জাতীয়
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং বহুল আলোচিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে বেইজিং সফরে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে ঢাকা ত্যাগের প্রাক্কালে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দেশের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো উন্মোচন করেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার
সফরের আলোচ্য সূচি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বেইজিংয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। তিনি উল্লেখ করেন, "তিস্তা প্রকল্প আমাদের প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম বড় একটি অঙ্গীকার। এই সফরে দুই দেশের সম্পর্ক গভীর করার পাশাপাশি এই প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে অবশ্যই কথা হবে।" প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফর প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি কোনো তারিখ না জানালেও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সুবিধাজনক সময় ও শিডিউলের সমন্বয় করে দ্রুতই বিস্তারিত পরিকল্পনা জানানো হবে।
ভারত-চীন ভারসাম্য ও বিশেষ প্রতিশ্রুতি
বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, "ভারত ও চীনের মতো বৃহৎ ও বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রতিশ্রুতি রয়েছে।" তাঁর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের স্বার্থে বাংলাদেশ সরকার এই দুই দেশের সাথেই সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে অত্যন্ত সচেতন।
পশ্চিমবঙ্গে পালাবদল ও ‘পুশ-ইন’ ইস্যুতে কঠোর অবস্থান
সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গে সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেশ কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওপার বাংলায় ক্ষমতার রদবদলের ফলে যদি বাংলাদেশে অবৈধভাবে মানুষ ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) কোনো ঘটনা ঘটে, তবে বাংলাদেশ সরকার চুপ থাকবে না। তিনি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় পালাবদলে যদি পুশ ইনের ঘটনা ঘটে, তবে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ।" এই মন্তব্যটি সীমান্তের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকারের অনমনীয় মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। তিনি জানান, বিশ্বের অনেক দেশই এমন চুক্তি করছে এবং বাংলাদেশ এই দৌড়ে অন্যদের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এই আলোচনাকে তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং বহুল আলোচিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে বেইজিং সফরে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে ঢাকা ত্যাগের প্রাক্কালে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দেশের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো উন্মোচন করেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার
সফরের আলোচ্য সূচি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বেইজিংয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। তিনি উল্লেখ করেন, "তিস্তা প্রকল্প আমাদের প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম বড় একটি অঙ্গীকার। এই সফরে দুই দেশের সম্পর্ক গভীর করার পাশাপাশি এই প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে অবশ্যই কথা হবে।" প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফর প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি কোনো তারিখ না জানালেও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সুবিধাজনক সময় ও শিডিউলের সমন্বয় করে দ্রুতই বিস্তারিত পরিকল্পনা জানানো হবে।
ভারত-চীন ভারসাম্য ও বিশেষ প্রতিশ্রুতি
বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, "ভারত ও চীনের মতো বৃহৎ ও বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রতিশ্রুতি রয়েছে।" তাঁর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের স্বার্থে বাংলাদেশ সরকার এই দুই দেশের সাথেই সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে অত্যন্ত সচেতন।
পশ্চিমবঙ্গে পালাবদল ও ‘পুশ-ইন’ ইস্যুতে কঠোর অবস্থান
সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গে সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেশ কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওপার বাংলায় ক্ষমতার রদবদলের ফলে যদি বাংলাদেশে অবৈধভাবে মানুষ ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) কোনো ঘটনা ঘটে, তবে বাংলাদেশ সরকার চুপ থাকবে না। তিনি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় পালাবদলে যদি পুশ ইনের ঘটনা ঘটে, তবে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ।" এই মন্তব্যটি সীমান্তের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকারের অনমনীয় মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। তিনি জানান, বিশ্বের অনেক দেশই এমন চুক্তি করছে এবং বাংলাদেশ এই দৌড়ে অন্যদের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এই আলোচনাকে তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
