সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

‘কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি’: কালীঘাটে গর্জে উঠলেন মমতা

নির্বাচনী ফলাফল পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কড়া অবস্থান তৃণমূল নেত্রীর; নিজেকে ‘মুক্ত বিহঙ্গ’ ঘোষণা করে রাজপথে লড়াইয়ের অঙ্গীকার।

‘কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি’: কালীঘাটে গর্জে উঠলেন মমতা
ছবি -সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে পদত্যাগের যাবতীয় জল্পনা এক নিমেষেই উড়িয়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পরাজয় স্বীকার বা ইস্তফা দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তৃণমূল নেত্রীর ভাষায়, "কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি!"

​জল্পনার অবসান ও অনমনীয় অবস্থান নির্বাচনী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের ২৯৩টি আসনের মধ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাধিক্য অর্জন করেছে। বিপরীতে, ক্ষমতাসীন ঘাসফুল শিবির অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে এসেছে ৮০টি আসন। এই প্রতিকূল ফলাফলের পর রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হয়তো নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে পদত্যাগ করতে পারেন। তবে আজ সেই জল্পনাকে নস্যাৎ করে দিয়ে মমতা জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি মাঠ ছাড়ছেন না।

​মুক্ত বিহঙ্গ হিসেবে রাজপথে ফেরার ঘোষণা সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক আবেগপূর্ণ অথচ কঠোর বার্তা প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশাসনিক দায়িত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ থেকে দীর্ঘ সময় অনেক প্রতিকূলতা সহ্য করেছেন তিনি। বর্তমান প্রেক্ষাপটকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে তিনি বলেন, "এত দিন আমি চেয়ারে ছিলাম, অনেক কিছু সহ্য করেছি। কিন্তু এখন আমি মুক্ত বিহঙ্গ, সাধারণ মানুষ। আর কোনো অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করব না।" তৃণমূল নেত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ক্ষমতা থেকে বেরিয়ে তিনি আবারও তাঁর চিরচেনা রাজনৈতিক ক্ষেত্র ‘রাজপথে’ ফিরে যাবেন এবং সর্বাত্মক লড়াই চালিয়ে যাবেন।

​উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এদিন কালীঘাটের এই জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মমতার পাশে ছায়ার মতো দেখা গেছে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এছাড়াও দলীয় সংহতি প্রদর্শনে উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ডেরেক ওব্রায়েন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বর্ষীয়ান ও শীর্ষ সারির নেতৃবৃন্দ। দলীয় সূত্রের খবর, এই ফলাফলকে পরাজয় হিসেবে নয় বরং জনসেবার নতুন এক সুযোগ হিসেবে দেখছে কালীঘাট।

​ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতার এই ‘মুক্ত বিহঙ্গ’ হওয়ার ঘোষণা আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। সংখ্যাতত্ত্বে পিছিয়ে পড়লেও তৃণমূল নেত্রীর লড়াকু মানসিকতা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বিরোধী শিবিরে থাকলেও তিনি এবং তাঁর দল বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নন। রাজপথে থেকে জনমানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাওয়াই হবে তাঁর পরবর্তী রণকৌশল।

বিষয় : পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেন্দু অধিকারী

কাল মহাকাল

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬


‘কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি’: কালীঘাটে গর্জে উঠলেন মমতা

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে পদত্যাগের যাবতীয় জল্পনা এক নিমেষেই উড়িয়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পরাজয় স্বীকার বা ইস্তফা দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তৃণমূল নেত্রীর ভাষায়, "কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি!"

​জল্পনার অবসান ও অনমনীয় অবস্থান নির্বাচনী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের ২৯৩টি আসনের মধ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাধিক্য অর্জন করেছে। বিপরীতে, ক্ষমতাসীন ঘাসফুল শিবির অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে এসেছে ৮০টি আসন। এই প্রতিকূল ফলাফলের পর রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হয়তো নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে পদত্যাগ করতে পারেন। তবে আজ সেই জল্পনাকে নস্যাৎ করে দিয়ে মমতা জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি মাঠ ছাড়ছেন না।

​মুক্ত বিহঙ্গ হিসেবে রাজপথে ফেরার ঘোষণা সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক আবেগপূর্ণ অথচ কঠোর বার্তা প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশাসনিক দায়িত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ থেকে দীর্ঘ সময় অনেক প্রতিকূলতা সহ্য করেছেন তিনি। বর্তমান প্রেক্ষাপটকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে তিনি বলেন, "এত দিন আমি চেয়ারে ছিলাম, অনেক কিছু সহ্য করেছি। কিন্তু এখন আমি মুক্ত বিহঙ্গ, সাধারণ মানুষ। আর কোনো অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করব না।" তৃণমূল নেত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ক্ষমতা থেকে বেরিয়ে তিনি আবারও তাঁর চিরচেনা রাজনৈতিক ক্ষেত্র ‘রাজপথে’ ফিরে যাবেন এবং সর্বাত্মক লড়াই চালিয়ে যাবেন।

​উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এদিন কালীঘাটের এই জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মমতার পাশে ছায়ার মতো দেখা গেছে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এছাড়াও দলীয় সংহতি প্রদর্শনে উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ডেরেক ওব্রায়েন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বর্ষীয়ান ও শীর্ষ সারির নেতৃবৃন্দ। দলীয় সূত্রের খবর, এই ফলাফলকে পরাজয় হিসেবে নয় বরং জনসেবার নতুন এক সুযোগ হিসেবে দেখছে কালীঘাট।

​ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতার এই ‘মুক্ত বিহঙ্গ’ হওয়ার ঘোষণা আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। সংখ্যাতত্ত্বে পিছিয়ে পড়লেও তৃণমূল নেত্রীর লড়াকু মানসিকতা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বিরোধী শিবিরে থাকলেও তিনি এবং তাঁর দল বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নন। রাজপথে থেকে জনমানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাওয়াই হবে তাঁর পরবর্তী রণকৌশল।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত