সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস: ইউরেনিয়ামের বিনিময়ে ডলারে সমঝোতা

তেহরানের পারমাণবিক মজুত আর ওয়াশিংটনের জব্দ করা অর্থ নিয়ে চূড়ান্ত দর-কষাকষি; মধ্যস্থতায় পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিসর।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস: ইউরেনিয়ামের বিনিময়ে ডলারে সমঝোতা
ছবি- প্রতীকী (এ আই জেনারেটেড)

দীর্ঘদিন ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী সংঘাত কি তবে শেষের পথে? অন্তত পর্দার আড়ালের খবরগুলো সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। অত্যন্ত গোপনীয় কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এখন একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর শেষ ধাপে রয়েছে বলে উঠে এসেছে। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের বিশাল মজুত। নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, তেহরান তাদের ইউরেনিয়ামের দাবি ত্যাগ করলে বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের জব্দ করা অন্তত দুই হাজার কোটি ডলার ফেরত দিয়ে দিতে পারে। সব ঠিক থাকলে, এই ‘গিভ অ্যান্ড টেক’ চুক্তির মাধ্যমেই হয়তো যুদ্ধের দামামা চিরতরে থামতে চলেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধের ভয়াবহতা থামিয়ে এপ্রিলে একটি সাময়িক বিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে চলতি সপ্তাহে আলোচনার টেবিলে যে ধরনের অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাকে এক কথায় বড় সাফল্যই বলা চলে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রতিনিধি দলগুলো খুব দ্রুতই দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসতে পারেন। সূত্র বলছে, আগামী রোববার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে হতে পারে এই ভাগ্যনির্ধারণী বৈঠক। মজার ব্যাপার হলো, এবারের শান্তি প্রক্রিয়ায় মিসর আর তুরস্কের পাশাপাশি আয়োজক হিসেবে পাকিস্তান বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। গত ১১ এপ্রিলও এই ইসলামাবাদেই দুই দেশের মধ্যে প্রথম দফার আলাপচারিতা হয়েছিল।

পুরো আলোচনার জটিলতা আসলে ইউরেনিয়ামের পরিমাণ আর ডলারের অঙ্ক নিয়ে। ওয়াশিংটন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মাটির নিচে রাখা প্রায় দুই হাজার কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে দিতে হবে। বিশেষ করে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪৫০ কেজি ইউরেনিয়াম নিয়ে তাদের উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া ইরানের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এই মুহূর্তে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থের খুব প্রয়োজন। শুরুতে মাত্র ৬০০ কোটি ডলার ছাড়ের প্রস্তাব থাকলেও এখন তা দুই হাজার কোটি ডলারে এসে ঠেকেছে। যদিও ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন—

কোনো অর্থ লেনদেন হবে না, তবুও পর্দার আড়ালে আলোচনা বেশ জোরেশোরেই এগোচ্ছে। ট্রাম্প

তবে সবকিছু এত সহজ নয়। ইরানের পক্ষ থেকে এখনো কিছু শর্ত রয়ে গেছে; তারা চায় মুক্তবাজারে তেল বিক্রি করতে এবং পারমাণবিক গবেষণার সুযোগ রাখতে। যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল সব উপাদান নিজ দেশে নিয়ে যেতে, কিন্তু ইরান তা নিজ দেশে রেখেই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সামনে মান কমিয়ে ফেলার প্রস্তাব দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি আলোচনার বিষয়বস্তু গোপন রাখতে চাইলেও সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, ট্রাম্প সরাসরি ইরানিদের সঙ্গে কথা বলছেন। সব মিলিয়ে শান্তির এই খসড়া যদি সত্যিই বাস্তবায়িত হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে তা এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। না হলে আবারও যুদ্ধের শঙ্কা তো উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। 

বিষয় : ইউরেনিয়াম ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র ডলার

কাল মহাকাল

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬


মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস: ইউরেনিয়ামের বিনিময়ে ডলারে সমঝোতা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিন ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী সংঘাত কি তবে শেষের পথে? অন্তত পর্দার আড়ালের খবরগুলো সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। অত্যন্ত গোপনীয় কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এখন একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর শেষ ধাপে রয়েছে বলে উঠে এসেছে। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের বিশাল মজুত। নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, তেহরান তাদের ইউরেনিয়ামের দাবি ত্যাগ করলে বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের জব্দ করা অন্তত দুই হাজার কোটি ডলার ফেরত দিয়ে দিতে পারে। সব ঠিক থাকলে, এই ‘গিভ অ্যান্ড টেক’ চুক্তির মাধ্যমেই হয়তো যুদ্ধের দামামা চিরতরে থামতে চলেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধের ভয়াবহতা থামিয়ে এপ্রিলে একটি সাময়িক বিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে চলতি সপ্তাহে আলোচনার টেবিলে যে ধরনের অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাকে এক কথায় বড় সাফল্যই বলা চলে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রতিনিধি দলগুলো খুব দ্রুতই দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসতে পারেন। সূত্র বলছে, আগামী রোববার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে হতে পারে এই ভাগ্যনির্ধারণী বৈঠক। মজার ব্যাপার হলো, এবারের শান্তি প্রক্রিয়ায় মিসর আর তুরস্কের পাশাপাশি আয়োজক হিসেবে পাকিস্তান বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। গত ১১ এপ্রিলও এই ইসলামাবাদেই দুই দেশের মধ্যে প্রথম দফার আলাপচারিতা হয়েছিল।

পুরো আলোচনার জটিলতা আসলে ইউরেনিয়ামের পরিমাণ আর ডলারের অঙ্ক নিয়ে। ওয়াশিংটন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মাটির নিচে রাখা প্রায় দুই হাজার কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে দিতে হবে। বিশেষ করে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪৫০ কেজি ইউরেনিয়াম নিয়ে তাদের উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া ইরানের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এই মুহূর্তে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থের খুব প্রয়োজন। শুরুতে মাত্র ৬০০ কোটি ডলার ছাড়ের প্রস্তাব থাকলেও এখন তা দুই হাজার কোটি ডলারে এসে ঠেকেছে। যদিও ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন—

কোনো অর্থ লেনদেন হবে না, তবুও পর্দার আড়ালে আলোচনা বেশ জোরেশোরেই এগোচ্ছে। ট্রাম্প

তবে সবকিছু এত সহজ নয়। ইরানের পক্ষ থেকে এখনো কিছু শর্ত রয়ে গেছে; তারা চায় মুক্তবাজারে তেল বিক্রি করতে এবং পারমাণবিক গবেষণার সুযোগ রাখতে। যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল সব উপাদান নিজ দেশে নিয়ে যেতে, কিন্তু ইরান তা নিজ দেশে রেখেই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সামনে মান কমিয়ে ফেলার প্রস্তাব দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি আলোচনার বিষয়বস্তু গোপন রাখতে চাইলেও সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, ট্রাম্প সরাসরি ইরানিদের সঙ্গে কথা বলছেন। সব মিলিয়ে শান্তির এই খসড়া যদি সত্যিই বাস্তবায়িত হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে তা এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। না হলে আবারও যুদ্ধের শঙ্কা তো উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। 


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত