জাতীয়
২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত বিয়োগান্তক ঘটনার এক যুগ পর সেই রাতের নৃশংসতা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। মঙ্গলবার (৫ মে) ট্রাইব্যুনালের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম জানান যে, শাপলা চত্বরের সেই অভিযানকে কেন্দ্র করে সারাদেশে অন্তত ৫৮ জনকে হত্যার সুনির্দিষ্ট এবং অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত সংস্থার দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর এই নিহতের সংখ্যা ও তাঁদের বিস্তারিত পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
নিহতদের এলাকাভিত্তিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর জানান, এই ট্র্যাজেডিতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে রাজধানী ঢাকায়, যেখানে ৩২ জনের মৃত্যুর প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জনের পরিচয় সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা গেছে। আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, প্রতিটি নিহতের পরিবারের সঙ্গে তদন্ত দল সরাসরি যোগাযোগ করেছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত দালিলিক ও মৌখিক সাক্ষ্য-প্রমাণ বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের হস্তগত রয়েছে। বিশেষ করে হেফাজতে ইসলামের যেসব সদস্য সেই রাতে বা পরবর্তী সংঘাতময় পরিস্থিতিতে প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের জবানবন্দি এই মামলার প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর ৫ মে’র সেই অভিযানকে কেবল বিশৃঙ্খলা দমনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখতে নারাজ। তিনি পুরো ঘটনাপ্রবাহকে একটি ‘সিস্টেমেটিক’ বা পরিকল্পিত এবং ‘ওয়াইড স্প্রেড অ্যাটাক’ বা ব্যাপক আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এটি ছিল মূলত একটি ‘টার্গেটেড কিলিং’ বা লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড। তিনি উল্লেখ করেন যে, হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচি ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগে থেকেই এক ধরণের মারমুখী অবস্থান নেওয়া হয়েছিল। কোনোভাবে তাদের অবস্থান নিতে না দেওয়া এবং প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার যে আগাম ঘোষণা ছিল, তারই চূড়ান্ত ও ভয়াবহ প্রতিফলন ঘটেছে এই অভিযানে।
উল্লেখ্য যে, নাস্তিক্যবাদ বিরোধী ১৩ দফা দাবিতে সেই সময়ে শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়েছিল হেফাজতে ইসলাম। গভীর রাতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে যৌথ বাহিনীর পরিচালিত সেই অভিযান নিয়ে দীর্ঘ এক যুগ ধরে রাজনৈতিক ও মানবাধিকার মহলে নানা বিতর্ক ও ধোঁয়াশা ছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই নতুন তদন্ত প্রতিবেদন সেই বিতর্কিত অধ্যায়কে পুনরায় জনসমক্ষে নিয়ে এল। এক দশকেরও বেশি সময় পর নিহতদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ও পরিচয় প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত বিয়োগান্তক ঘটনার এক যুগ পর সেই রাতের নৃশংসতা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। মঙ্গলবার (৫ মে) ট্রাইব্যুনালের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম জানান যে, শাপলা চত্বরের সেই অভিযানকে কেন্দ্র করে সারাদেশে অন্তত ৫৮ জনকে হত্যার সুনির্দিষ্ট এবং অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত সংস্থার দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর এই নিহতের সংখ্যা ও তাঁদের বিস্তারিত পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
নিহতদের এলাকাভিত্তিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর জানান, এই ট্র্যাজেডিতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে রাজধানী ঢাকায়, যেখানে ৩২ জনের মৃত্যুর প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জনের পরিচয় সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা গেছে। আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, প্রতিটি নিহতের পরিবারের সঙ্গে তদন্ত দল সরাসরি যোগাযোগ করেছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত দালিলিক ও মৌখিক সাক্ষ্য-প্রমাণ বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের হস্তগত রয়েছে। বিশেষ করে হেফাজতে ইসলামের যেসব সদস্য সেই রাতে বা পরবর্তী সংঘাতময় পরিস্থিতিতে প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের জবানবন্দি এই মামলার প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর ৫ মে’র সেই অভিযানকে কেবল বিশৃঙ্খলা দমনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখতে নারাজ। তিনি পুরো ঘটনাপ্রবাহকে একটি ‘সিস্টেমেটিক’ বা পরিকল্পিত এবং ‘ওয়াইড স্প্রেড অ্যাটাক’ বা ব্যাপক আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এটি ছিল মূলত একটি ‘টার্গেটেড কিলিং’ বা লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড। তিনি উল্লেখ করেন যে, হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচি ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগে থেকেই এক ধরণের মারমুখী অবস্থান নেওয়া হয়েছিল। কোনোভাবে তাদের অবস্থান নিতে না দেওয়া এবং প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার যে আগাম ঘোষণা ছিল, তারই চূড়ান্ত ও ভয়াবহ প্রতিফলন ঘটেছে এই অভিযানে।
উল্লেখ্য যে, নাস্তিক্যবাদ বিরোধী ১৩ দফা দাবিতে সেই সময়ে শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়েছিল হেফাজতে ইসলাম। গভীর রাতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে যৌথ বাহিনীর পরিচালিত সেই অভিযান নিয়ে দীর্ঘ এক যুগ ধরে রাজনৈতিক ও মানবাধিকার মহলে নানা বিতর্ক ও ধোঁয়াশা ছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই নতুন তদন্ত প্রতিবেদন সেই বিতর্কিত অধ্যায়কে পুনরায় জনসমক্ষে নিয়ে এল। এক দশকেরও বেশি সময় পর নিহতদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ও পরিচয় প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
