আইন-কানুন
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে আজ দুপুরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বিদেশে যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে আটকে দেওয়ার পর সিআইডি তাঁকে হেফাজতে নেয়। সালমান শাহ হত্যা মামলায় তাঁর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল।
গ্রেপ্তারের পর বিকেলে ডনকে আদালতে হাজির করে কারাগারে রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান। আবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে ডনসহ অন্য আসামি ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত এখনো চলমান। দীর্ঘদিন পলাতক থাকা ডনকে জামিন দেওয়া হলে তিনি আবারও আত্মগোপনে যেতে পারেন এবং এতে তদন্ত বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে ডনকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়। এ সময় তাঁকে কিছুটা রাগান্বিত অবস্থায় দেখা যায়। পাঁচ মিনিট পর বিচারক এজলাসে এসে আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী আছেন কি না জানতে চান। তবে শুনানিতে ডনের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন পিপি ওমর ফারুক ফারুকী। তিনি মামলাটিকে গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ডন এ মামলার ৪ নম্বর আসামি। তাঁর দাবি, ডন আজ দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং ইমিগ্রেশন থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
শুনানিতে পিপি সালমান শাহর মৃত্যুর সময়কার ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঘটনার দিন সালমান শাহর পরিবারের সদস্যরা ইস্কাটনের বাসায় তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে রাতে প্রোডাকশন ম্যানেজারের কাছ থেকে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বাসায় গিয়ে সালমান শাহকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, মামলার তদন্তে সালমান শাহর ছোট ভাইকে অপহরণের চেষ্টার বিষয়টিও সামনে এসেছে। এ ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা হয়েছিল। সেই মামলায় রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদের দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সালমান শাহ হত্যার বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে বলে আদালতে দাবি করেন পিপি।
পিপির বক্তব্য অনুযায়ী, ফরহাদের স্বীকারোক্তিতে ডনের সঙ্গে সামিরা হকের কথিত সম্পর্কের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ডন, ফারুক ও রেজভি ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে সালমান শাহকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। প্রথমে তাঁকে অচেতন করার পর আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে জানায়।
তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে বিচারাধীন এবং তদন্তের মাধ্যমে সেগুলোর সত্যতা যাচাই হওয়ার কথা। আদালত শুনানি শেষে ডনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তাঁর মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা ও বিতর্ক চলে আসছিল। প্রায় তিন দশক পর গত বছর আদালতের নির্দেশে এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়।
সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই আলমগীর কুমকুম গত বছরের অক্টোবরে রমনা থানায় মামলাটি করেন। এতে সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন সামিরার মা লতিফা হক, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
বিষয় : গ্রেফতার সালমান শাহ ডন
2.png)
রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে আজ দুপুরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বিদেশে যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে আটকে দেওয়ার পর সিআইডি তাঁকে হেফাজতে নেয়। সালমান শাহ হত্যা মামলায় তাঁর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল।
গ্রেপ্তারের পর বিকেলে ডনকে আদালতে হাজির করে কারাগারে রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান। আবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে ডনসহ অন্য আসামি ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত এখনো চলমান। দীর্ঘদিন পলাতক থাকা ডনকে জামিন দেওয়া হলে তিনি আবারও আত্মগোপনে যেতে পারেন এবং এতে তদন্ত বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে ডনকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়। এ সময় তাঁকে কিছুটা রাগান্বিত অবস্থায় দেখা যায়। পাঁচ মিনিট পর বিচারক এজলাসে এসে আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী আছেন কি না জানতে চান। তবে শুনানিতে ডনের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন পিপি ওমর ফারুক ফারুকী। তিনি মামলাটিকে গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ডন এ মামলার ৪ নম্বর আসামি। তাঁর দাবি, ডন আজ দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং ইমিগ্রেশন থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
শুনানিতে পিপি সালমান শাহর মৃত্যুর সময়কার ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঘটনার দিন সালমান শাহর পরিবারের সদস্যরা ইস্কাটনের বাসায় তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে রাতে প্রোডাকশন ম্যানেজারের কাছ থেকে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বাসায় গিয়ে সালমান শাহকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, মামলার তদন্তে সালমান শাহর ছোট ভাইকে অপহরণের চেষ্টার বিষয়টিও সামনে এসেছে। এ ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা হয়েছিল। সেই মামলায় রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদের দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সালমান শাহ হত্যার বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে বলে আদালতে দাবি করেন পিপি।
পিপির বক্তব্য অনুযায়ী, ফরহাদের স্বীকারোক্তিতে ডনের সঙ্গে সামিরা হকের কথিত সম্পর্কের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ডন, ফারুক ও রেজভি ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে সালমান শাহকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। প্রথমে তাঁকে অচেতন করার পর আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে জানায়।
তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে বিচারাধীন এবং তদন্তের মাধ্যমে সেগুলোর সত্যতা যাচাই হওয়ার কথা। আদালত শুনানি শেষে ডনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তাঁর মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা ও বিতর্ক চলে আসছিল। প্রায় তিন দশক পর গত বছর আদালতের নির্দেশে এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়।
সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই আলমগীর কুমকুম গত বছরের অক্টোবরে রমনা থানায় মামলাটি করেন। এতে সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন সামিরার মা লতিফা হক, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
2.png)