আন্তর্জাতিক
ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদের রাজপথে আজ এক অভূতপূর্ব শোকাবহ পরিবেশ। কালো পোশাক আর হাতে লাল পতাকা নিয়ে লাখো মানুষের মিছিলে প্রকম্পিত পুরো শহর। কফিনবাহী গাড়িটি যখন ধীরগতিতে এগোচ্ছিল, তখন সেখানে এক বিশাল জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার খামেনির জন্মশহর মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে সমাহিত করা হলো ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মাশহাদের রাজপথে মানুষের ঢল নামে। কারও হাতে খামেনির ছবি, কারও মুখে শোকের ছাপ, আবার কেউ বা উচ্চস্বরে মাতম করছেন। শোকের এই মিছিলে অংশ নেওয়া ক্ষুব্ধ জনতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চরম প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি জানান। নারীদের হাতেও দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নানা প্ল্যাকার্ড। ১০১ বছর বয়সি আয়াতুল্লাহ হোসেইন নুরি হামেদানির ইমামতিতে জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়। এরপর ইমাম রেজার মাজারের সোনালি গম্বুজের নিচে তাকে সমাহিত করা হয়, যেখানে আগে থেকেই দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি শায়িত আছেন।
আলী খামেনির কফিনবাহী গাড়িটি মাশহাদে পৌঁছানোর আগে তেহরান ও কওম শহরে জনসাধারণের শ্রদ্ধার জন্য রাখা হয়েছিল। এছাড়া প্রতিবেশী ইরাকের নাজাফ ও কারবালাতেও কফিন নেওয়া হয়, যেখানে লাখো মানুষ তাকে অশ্রুসিক্ত বিদায় জানান। পুরো এই প্রক্রিয়ায় বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই দীর্ঘ দাফন প্রক্রিয়ায় কয়েক কোটি মানুষ সরাসরি অংশ নিয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের এক হামলায় ৮৬ বছর বয়সি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তার পরিবারের চার সদস্যসহ নিহত হন। আজকের দাফন প্রক্রিয়ায় খামেনির পাশাপাশি তার পরিবারের নিহত সদস্যদেরও পাশাপাশি সমাহিত করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে তার ১৪ মাস বয়সি নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপাইগানি, তার জামাতা, এক মেয়ে এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির স্ত্রী জহরা হাদ্দাদ আদেল।
এই কঠিন সময়ে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা ও খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে এবং তিনি হামলায় আহত হওয়ায় তাকে জনসম্মুখে আনা হয়নি বলে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে। তবে জানাজায় খামেনির অন্য তিন ছেলে উপস্থিত ছিলেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ মোহাম্মদি গোলপাইগানি জানান, খামেনি ব্যক্তিগতভাবে তার নিজ শহরে পরিবারের সদস্যদের পাশে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের অন্যতম প্রধান রূপকার ও পেহলভি রাজবংশের পতনের পর ইরানের সামরিক ও আধা-সামরিক কাঠামো গড়ার প্রধান কারিগর ছিলেন এই নেতা। তার প্রস্থান ইরানের রাজনীতিতে এক বড় শূন্যতা তৈরি করল, যা আজ মাশহাদের রাজপথে আসা জনতার আর্তনাদেই ফুটে উঠল।
বিষয় : আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বিদায়
2.png)
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬
ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদের রাজপথে আজ এক অভূতপূর্ব শোকাবহ পরিবেশ। কালো পোশাক আর হাতে লাল পতাকা নিয়ে লাখো মানুষের মিছিলে প্রকম্পিত পুরো শহর। কফিনবাহী গাড়িটি যখন ধীরগতিতে এগোচ্ছিল, তখন সেখানে এক বিশাল জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার খামেনির জন্মশহর মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে সমাহিত করা হলো ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মাশহাদের রাজপথে মানুষের ঢল নামে। কারও হাতে খামেনির ছবি, কারও মুখে শোকের ছাপ, আবার কেউ বা উচ্চস্বরে মাতম করছেন। শোকের এই মিছিলে অংশ নেওয়া ক্ষুব্ধ জনতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চরম প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি জানান। নারীদের হাতেও দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নানা প্ল্যাকার্ড। ১০১ বছর বয়সি আয়াতুল্লাহ হোসেইন নুরি হামেদানির ইমামতিতে জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়। এরপর ইমাম রেজার মাজারের সোনালি গম্বুজের নিচে তাকে সমাহিত করা হয়, যেখানে আগে থেকেই দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি শায়িত আছেন।
আলী খামেনির কফিনবাহী গাড়িটি মাশহাদে পৌঁছানোর আগে তেহরান ও কওম শহরে জনসাধারণের শ্রদ্ধার জন্য রাখা হয়েছিল। এছাড়া প্রতিবেশী ইরাকের নাজাফ ও কারবালাতেও কফিন নেওয়া হয়, যেখানে লাখো মানুষ তাকে অশ্রুসিক্ত বিদায় জানান। পুরো এই প্রক্রিয়ায় বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই দীর্ঘ দাফন প্রক্রিয়ায় কয়েক কোটি মানুষ সরাসরি অংশ নিয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের এক হামলায় ৮৬ বছর বয়সি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তার পরিবারের চার সদস্যসহ নিহত হন। আজকের দাফন প্রক্রিয়ায় খামেনির পাশাপাশি তার পরিবারের নিহত সদস্যদেরও পাশাপাশি সমাহিত করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে তার ১৪ মাস বয়সি নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপাইগানি, তার জামাতা, এক মেয়ে এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির স্ত্রী জহরা হাদ্দাদ আদেল।
এই কঠিন সময়ে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা ও খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে এবং তিনি হামলায় আহত হওয়ায় তাকে জনসম্মুখে আনা হয়নি বলে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে। তবে জানাজায় খামেনির অন্য তিন ছেলে উপস্থিত ছিলেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ মোহাম্মদি গোলপাইগানি জানান, খামেনি ব্যক্তিগতভাবে তার নিজ শহরে পরিবারের সদস্যদের পাশে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের অন্যতম প্রধান রূপকার ও পেহলভি রাজবংশের পতনের পর ইরানের সামরিক ও আধা-সামরিক কাঠামো গড়ার প্রধান কারিগর ছিলেন এই নেতা। তার প্রস্থান ইরানের রাজনীতিতে এক বড় শূন্যতা তৈরি করল, যা আজ মাশহাদের রাজপথে আসা জনতার আর্তনাদেই ফুটে উঠল।
2.png)