সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 বিনোদনবিনোদন

৩০০ টাকা সম্বল থেকে বিশ্বজয়ী রকি ভাই

সাধারণ বাসচালকের ছেলের অভিনেতা হয়ে ওঠার নেপথ্যে রয়েছে সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস। আজ যশ সাফল্যের চূড়ায়, তবুও ভোলেননি জীবনের কঠিন সেই দিনগুলো।

বিনোদন ডেস্ক
বিনোদন ডেস্ক
৩০০ টাকা সম্বল থেকে বিশ্বজয়ী রকি ভাই
ছবি -সংগৃহীত

পকেটে মাত্র ৩০০ টাকা। গন্তব্য অচেনা শহর বেঙ্গালুরু। অভিনয় করার জেদ আর চোখে স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন এক যুবক। তখন কে জানত, একদিন এই যুবকই হয়ে উঠবেন দক্ষিণী সিনেমার অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র—সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত ‘রকি ভাই’ বা যশ হিসেবে।

তবে যশের এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। বেঙ্গালুরুতে পা রাখার পর শুরু হয় জীবনযুদ্ধের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়। শহরে পরিচিত কেউ নেই, কাজ নেই—অগত্যা আশ্রয় হয়েছিল রাস্তার ফুটপাত। অনেক রাত কেটেছে পুলিশের তাড়া খেয়ে। এক সাক্ষাৎকারে যশ বলেছিলেন, মাঝরাতে পুলিশের ভয়ে ঘুম ভেঙে যাওয়ার আতঙ্ক এখনো তার মনে পড়ে। সেই ফুটপাতে ঘুমানোর দিনগুলোতে তিনি নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন—একদিন এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতেই হবে।


কর্নাটকের এক সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা যশের বাবার পেশা ছিল সরকারি বাস চালানো। সংসারের চাকা ঘোরাতে তখন তার বাবার দৈনিক মজুরি ছিল মাত্র ১৪ টাকা। অভাব-অনটনের সেই সংসারে স্বপ্ন দেখাটাই ছিল বড় বিলাসিতা। তবে দমে যাননি যশ। থিয়েটার থেকে শুরু করে ছোট ছোট চরিত্র, এরপর টেলিভিশন ধারাবাহিক—একের পর এক ধাপ পেরিয়ে অবশেষে বড় পর্দায় জায়গা করে নেন। কন্নড় সিনেমার পরিচিত মুখ হয়ে ওঠার পর ‘কেজিএফ’ সিরিজের রকি ভাই চরিত্রটি তাকে এনে দেয় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। সিনেমাটি কেবল বক্স অফিসেই বাজিমাত করেনি, কন্নড় চলচ্চিত্রকেও পৌঁছে দিয়েছে বিশ্ব দরবারে।

সাফল্য পাওয়ার পরেও যশের পরিবারের মূল চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। বিশেষ করে তার বাবার কর্মনিষ্ঠা আজও যশকে অনুপ্রাণিত করে। ছেলে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ার পরও বাবা অবসরের আগ পর্যন্ত নিজের বাসচালকের পেশা ছাড়েননি। যশের মতে, বাবার এই আত্মসম্মানবোধই তার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।

বর্তমানে যশের জীবনযাত্রায় এসেছে বিশাল পরিবর্তন। বেঙ্গালুরুর বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স আবাসনে বসবাস করেন তিনি। গ্যারেজে শোভা পায় মার্সিডিজ বেঞ্জ, অডি ও বিএমডব্লিউর মতো দামী সব গাড়ি। বর্তমানে তার বার্ষিক আয় সাত থেকে আট কোটি টাকা এবং প্রতিটি সিনেমার জন্য তিনি ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন। তবে অভিনয়ের বাইরেও তিনি ব্যস্ত নতুন সব চ্যালেঞ্জ নিয়ে।


বর্তমানে দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তার অভিনীত নতুন সিনেমা ‘টক্সিক’। এছাড়া প্রযোজক হিসেবেও তিনি যুক্ত হয়েছেন চার হাজার কোটি টাকা বাজেটের মহাকাব্যিক সিনেমা ‘রামায়ণ’-এর সঙ্গে। ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রী রাধিকা পণ্ডিত ও দুই সন্তান আইরা ও আয়ুশকে নিয়ে সুখী সংসার তার। সেই সঙ্গে নিজের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে সমাজসেবার কাজেও যুক্ত আছেন এই তারকা। জীবনের কঠিন বাস্তবতার হাত ধরে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছালেও নিজের শেকড়কে কখনোই ভুলে যাননি যশ।

বিষয় : যশ টক্সিক

কাল মহাকাল

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬


৩০০ টাকা সম্বল থেকে বিশ্বজয়ী রকি ভাই

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬

featured Image

পকেটে মাত্র ৩০০ টাকা। গন্তব্য অচেনা শহর বেঙ্গালুরু। অভিনয় করার জেদ আর চোখে স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন এক যুবক। তখন কে জানত, একদিন এই যুবকই হয়ে উঠবেন দক্ষিণী সিনেমার অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র—সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত ‘রকি ভাই’ বা যশ হিসেবে।

তবে যশের এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। বেঙ্গালুরুতে পা রাখার পর শুরু হয় জীবনযুদ্ধের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়। শহরে পরিচিত কেউ নেই, কাজ নেই—অগত্যা আশ্রয় হয়েছিল রাস্তার ফুটপাত। অনেক রাত কেটেছে পুলিশের তাড়া খেয়ে। এক সাক্ষাৎকারে যশ বলেছিলেন, মাঝরাতে পুলিশের ভয়ে ঘুম ভেঙে যাওয়ার আতঙ্ক এখনো তার মনে পড়ে। সেই ফুটপাতে ঘুমানোর দিনগুলোতে তিনি নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন—একদিন এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতেই হবে।


কর্নাটকের এক সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা যশের বাবার পেশা ছিল সরকারি বাস চালানো। সংসারের চাকা ঘোরাতে তখন তার বাবার দৈনিক মজুরি ছিল মাত্র ১৪ টাকা। অভাব-অনটনের সেই সংসারে স্বপ্ন দেখাটাই ছিল বড় বিলাসিতা। তবে দমে যাননি যশ। থিয়েটার থেকে শুরু করে ছোট ছোট চরিত্র, এরপর টেলিভিশন ধারাবাহিক—একের পর এক ধাপ পেরিয়ে অবশেষে বড় পর্দায় জায়গা করে নেন। কন্নড় সিনেমার পরিচিত মুখ হয়ে ওঠার পর ‘কেজিএফ’ সিরিজের রকি ভাই চরিত্রটি তাকে এনে দেয় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। সিনেমাটি কেবল বক্স অফিসেই বাজিমাত করেনি, কন্নড় চলচ্চিত্রকেও পৌঁছে দিয়েছে বিশ্ব দরবারে।

সাফল্য পাওয়ার পরেও যশের পরিবারের মূল চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। বিশেষ করে তার বাবার কর্মনিষ্ঠা আজও যশকে অনুপ্রাণিত করে। ছেলে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ার পরও বাবা অবসরের আগ পর্যন্ত নিজের বাসচালকের পেশা ছাড়েননি। যশের মতে, বাবার এই আত্মসম্মানবোধই তার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।

বর্তমানে যশের জীবনযাত্রায় এসেছে বিশাল পরিবর্তন। বেঙ্গালুরুর বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স আবাসনে বসবাস করেন তিনি। গ্যারেজে শোভা পায় মার্সিডিজ বেঞ্জ, অডি ও বিএমডব্লিউর মতো দামী সব গাড়ি। বর্তমানে তার বার্ষিক আয় সাত থেকে আট কোটি টাকা এবং প্রতিটি সিনেমার জন্য তিনি ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন। তবে অভিনয়ের বাইরেও তিনি ব্যস্ত নতুন সব চ্যালেঞ্জ নিয়ে।


বর্তমানে দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তার অভিনীত নতুন সিনেমা ‘টক্সিক’। এছাড়া প্রযোজক হিসেবেও তিনি যুক্ত হয়েছেন চার হাজার কোটি টাকা বাজেটের মহাকাব্যিক সিনেমা ‘রামায়ণ’-এর সঙ্গে। ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রী রাধিকা পণ্ডিত ও দুই সন্তান আইরা ও আয়ুশকে নিয়ে সুখী সংসার তার। সেই সঙ্গে নিজের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে সমাজসেবার কাজেও যুক্ত আছেন এই তারকা। জীবনের কঠিন বাস্তবতার হাত ধরে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছালেও নিজের শেকড়কে কখনোই ভুলে যাননি যশ।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত