আন্তর্জাতিক
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক বদল ঘটিয়ে ২০৭টি আসনে জিতে একক সংখ্যাধিক্য নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। গত ১৫ বছরের চেনা সমীকরণ পাল্টে দিয়ে গেরুয়া শিবির এখন নবান্ন দখলের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। তবে জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে এখন রাজ্যজুড়ে একটাই বড় প্রশ্ন—কে হচ্ছেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিচ্ছেন কারা? দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, দলের বিধায়ক দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া তদারকি করবেন খোদ অমিত শাহ। সঙ্গে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। যদিও শাহ-মাঝি জুটি ঠিক কবে কলকাতায় পা রাখছেন, তা নিয়ে এখনো কিছুটা গোপনীয়তা বজায় রেখেছে রাজ্য বিজেপি।
দলের অন্দরমহলের খবর অনুযায়ী, আজ বুধবার বা আগামীকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যেই কলকাতার কোনো এক অভিজাত হোটেলে নবনির্বাচিত ২০৭ জন বিধায়কের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা। বিজেপির দীর্ঘদিনের রীতি মেনে জয়ী প্রার্থীদের মতামতের ভিত্তিতেই ঠিক করা হবে পরিষদীয় দলনেতার নাম, যার মাথায় উঠবে মুখ্যমন্ত্রীর মুকুট। এখন পর্যন্ত এই দৌড়ে বেশ কয়েকজনের নাম হাওয়ায় ভাসলেও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহলের মতে, পাল্লা সবচেয়ে ভারী শুভেন্দু অধিকারীর। এর পেছনে জোরালো যুক্তিও উঠে আসছে। টানা দু’বার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর কৃতিত্ব (২০২১-এ নন্দীগ্রাম ও ২০২৬-এ ভবানীপুর) তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তা ছাড়া, বিধানসভায় এতদিন বিরোধী দলনেতা হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে শাসকদলের ট্রেজারি বেঞ্চ সামলানোর দৌড়ে এগিয়ে রাখছে।
তবে শুভেন্দু একা নন, তালিকায় রয়েছেন বিজেপির বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। তার মার্জিত আচরণ এবং দলের ভেতরে-বাইরে প্রশ্নাতীত গ্রহণযোগ্যতা তাকে শক্তিশালী দাবিদার করে তুলেছে। যদিও তিনি এবার নির্বাচনে লড়েননি, তাই মুখ্যমন্ত্রী হলে তাকে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে কোনো একটি আসন থেকে জিতে আসতে হবে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের অভাবনীয় সাফল্যে (৫৪টির মধ্যে ৪০টি আসন লাভ) বড় ভূমিকা রাখা সুকান্ত মজুমদারের নামও বেশ জোরেশোরেই উচ্চারিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি আরএসএস ঘনিষ্ঠ তাত্ত্বিক নেতা স্বপন দাশগুপ্ত কিংবা দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের পছন্দের তরুণ মুখ সৌরভ শিকদারের নাম নিয়েও জল্পনা কম নয়। তবে অমিত শাহরা যে মাঝে মাঝে চমক দিতে পছন্দ করেন, তা মাথায় রেখে অনেকেই বলছেন—তালিকায় না থাকা কোনো নামও শেষ মুহূর্তে সামনে চলে আসতে পারে।
নতুন সরকারের গঠনশৈলীতেও আসছে বড় চমক। গত দেড় দশকে বাংলার মানুষ কোনো উপমুখ্যমন্ত্রী দেখেনি, তবে বিজেপি সূত্রে আভাস মিলেছে এবার এক বা একাধিক উপমুখ্যমন্ত্রী পদ তৈরি করা হতে পারে। মঙ্গলবার শমীক, সুকান্ত, শুভেন্দু ও দিলীপ ঘোষের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে নতুন মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সদস্যদের একটি প্রাথমিক তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে। জল্পনা অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার সম্ভাব্যদের তালিকায় তরুণজ্যোতি তিওয়ারি, অগ্নিমিত্রা পাল, রূপা গাঙ্গুলি, রুদ্রনীল ঘোষ এবং অশোক লাহিড়ীর মতো একঝাঁক অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখ থাকতে পারেন। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৯ মে শনিবার সকাল ১০টায় কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকার শপথ নেবে।
বিষয় : বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ মুখ্যমন্ত্রী

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক বদল ঘটিয়ে ২০৭টি আসনে জিতে একক সংখ্যাধিক্য নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। গত ১৫ বছরের চেনা সমীকরণ পাল্টে দিয়ে গেরুয়া শিবির এখন নবান্ন দখলের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। তবে জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে এখন রাজ্যজুড়ে একটাই বড় প্রশ্ন—কে হচ্ছেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিচ্ছেন কারা? দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, দলের বিধায়ক দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া তদারকি করবেন খোদ অমিত শাহ। সঙ্গে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। যদিও শাহ-মাঝি জুটি ঠিক কবে কলকাতায় পা রাখছেন, তা নিয়ে এখনো কিছুটা গোপনীয়তা বজায় রেখেছে রাজ্য বিজেপি।
দলের অন্দরমহলের খবর অনুযায়ী, আজ বুধবার বা আগামীকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যেই কলকাতার কোনো এক অভিজাত হোটেলে নবনির্বাচিত ২০৭ জন বিধায়কের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা। বিজেপির দীর্ঘদিনের রীতি মেনে জয়ী প্রার্থীদের মতামতের ভিত্তিতেই ঠিক করা হবে পরিষদীয় দলনেতার নাম, যার মাথায় উঠবে মুখ্যমন্ত্রীর মুকুট। এখন পর্যন্ত এই দৌড়ে বেশ কয়েকজনের নাম হাওয়ায় ভাসলেও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহলের মতে, পাল্লা সবচেয়ে ভারী শুভেন্দু অধিকারীর। এর পেছনে জোরালো যুক্তিও উঠে আসছে। টানা দু’বার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর কৃতিত্ব (২০২১-এ নন্দীগ্রাম ও ২০২৬-এ ভবানীপুর) তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তা ছাড়া, বিধানসভায় এতদিন বিরোধী দলনেতা হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে শাসকদলের ট্রেজারি বেঞ্চ সামলানোর দৌড়ে এগিয়ে রাখছে।
তবে শুভেন্দু একা নন, তালিকায় রয়েছেন বিজেপির বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। তার মার্জিত আচরণ এবং দলের ভেতরে-বাইরে প্রশ্নাতীত গ্রহণযোগ্যতা তাকে শক্তিশালী দাবিদার করে তুলেছে। যদিও তিনি এবার নির্বাচনে লড়েননি, তাই মুখ্যমন্ত্রী হলে তাকে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে কোনো একটি আসন থেকে জিতে আসতে হবে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের অভাবনীয় সাফল্যে (৫৪টির মধ্যে ৪০টি আসন লাভ) বড় ভূমিকা রাখা সুকান্ত মজুমদারের নামও বেশ জোরেশোরেই উচ্চারিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি আরএসএস ঘনিষ্ঠ তাত্ত্বিক নেতা স্বপন দাশগুপ্ত কিংবা দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের পছন্দের তরুণ মুখ সৌরভ শিকদারের নাম নিয়েও জল্পনা কম নয়। তবে অমিত শাহরা যে মাঝে মাঝে চমক দিতে পছন্দ করেন, তা মাথায় রেখে অনেকেই বলছেন—তালিকায় না থাকা কোনো নামও শেষ মুহূর্তে সামনে চলে আসতে পারে।
নতুন সরকারের গঠনশৈলীতেও আসছে বড় চমক। গত দেড় দশকে বাংলার মানুষ কোনো উপমুখ্যমন্ত্রী দেখেনি, তবে বিজেপি সূত্রে আভাস মিলেছে এবার এক বা একাধিক উপমুখ্যমন্ত্রী পদ তৈরি করা হতে পারে। মঙ্গলবার শমীক, সুকান্ত, শুভেন্দু ও দিলীপ ঘোষের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে নতুন মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সদস্যদের একটি প্রাথমিক তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে। জল্পনা অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার সম্ভাব্যদের তালিকায় তরুণজ্যোতি তিওয়ারি, অগ্নিমিত্রা পাল, রূপা গাঙ্গুলি, রুদ্রনীল ঘোষ এবং অশোক লাহিড়ীর মতো একঝাঁক অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখ থাকতে পারেন। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৯ মে শনিবার সকাল ১০টায় কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকার শপথ নেবে।
