সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

  বানিজ্য বানিজ্য

বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস

অর্থনৈতিক সংস্কারের ইতিবাচক প্রভাবে চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৪.৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছেন এইচএসবিসির অর্থনীতিবিদ। একই সঙ্গে রপ্তানি বহুমুখীকরণে জোর দিয়েছে সরকার।

বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস
ছবি -সংগৃহীত

বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমশ পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং বছরের দ্বিতীয়ার্ধে তৈরি পোশাক রপ্তানি ঘুরে দাঁড়ানোর উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্যাংক এইচএসবিসির এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রেডেরিক নিউম্যান এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তেলের দাম হ্রাস, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কমে আসা এবং বিশ্বজুড়ে প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী হওয়ার ইতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর পড়বে বলে তিনি মনে করেন।

সম্প্রতি ঢাকায় ‘এইচএসবিসি ইকোনমিক আউটলুক ২০২৬: দ্য বাংলাদেশ পারস্পেকটিভ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ফ্রেডেরিক নিউম্যানের মতে, বাংলাদেশে চলমান অর্থনৈতিক সংস্কারগুলো দেশীয় বিনিয়োগ ও ভোগ ব্যয়কে উৎসাহিত করছে, যা চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধিকে ৪ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত করতে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ‘আস্ক দ্য মিনিস্টার’ শীর্ষক আলোচনা পর্বে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করাই সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।

রপ্তানি বহুমুখীকরণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কেবল পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন নতুন পণ্য ও বাজারের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগকে ত্বরান্বিত করাই এর মূল চাবিকাঠি।

এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার পরবর্তী ধাপ হবে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। তারল্য সংকোচন ও বৈশ্বিক ব্যয় বৃদ্ধির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো এবং বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলে উচ্চতর অবস্থান নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি। লক্ষ্য কেবল প্রবৃদ্ধি নয়, বরং একটি অভিযোজনক্ষম ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা।

এইচএসবিসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রিয়া কিনি বলেন, পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাজারের গতিবিধি বুঝে কৌশল গ্রহণ করা ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য জরুরি। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের এই অনিশ্চিত সময়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যাংকটি সব ধরনের সহায়তা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, করপোরেট নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয় : তৈরি পোশাক

কাল মহাকাল

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬


বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমশ পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং বছরের দ্বিতীয়ার্ধে তৈরি পোশাক রপ্তানি ঘুরে দাঁড়ানোর উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্যাংক এইচএসবিসির এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রেডেরিক নিউম্যান এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তেলের দাম হ্রাস, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কমে আসা এবং বিশ্বজুড়ে প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী হওয়ার ইতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর পড়বে বলে তিনি মনে করেন।

সম্প্রতি ঢাকায় ‘এইচএসবিসি ইকোনমিক আউটলুক ২০২৬: দ্য বাংলাদেশ পারস্পেকটিভ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ফ্রেডেরিক নিউম্যানের মতে, বাংলাদেশে চলমান অর্থনৈতিক সংস্কারগুলো দেশীয় বিনিয়োগ ও ভোগ ব্যয়কে উৎসাহিত করছে, যা চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধিকে ৪ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত করতে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ‘আস্ক দ্য মিনিস্টার’ শীর্ষক আলোচনা পর্বে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করাই সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।

রপ্তানি বহুমুখীকরণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কেবল পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন নতুন পণ্য ও বাজারের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগকে ত্বরান্বিত করাই এর মূল চাবিকাঠি।

এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার পরবর্তী ধাপ হবে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। তারল্য সংকোচন ও বৈশ্বিক ব্যয় বৃদ্ধির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো এবং বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলে উচ্চতর অবস্থান নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি। লক্ষ্য কেবল প্রবৃদ্ধি নয়, বরং একটি অভিযোজনক্ষম ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা।

এইচএসবিসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রিয়া কিনি বলেন, পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাজারের গতিবিধি বুঝে কৌশল গ্রহণ করা ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য জরুরি। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের এই অনিশ্চিত সময়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যাংকটি সব ধরনের সহায়তা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, করপোরেট নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত