চিত্র বিচিত্র
পৃথিবীতে বাবা-সন্তানের সম্পর্কের চেয়ে পবিত্র আর কী হতে পারে? কিন্তু চীনের মাত্র ১১ বছর বয়সী এক কিশোর যা করে দেখিয়েছে, তা হার মানাবে যেকোনো রূপকথার গল্পকেও। বাবার জীবন বাঁচাতে নিজের শরীরের ওপর দিয়ে এক অবিশ্বাস্য যুদ্ধ চালিয়েছে ছোট্ট লু জিকুয়ান। ২০১৯ সালের সেই ঘটনা আজও বিশ্বজুড়ে মানুষের চোখে জল এনে দেয়।
লক্ষ্য যখন বাবার জীবন
লুর বাবা এক মরণব্যাধি রোগের সাথে পাঞ্জা লড়ছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন ছাড়া তাকে বাঁচানো অসম্ভব। কিন্তু বাদ সাধল নিয়তি। দাতা হিসেবে লুর বোন ম্যারো ম্যাচ করলেও তার ওজন ছিল মাত্র ৩০ কেজি। চিকিৎসকদের শর্ত ছিল, সফল অস্ত্রোপচারের জন্য দাতার ওজন অন্তত ৪৫ কেজি হওয়া বাধ্যতামূলক।
তিন মাসে ১৮ কেজি ওজন বাড়ানোর লড়াই
বাবার জীবন বাঁচাতে লু এক কঠিন সংকল্প গ্রহণ করল। শুরু হলো তার 'খাওয়ার যুদ্ধ'। দিনে অন্তত পাঁচবার উচ্চ-চর্বিযুক্ত এবং ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া শুরু করে সে। যে বয়সে শিশুরা খেলার মাঠে দৌড়ঝাঁপ করে, সেই বয়সে লু শুধু বাবার কথা ভেবে মুখ বুজে খেয়ে গেছে।
অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে তার প্রচণ্ড শারীরিক অস্বস্তি হতো, শ্বাস নিতে কষ্ট হতো। এমনকি স্কুলের সহপাঠীরা তার হঠাৎ মুটিয়ে যাওয়া নিয়ে বিদ্রূপ করতেও ছাড়েনি। কিন্তু লুর কান ছিল চিকিৎসকের সেই নির্দেশের দিকে, আর চোখ ছিল বাবার অসুস্থ মুখের ওপর। ফলাফল? মাত্র তিন মাসে লুর ওজন ৩০ কেজি থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮ কেজিতে!
সেরা জন্মদিনের উপহার
সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, অস্ত্রোপচারের দিনটি ছিল লুর বাবার জন্মদিন। নিজের শরীর থেকে বোন ম্যারো দিয়ে বাবাকে যেন নতুন এক জীবন উপহার দিল এই ছোট্ট কিশোর। অস্ত্রোপচার সফল হলো, সুস্থ হয়ে উঠলেন তার বাবা।
পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শে লু আবার তার স্বাভাবিক ওজনে ফিরে আসে। তবে তার শরীরে সেই ত্যাগের চিহ্নগুলো রয়ে গেছে ভালোবাসার এক অনন্য স্মারক হিসেবে। চীনের এই ছোট্ট লু বিশ্বকে শিখিয়ে দিয়ে গেছে—ভালোবাসা থাকলে পাহাড় সমান বাধা আর শরীরের কষ্টকেও তুচ্ছ করা যায়। বাবার প্রতি সন্তানের এই অকৃত্রিম প্রতিদানের গল্প আজও অনুপ্রেরণা জোগায় কোটি মানুষকে।

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
পৃথিবীতে বাবা-সন্তানের সম্পর্কের চেয়ে পবিত্র আর কী হতে পারে? কিন্তু চীনের মাত্র ১১ বছর বয়সী এক কিশোর যা করে দেখিয়েছে, তা হার মানাবে যেকোনো রূপকথার গল্পকেও। বাবার জীবন বাঁচাতে নিজের শরীরের ওপর দিয়ে এক অবিশ্বাস্য যুদ্ধ চালিয়েছে ছোট্ট লু জিকুয়ান। ২০১৯ সালের সেই ঘটনা আজও বিশ্বজুড়ে মানুষের চোখে জল এনে দেয়।
লক্ষ্য যখন বাবার জীবন
লুর বাবা এক মরণব্যাধি রোগের সাথে পাঞ্জা লড়ছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন ছাড়া তাকে বাঁচানো অসম্ভব। কিন্তু বাদ সাধল নিয়তি। দাতা হিসেবে লুর বোন ম্যারো ম্যাচ করলেও তার ওজন ছিল মাত্র ৩০ কেজি। চিকিৎসকদের শর্ত ছিল, সফল অস্ত্রোপচারের জন্য দাতার ওজন অন্তত ৪৫ কেজি হওয়া বাধ্যতামূলক।
তিন মাসে ১৮ কেজি ওজন বাড়ানোর লড়াই
বাবার জীবন বাঁচাতে লু এক কঠিন সংকল্প গ্রহণ করল। শুরু হলো তার 'খাওয়ার যুদ্ধ'। দিনে অন্তত পাঁচবার উচ্চ-চর্বিযুক্ত এবং ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া শুরু করে সে। যে বয়সে শিশুরা খেলার মাঠে দৌড়ঝাঁপ করে, সেই বয়সে লু শুধু বাবার কথা ভেবে মুখ বুজে খেয়ে গেছে।
অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে তার প্রচণ্ড শারীরিক অস্বস্তি হতো, শ্বাস নিতে কষ্ট হতো। এমনকি স্কুলের সহপাঠীরা তার হঠাৎ মুটিয়ে যাওয়া নিয়ে বিদ্রূপ করতেও ছাড়েনি। কিন্তু লুর কান ছিল চিকিৎসকের সেই নির্দেশের দিকে, আর চোখ ছিল বাবার অসুস্থ মুখের ওপর। ফলাফল? মাত্র তিন মাসে লুর ওজন ৩০ কেজি থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮ কেজিতে!
সেরা জন্মদিনের উপহার
সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, অস্ত্রোপচারের দিনটি ছিল লুর বাবার জন্মদিন। নিজের শরীর থেকে বোন ম্যারো দিয়ে বাবাকে যেন নতুন এক জীবন উপহার দিল এই ছোট্ট কিশোর। অস্ত্রোপচার সফল হলো, সুস্থ হয়ে উঠলেন তার বাবা।
পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শে লু আবার তার স্বাভাবিক ওজনে ফিরে আসে। তবে তার শরীরে সেই ত্যাগের চিহ্নগুলো রয়ে গেছে ভালোবাসার এক অনন্য স্মারক হিসেবে। চীনের এই ছোট্ট লু বিশ্বকে শিখিয়ে দিয়ে গেছে—ভালোবাসা থাকলে পাহাড় সমান বাধা আর শরীরের কষ্টকেও তুচ্ছ করা যায়। বাবার প্রতি সন্তানের এই অকৃত্রিম প্রতিদানের গল্প আজও অনুপ্রেরণা জোগায় কোটি মানুষকে।
