আন্তর্জাতিক
দীর্ঘ উত্তেজনা আর সংঘাতের পথ পেরিয়ে অবশেষে ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান ‘এপিক ফিউরি’র সমাপ্তি টেনেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রায় এক মাস পর তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রুবিওর ভাষায়, ওয়াশিংটন এখন সেই সংঘাতের ধাপ থেকে বেরিয়ে এসেছে এবং এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যেই কংগ্রেসকে বিস্তারিত অবহিত করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণার পেছনে আইনি মারপ্যাঁচও কাজ করেছে। হোয়াইট হাউস আইনপ্রণেতাদের জানিয়ে দিয়েছে যে, যুদ্ধবিরতির কারণে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। এর ফলে দীর্ঘ সময় কোনো সংঘাতে জড়িয়ে থাকার জন্য কংগ্রেসের যে বিশেষ অনুমোদন নেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকে, তা সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে অভিযান শেষ হলেও সুর নরম করেননি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মার্কিন জাহাজে কোনো ধরনের উসকানি বা হামলা হলে বড় ধরনের প্রতিশোধ নিতে দ্বিধা করবে না তার দেশ। এমনকি হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজ উদ্ধারে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে নতুন এক অভিযানের ঘোষণা দিলেও মঙ্গলবার তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রুবিও বলেন, এখনকার অবস্থানটি মূলত প্রতিরক্ষামূলক, কোনোভাবেই আক্রমণাত্মক নয়। তার মতে, নীতিটি খুব সাধারণ—তারা আগে গুলি না চালালে যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা গুলি ছুড়বে না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ পর্যায় এবং অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও দেশটির শাসনব্যবস্থার পতন ঘটেনি। তার পাল্টা জবাবে ইরানও ড্রোণ ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল অঞ্চলজুড়ে। যদিও গত ৮ এপ্রিল ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন, কিন্তু আলোচনার টেবিলে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি না আসায় এক ধরনের অচলাবস্থা বিরাজ করছিল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, তারা যুদ্ধের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছেন এবং ইরানের অর্থনীতি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তবে দিনশেষে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো তেহরানের সঙ্গে একটি সম্মানজনক সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা জিইয়ে রেখেছে।

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
দীর্ঘ উত্তেজনা আর সংঘাতের পথ পেরিয়ে অবশেষে ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান ‘এপিক ফিউরি’র সমাপ্তি টেনেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রায় এক মাস পর তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রুবিওর ভাষায়, ওয়াশিংটন এখন সেই সংঘাতের ধাপ থেকে বেরিয়ে এসেছে এবং এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যেই কংগ্রেসকে বিস্তারিত অবহিত করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণার পেছনে আইনি মারপ্যাঁচও কাজ করেছে। হোয়াইট হাউস আইনপ্রণেতাদের জানিয়ে দিয়েছে যে, যুদ্ধবিরতির কারণে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। এর ফলে দীর্ঘ সময় কোনো সংঘাতে জড়িয়ে থাকার জন্য কংগ্রেসের যে বিশেষ অনুমোদন নেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকে, তা সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে অভিযান শেষ হলেও সুর নরম করেননি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মার্কিন জাহাজে কোনো ধরনের উসকানি বা হামলা হলে বড় ধরনের প্রতিশোধ নিতে দ্বিধা করবে না তার দেশ। এমনকি হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজ উদ্ধারে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে নতুন এক অভিযানের ঘোষণা দিলেও মঙ্গলবার তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রুবিও বলেন, এখনকার অবস্থানটি মূলত প্রতিরক্ষামূলক, কোনোভাবেই আক্রমণাত্মক নয়। তার মতে, নীতিটি খুব সাধারণ—তারা আগে গুলি না চালালে যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা গুলি ছুড়বে না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ পর্যায় এবং অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও দেশটির শাসনব্যবস্থার পতন ঘটেনি। তার পাল্টা জবাবে ইরানও ড্রোণ ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল অঞ্চলজুড়ে। যদিও গত ৮ এপ্রিল ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন, কিন্তু আলোচনার টেবিলে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি না আসায় এক ধরনের অচলাবস্থা বিরাজ করছিল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, তারা যুদ্ধের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছেন এবং ইরানের অর্থনীতি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তবে দিনশেষে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো তেহরানের সঙ্গে একটি সম্মানজনক সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা জিইয়ে রেখেছে।
