সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

অপারেশন হার্ড বল: ভারতভিত্তিক অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বড় আঘাত

শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে বিষ্ণোই ও গোল্ডি ব্রারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপজুড়ে চালানো অভিযানে গ্রেপ্তার ২৪।

অপারেশন হার্ড বল: ভারতভিত্তিক অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বড় আঘাত
ছবি -সংগৃহীত

উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে পড়া ভারতভিত্তিক তিনটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সফল অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘অপারেশন হার্ড বল’ নামে পরিচালিত এই দীর্ঘমেয়াদী তদন্তের মাধ্যমে ভাড়াটে খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও মাদক পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগে ৩৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা।

মঙ্গলবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি পৃথক ফেডারেল অভিযোগপত্রে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য উঠে এসেছে। অভিযুক্তদের তালিকায় সবার উপরে রয়েছে ৩৩ বছর বয়সী লরেন্স বিষ্ণোই এবং ৩২ বছর বয়সী সতীন্দরজিৎ সিং, যিনি ‘গোল্ডি ব্রার’ নামে পরিচিত। মার্কিন কৌঁসুলিদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের জুন মাসে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারেতে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জারকে হত্যার নেপথ্যে এই দুই ব্যক্তিই কলকাঠি নেড়েছিলেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, লরেন্স বিষ্ণোই তখন বন্দুকধারীদের একজনকে নিজ্জারের ছবি ও তাঁর যাতায়াতের ঠিকানা সরবরাহ করেছিলেন। এই ঘটনার পর কানাডা ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছিল, যা এখনো চলমান। যদিও ভারত সরকার নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী অ্যাটর্নি বিল এসাইলি এই অভিযান সম্পর্কে বলেন, “যারা ভয়, মাদক ও সহিংসতা ছড়িয়ে দিয়ে সমাজকে অস্থির করে তুলছে, তাদের আইনের মুখোমুখি হতেই হবে। এসব অপরাধীর জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই।”

তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, এই অপরাধী চক্রগুলো শুধু খুনের ঘটনার সঙ্গেই জড়িত নয়, বরং উত্তর আমেরিকা জুড়ে বিশাল এক মাদক পাচার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল। ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ৪২টি তল্লাশি চালিয়ে প্রায় এক হাজার কেজি কোকেন, এক কেজি হেরোইন, বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও এক ডজন আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। অপর এক অভিযোগপত্রে কানাডার নাগরিক রভিন্দর সিং ধান্দার নেতৃত্বাধীন মাদক পাচার চক্রের তথ্য উঠে এসেছে, যারা কন্টেইনার ট্রাক ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় কোকেন ও মেথামফেটামিন পাচার করত।

অভিযুক্ত লরেন্স বিষ্ণোই বর্তমানে ভারতের একটি কারাগারে বন্দী থাকলেও গোল্ডি ব্রার এখনো পলাতক। এদিকে, এই অভিযানকে আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখছেন কানাডার বিচারমন্ত্রী শন ফ্রেজার। তিনি বলেন, “কানাডার বিভিন্ন কমিউনিটিতে অপরাধের প্রভাব কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”

অন্যদিকে, ওয়ার্ল্ড শিখ অর্গানাইজেশন অব কানাডা এই অভিযানকে স্বাগত জানালেও, তারা নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে বিদেশি রাষ্ট্রীয় সংস্থার সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বচ্ছভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। টরন্টোভিত্তিক শিখ ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যে থাকা বড় কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা জানার অধিকার জনগণের রয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের যৌথ এই লড়াইয়ে অপরাধী চক্রের মূল উৎপাটন করতে তারা বদ্ধপরিকর।

বিষয় : ভারত ইউরোপ উত্তর আমেরিকা অপারেশন হার্ড বল

কাল মহাকাল

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬


অপারেশন হার্ড বল: ভারতভিত্তিক অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বড় আঘাত

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬

featured Image

উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে পড়া ভারতভিত্তিক তিনটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সফল অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘অপারেশন হার্ড বল’ নামে পরিচালিত এই দীর্ঘমেয়াদী তদন্তের মাধ্যমে ভাড়াটে খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও মাদক পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগে ৩৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা।

মঙ্গলবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি পৃথক ফেডারেল অভিযোগপত্রে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য উঠে এসেছে। অভিযুক্তদের তালিকায় সবার উপরে রয়েছে ৩৩ বছর বয়সী লরেন্স বিষ্ণোই এবং ৩২ বছর বয়সী সতীন্দরজিৎ সিং, যিনি ‘গোল্ডি ব্রার’ নামে পরিচিত। মার্কিন কৌঁসুলিদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের জুন মাসে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারেতে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জারকে হত্যার নেপথ্যে এই দুই ব্যক্তিই কলকাঠি নেড়েছিলেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, লরেন্স বিষ্ণোই তখন বন্দুকধারীদের একজনকে নিজ্জারের ছবি ও তাঁর যাতায়াতের ঠিকানা সরবরাহ করেছিলেন। এই ঘটনার পর কানাডা ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছিল, যা এখনো চলমান। যদিও ভারত সরকার নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী অ্যাটর্নি বিল এসাইলি এই অভিযান সম্পর্কে বলেন, “যারা ভয়, মাদক ও সহিংসতা ছড়িয়ে দিয়ে সমাজকে অস্থির করে তুলছে, তাদের আইনের মুখোমুখি হতেই হবে। এসব অপরাধীর জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই।”

তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, এই অপরাধী চক্রগুলো শুধু খুনের ঘটনার সঙ্গেই জড়িত নয়, বরং উত্তর আমেরিকা জুড়ে বিশাল এক মাদক পাচার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল। ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ৪২টি তল্লাশি চালিয়ে প্রায় এক হাজার কেজি কোকেন, এক কেজি হেরোইন, বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও এক ডজন আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। অপর এক অভিযোগপত্রে কানাডার নাগরিক রভিন্দর সিং ধান্দার নেতৃত্বাধীন মাদক পাচার চক্রের তথ্য উঠে এসেছে, যারা কন্টেইনার ট্রাক ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় কোকেন ও মেথামফেটামিন পাচার করত।

অভিযুক্ত লরেন্স বিষ্ণোই বর্তমানে ভারতের একটি কারাগারে বন্দী থাকলেও গোল্ডি ব্রার এখনো পলাতক। এদিকে, এই অভিযানকে আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখছেন কানাডার বিচারমন্ত্রী শন ফ্রেজার। তিনি বলেন, “কানাডার বিভিন্ন কমিউনিটিতে অপরাধের প্রভাব কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”

অন্যদিকে, ওয়ার্ল্ড শিখ অর্গানাইজেশন অব কানাডা এই অভিযানকে স্বাগত জানালেও, তারা নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে বিদেশি রাষ্ট্রীয় সংস্থার সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বচ্ছভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। টরন্টোভিত্তিক শিখ ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যে থাকা বড় কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা জানার অধিকার জনগণের রয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের যৌথ এই লড়াইয়ে অপরাধী চক্রের মূল উৎপাটন করতে তারা বদ্ধপরিকর।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত