জাতীয়
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বহুল আলোচিত মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও বাড়ানো হয়েছে। এবার নিয়ে ৯৭তমবারের মতো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ পেছাল। ফলে প্রায় এক দশক আগে সংঘটিত দেশের অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্ত শেষ হওয়ার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো।
আজ রোববার মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত দিন ছিল। কিন্তু তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে পারেনি। পরে আদালত শুনানি শেষে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে সাইবার হামলার মাধ্যমে ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়। হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট (SWIFT) ব্যবস্থার মাধ্যমে একাধিক ভুয়া অর্থ স্থানান্তর নির্দেশ পাঠিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেয়।
চুরি হওয়া অর্থের একটি বড় অংশ ফিলিপাইনের ক্যাসিনো ব্যবস্থার মাধ্যমে পাচার করা হয়। পরে বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থের একটি অংশ উদ্ধার হলেও পুরো অর্থ এখনো ফেরত পাওয়া যায়নি।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, শুধু বিদেশি হ্যাকারদের মাধ্যমে এই ঘটনা ঘটেনি। দেশের ভেতরের একটি চক্রও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করে থাকতে পারে। ফলে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কারা এই সাইবার হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতর থেকে কেউ তথ্য বা সহযোগিতা দিয়েছিল কি না এবং চুরি করা অর্থের প্রকৃত সুবিধাভোগী কারা।
ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর, ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের তৎকালীন উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা মতিঝিল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন।
পরদিন, ১৬ মার্চ আদালত মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে সংস্থাটি তদন্ত চালিয়ে আসছে।
কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বারবার পিছিয়ে যাওয়ায় মামলাটি নিয়ে প্রশ্নও বাড়ছে। বিশেষ করে ৯৭ বার সময় বাড়ানোর ঘটনা তদন্তের গতি, জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি শুধু একটি অর্থ চুরির ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশের আর্থিক নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার বড় ধরনের দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছিল।
এ ঘটনার পর আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশ্ন ওঠে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে। একই সঙ্গে সুইফট ব্যবস্থার নিরাপত্তা, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রবেশাধিকার এবং বড় অঙ্কের অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়াও আলোচনায় আসে।
তবে ঘটনার প্রায় এক দশক পরও যদি তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল না হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এত দীর্ঘ সময়েও তদন্ত শেষ না হওয়ার মূল কারণ কী?
আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর নতুন করে প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এবার সিআইডি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারে কি না, নাকি বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত আর্থিক অপরাধের তদন্ত আরও এক দফা পিছিয়ে যায়।
বিষয় : বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ চুরি
2.png)
রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বহুল আলোচিত মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও বাড়ানো হয়েছে। এবার নিয়ে ৯৭তমবারের মতো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ পেছাল। ফলে প্রায় এক দশক আগে সংঘটিত দেশের অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্ত শেষ হওয়ার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো।
আজ রোববার মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত দিন ছিল। কিন্তু তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে পারেনি। পরে আদালত শুনানি শেষে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে সাইবার হামলার মাধ্যমে ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়। হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট (SWIFT) ব্যবস্থার মাধ্যমে একাধিক ভুয়া অর্থ স্থানান্তর নির্দেশ পাঠিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেয়।
চুরি হওয়া অর্থের একটি বড় অংশ ফিলিপাইনের ক্যাসিনো ব্যবস্থার মাধ্যমে পাচার করা হয়। পরে বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থের একটি অংশ উদ্ধার হলেও পুরো অর্থ এখনো ফেরত পাওয়া যায়নি।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, শুধু বিদেশি হ্যাকারদের মাধ্যমে এই ঘটনা ঘটেনি। দেশের ভেতরের একটি চক্রও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করে থাকতে পারে। ফলে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কারা এই সাইবার হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতর থেকে কেউ তথ্য বা সহযোগিতা দিয়েছিল কি না এবং চুরি করা অর্থের প্রকৃত সুবিধাভোগী কারা।
ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর, ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের তৎকালীন উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা মতিঝিল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন।
পরদিন, ১৬ মার্চ আদালত মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে সংস্থাটি তদন্ত চালিয়ে আসছে।
কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বারবার পিছিয়ে যাওয়ায় মামলাটি নিয়ে প্রশ্নও বাড়ছে। বিশেষ করে ৯৭ বার সময় বাড়ানোর ঘটনা তদন্তের গতি, জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি শুধু একটি অর্থ চুরির ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশের আর্থিক নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার বড় ধরনের দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছিল।
এ ঘটনার পর আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশ্ন ওঠে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে। একই সঙ্গে সুইফট ব্যবস্থার নিরাপত্তা, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রবেশাধিকার এবং বড় অঙ্কের অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়াও আলোচনায় আসে।
তবে ঘটনার প্রায় এক দশক পরও যদি তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল না হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এত দীর্ঘ সময়েও তদন্ত শেষ না হওয়ার মূল কারণ কী?
আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর নতুন করে প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এবার সিআইডি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারে কি না, নাকি বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত আর্থিক অপরাধের তদন্ত আরও এক দফা পিছিয়ে যায়।
2.png)