায়িত্ব নিতেই হবে।

বিষয় : বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ে ম্যাচ

কাল মহাকাল

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬


ধবলধোলাই এড়ানোর ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে ২০০ রানের লক্ষ্য

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

featured Image

​হারারের মাঠে আজ বাংলাদেশের পিঠ আক্ষরিক অর্থেই দেয়ালে ঠেকে আছে। প্রথম দুটি ওয়ানডে হেরে সিরিজ আগেই হাতছাড়া হয়েছে, তাই তৃতীয় ম্যাচটি নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়—বরং এটি হোয়াইটওয়াশের চরম লজ্জা থেকে বাঁচার মরিয়া লড়াই। এমন একটা বাঁচামরার ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ নিয়েছিলেন, বোলাররা অন্তত সেটির দারুণ প্রতিদান দিয়েছেন। সব মিলিয়ে জিম্বাবুয়েকে খুব অল্প রানে বেঁধে ফেলার একটা বড় সুযোগ তৈরি হলেও, শেষ দিকের লড়াইয়ে স্বাগতিকরা ঠিক ২০০ রানের লক্ষ্যই ছুড়ে দিয়েছে।

​সত্যি বলতে, ইনিংসের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য এর চেয়ে ভালো হতে পারত না। আজ একাদশে তানভীর ইসলাম ও সাইফউদ্দিনকে ফিরিয়ে বোলিং আক্রমণে যে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা ছিল, তার ফল মিলেছে হাতেনাতেই। তবে শুরুর গল্পটা লিখেছেন মূলত শরীফুল ইসলাম এবং তাসকিন আহমেদ। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকানো জিম্বাবুয়ের ভয়ংকর ব্যাটার বেন কারান আজ যেন কিছুটা দুর্ভাগ্যের শিকার হলেন। শরীফুলের বলটি ঠিকঠাক ডিফেন্স করেও স্টাম্প বাঁচাতে পারেননি তিনি; বল গড়িয়ে গিয়ে বেল ফেলে দেয়। এই অদ্ভুত আউটের রেশ কাটতে না কাটতেই পরের ওভারে তাসকিনের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন ব্রায়ান বেনেট। আর ক্রেইগ আরভিনকে শরীফুল যখন ফেরালেন, মাত্র ২৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ে তখন রীতিমতো কাঁপছে।

​বিপর্যস্ত সেই মুহূর্তে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন ইনোসেন্ট কাইয়া ও ওয়েসলি মাধেভেরে। দুজনের ৫১ রানের জুটিটা যখন একটু একটু করে থিতু হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিল, ঠিক তখনই বোলিংয়ে ফিরে তাসকিন আবারও ত্রাতা হয়ে আসেন। তাঁর একটি দারুণ ডেলিভারিতে কাইয়া ক্যাচ তুলে দেন তানভীরের হাতে। এরপরের গল্পটা জিম্বাবুয়ের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সিকান্দার রাজাকে ঘিরে। তানভীর ইসলামের বলে পুল করতে গিয়ে টাইমিংয়ের অভাবে তিনি যেভাবে প্রায় মাটিতে পড়ে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দিলেন, তা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বেশ বিরল দৃশ্যই বটে। শরীফুল যখন মাদানদেকে দ্রুত ফিরিয়ে দিলেন, ১১২ রানে ৬ উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ের বড় সংগ্রহ গড়ার স্বপ্ন অনেকটাই ফিকে হয়ে যায়।

​তবে ক্রিকেটে শেষ বলটি হওয়ার আগে আসলে নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না। শরীফুল ইসলাম তাঁর ১০ ওভারে মাত্র ৪৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা বোলিং স্পেল উপহার দিলেও, জিম্বাবুয়ের লেজটা ঠিকমতো মুড়তে পারেনি বাংলাদেশ। একদিকে মাধেভেরে ৭৪ বলে ৭৫ রানের দারুণ এক দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তুলেছেন। আর শেষ দিকে এসে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন ইভান্স। আগের ম্যাচেও তাসকিনকে ভোগানো এই ব্যাটার আজ মাত্র ৪১ বলে তুলে নিয়েছেন দুর্দান্ত এক ফিফটি। মূলত তাঁর ৪৩ বলে করা ওই ৫০ রানের ক্যামিও ইনিংসটির সুবাদেই জিম্বাবুয়ে লড়াই করার মতো একটি সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

​এখন বড় প্রশ্ন হলো, ২০০ রানের এই লক্ষ্যটা বাংলাদেশের জন্য কতটা কঠিন হবে? হারারের উইকেটে এই রান তাড়া করা খুব একটা কঠিন হওয়ার কথা নয়। কিন্তু টানা দুই ম্যাচ হারের পর দলের আত্মবিশ্বাস এখন স্বাভাবিকভাবেই তলানিতে থাকার কথা। সিরিজ হারের হতাশা আর ধবলধোলাইয়ের মানসিক চাপ—এই দুইয়ের সঙ্গে লড়াই করে ব্যাটারদের আজ নিজেদের প্রমাণ করতে হবে। বোলাররা নিজেদের কাজটা বেশ গুছিয়েই করে দিয়েছেন, এখন পালা সৌম্য, শান্ত, হৃদয়দের। হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াতে হলে আজ তাঁদের ব্যাট হাতে দায়িত্ব নিতেই হবে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত