আন্তর্জাতিক
মরুভূমির আগ্রাসন রুখতে চীন এক অসাধ্য সাধন করেছে। গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটি বিশাল এক বনাঞ্চল গড়ে তুলেছে, যা বিশ্বজুড়ে ‘গ্রেট গ্রিন ওয়াল’ নামে পরিচিত। ১৯৭৮ সাল থেকে আজ পর্যন্ত চীন এই বিশাল প্রকল্পে রোপণ করেছে প্রায় ৬৬০০ কোটি গাছ। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চীনের এই কৃত্রিম বন প্রাকৃতিক বনের তুলনায় ৬৬ শতাংশ বেশি দ্রুতগতিতে বেড়ে উঠছে।
চীনের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে মূলত তিনটি বিষয় কাজ করছে। প্রথমত, বন রক্ষায় চীন বেছে নিয়েছে ইউক্যালিপটাস কিংবা পপলারের মতো অত্যন্ত দ্রুত বর্ধনশীল প্রজাতির গাছ। দ্বিতীয়ত, গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও তদারকি নিশ্চিত করা হচ্ছে। আর তৃতীয়ত, বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গাছগুলো তা শোষণের মাধ্যমে অনেকটা সারের মতো কাজে লাগাচ্ছে, যা তাদের বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।
তবে এই সাফল্যের মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। পরিবেশবিদদের মতে, দ্রুত বেড়ে ওঠা এই গাছগুলো যখন পরিপক্ক বা চল্লিশের কোঠায় পৌঁছাবে, তখন এদের বৃদ্ধির গতি স্বাভাবিকভাবেই অনেকটা কমে আসবে। এছাড়া, দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বাস্তুসংস্থান টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বনের চেয়ে প্রাকৃতিক বনই এখনো অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য।
তবুও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে যখন বিশ্ব ধুঁকছে, তখন চীনের এই বিশাল বনায়ন প্রকল্পকে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিকূল পরিবেশে কোটি কোটি গাছ লাগিয়ে মরুভূমিকে সবুজে রূপান্তর করার এই প্রচেষ্টা বৈশ্বিক পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে চীনের এক ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবেই গণ্য হচ্ছে।
বিষয় : চীন সবুজ বিপ্লব
2.png)
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬
মরুভূমির আগ্রাসন রুখতে চীন এক অসাধ্য সাধন করেছে। গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটি বিশাল এক বনাঞ্চল গড়ে তুলেছে, যা বিশ্বজুড়ে ‘গ্রেট গ্রিন ওয়াল’ নামে পরিচিত। ১৯৭৮ সাল থেকে আজ পর্যন্ত চীন এই বিশাল প্রকল্পে রোপণ করেছে প্রায় ৬৬০০ কোটি গাছ। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চীনের এই কৃত্রিম বন প্রাকৃতিক বনের তুলনায় ৬৬ শতাংশ বেশি দ্রুতগতিতে বেড়ে উঠছে।
চীনের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে মূলত তিনটি বিষয় কাজ করছে। প্রথমত, বন রক্ষায় চীন বেছে নিয়েছে ইউক্যালিপটাস কিংবা পপলারের মতো অত্যন্ত দ্রুত বর্ধনশীল প্রজাতির গাছ। দ্বিতীয়ত, গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও তদারকি নিশ্চিত করা হচ্ছে। আর তৃতীয়ত, বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গাছগুলো তা শোষণের মাধ্যমে অনেকটা সারের মতো কাজে লাগাচ্ছে, যা তাদের বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।
তবে এই সাফল্যের মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। পরিবেশবিদদের মতে, দ্রুত বেড়ে ওঠা এই গাছগুলো যখন পরিপক্ক বা চল্লিশের কোঠায় পৌঁছাবে, তখন এদের বৃদ্ধির গতি স্বাভাবিকভাবেই অনেকটা কমে আসবে। এছাড়া, দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বাস্তুসংস্থান টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বনের চেয়ে প্রাকৃতিক বনই এখনো অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য।
তবুও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে যখন বিশ্ব ধুঁকছে, তখন চীনের এই বিশাল বনায়ন প্রকল্পকে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিকূল পরিবেশে কোটি কোটি গাছ লাগিয়ে মরুভূমিকে সবুজে রূপান্তর করার এই প্রচেষ্টা বৈশ্বিক পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে চীনের এক ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবেই গণ্য হচ্ছে।
2.png)