সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

মমতা পদত্যাগ না করলে কেমন সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে

পরাজয় মেনে না নিয়ে পদত্যাগে অনড় বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়; মোদী-শাহের হস্তক্ষেপ ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার বিরুদ্ধে সরব হয়ে রাজভবন না যাওয়ার ঘোষণা তৃণমূল নেত্রীর।

মমতা পদত্যাগ না করলে কেমন সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে
ছবি- প্রতীকী (এ আই জেনারেটেড)

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাছে বিপুল ব্যবধানে পর্যুদস্ত হওয়ার পর এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে রাজ্যের রাজনীতি। প্রথা অনুযায়ী পরাজয়ের পর পদত্যাগ করার কথা থাকলেও, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি পদত্যাগ করবেন না। দলের প্রভাবশালী নেতা ডেরেক ও'ব্রায়েন ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, 

"আমরা পরাজিত হইনি। আমি পদত্যাগ করব না। আমার রাজভবনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।"

​মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নির্বাচনী ফলের পেছনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন। এমনকি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে এই নির্বাচনের ‘খলনায়ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধানে তৃণমূল একটি 'ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন' গঠন করবে বলেও জানান তিনি।

​বিজেপির জয় বনাম তৃণমূলের অনড় অবস্থান

​এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিজেপি। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুড়িতে গেছে মাত্র ৮০টি আসন। জনমতের এই প্রতিফলন সত্ত্বেও মমতার এমন অবস্থান পশ্চিমবঙ্গকে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সাধারণত নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন, যা একটি গণতান্ত্রিক রীতিনীতি।

​রাজ্যপালের ক্ষমতা ও সাংবিধানিক মারপ্যাঁচ

​মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি তার দাবিতে অনড় থাকেন, তবে পরিস্থিতির ফয়সালা হবে ভারতের সংবিধান অনুযায়ী। সংবিধানের ১৬৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে, মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ রাজ্যপালের সন্তুষ্টি অনুযায়ী পদে বহাল থাকেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাজ্যপাল চাইলেই হুট করে কাউকে বরখাস্ত করতে পারেন না; তাকে মন্ত্রিসভার পরামর্শ মেনে চলতে হয়।

​কিন্তু কোনো মুখ্যমন্ত্রী যদি সংখ্যা গরিষ্ঠতা হারানোর পরও পদ ছাড়তে অস্বীকার করেন, তবে রাজ্যপাল বিধানসভায় আস্থা ভোটের ডাক দিতে পারেন। সেখানে ব্যর্থ হলে কিংবা কোনো পক্ষই সরকার গঠনে সক্ষম না হলে, সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী 'রাষ্ট্রপতি শাসন' জারি করার পথ উন্মুক্ত হবে।

​বিলুপ্তির পথে বর্তমান বিধানসভা

​উল্লেখ্য যে, ২০২১ সালের ৪ মে শুরু হওয়া বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ আগামী ৭ মে শেষ হতে যাচ্ছে। সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পর বিদ্যমান বিধানসভা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। অর্থাৎ, আগামী দুদিন পর বর্তমান সরকারের আইনি ভিত্তি শেষ হবে। এরপর নতুন বিধায়কদের শপথ গ্রহণ এবং নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়া বাধ্যতামূলক।

বিষয় : বিধানসভা নির্বাচন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

কাল মহাকাল

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬


মমতা পদত্যাগ না করলে কেমন সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাছে বিপুল ব্যবধানে পর্যুদস্ত হওয়ার পর এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে রাজ্যের রাজনীতি। প্রথা অনুযায়ী পরাজয়ের পর পদত্যাগ করার কথা থাকলেও, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি পদত্যাগ করবেন না। দলের প্রভাবশালী নেতা ডেরেক ও'ব্রায়েন ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, 

"আমরা পরাজিত হইনি। আমি পদত্যাগ করব না। আমার রাজভবনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।"

​মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নির্বাচনী ফলের পেছনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন। এমনকি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে এই নির্বাচনের ‘খলনায়ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধানে তৃণমূল একটি 'ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন' গঠন করবে বলেও জানান তিনি।

​বিজেপির জয় বনাম তৃণমূলের অনড় অবস্থান

​এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিজেপি। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুড়িতে গেছে মাত্র ৮০টি আসন। জনমতের এই প্রতিফলন সত্ত্বেও মমতার এমন অবস্থান পশ্চিমবঙ্গকে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সাধারণত নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন, যা একটি গণতান্ত্রিক রীতিনীতি।

​রাজ্যপালের ক্ষমতা ও সাংবিধানিক মারপ্যাঁচ

​মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি তার দাবিতে অনড় থাকেন, তবে পরিস্থিতির ফয়সালা হবে ভারতের সংবিধান অনুযায়ী। সংবিধানের ১৬৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে, মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ রাজ্যপালের সন্তুষ্টি অনুযায়ী পদে বহাল থাকেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাজ্যপাল চাইলেই হুট করে কাউকে বরখাস্ত করতে পারেন না; তাকে মন্ত্রিসভার পরামর্শ মেনে চলতে হয়।

​কিন্তু কোনো মুখ্যমন্ত্রী যদি সংখ্যা গরিষ্ঠতা হারানোর পরও পদ ছাড়তে অস্বীকার করেন, তবে রাজ্যপাল বিধানসভায় আস্থা ভোটের ডাক দিতে পারেন। সেখানে ব্যর্থ হলে কিংবা কোনো পক্ষই সরকার গঠনে সক্ষম না হলে, সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী 'রাষ্ট্রপতি শাসন' জারি করার পথ উন্মুক্ত হবে।

​বিলুপ্তির পথে বর্তমান বিধানসভা

​উল্লেখ্য যে, ২০২১ সালের ৪ মে শুরু হওয়া বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ আগামী ৭ মে শেষ হতে যাচ্ছে। সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পর বিদ্যমান বিধানসভা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। অর্থাৎ, আগামী দুদিন পর বর্তমান সরকারের আইনি ভিত্তি শেষ হবে। এরপর নতুন বিধায়কদের শপথ গ্রহণ এবং নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়া বাধ্যতামূলক।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত